কেউ বুকভরা ব্যথা দিয়েছে? চুপ হয়ে যান। কেউ যন্ত্রণা দিলেও চুপ হয়ে যান।
আপনি মনপ্রাণ উজাড় করে ভালোবাসার পরেও কেউ আপনার প্রাপ্যটুকু দেয়নি,
আয়োজন করে অপমান করেছে কিংবা ঠকিয়ে গেছে- চুপ হয়ে যান। অপবাদ দিয়ে
দিয়ে আপনাকে ভেঙে দিয়েছে কিংবা বিশ্বাসঘাতকা করেছে- চুপ হয়ে যান। কেউ
চোখের জলের কারণ হলে মুখে চুপ হয়ে কানে শুনে শুনে চোখকে গাল প্লাবিত
করতে দিন! আপনার থেকে অল্প দূরেই সুখ দাঁড়িয়ে আছে। হাত বাড়িয়ে বুকের সাথে
মিলিয়ে নিন।
নিজেকে এমনভাবে নিরব করুন, এমনতরো আড়াল করুন এবং এমনভাবে চলুন যাতে
সেই মানুষগুলো আর কখনোই আপনার শব্দ কিংবা ছায়া দেখার সৌভাগ্য না পায়!
মোটকথা, তাদের কাছে মৃত হয়ে যান! তাদের জন্য নিজেকে দুর্লভ করুন।
প্রতিজ্ঞা করুন, আর কখনোই ঘুরে তাকাবেন না। যাদের দ্বারা আপনার ভালো
দিন, ভালো থাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মন খারাপের জোয়ার ওঠে তাদেরকে
জীবনের শাখা-প্রশাখা থেকে ছেঁটে ফেলুন। চিরবিদায়ের ঠিকানায় যাওয়ার আগেও
শক্ত হয়ে ক্ষতিকারকদের আলবিদা বলুন।
আপনার এই প্রতিজ্ঞা থেকে বিচ্যূত হলে আপনার কষ্ট বাড়তেই থাকবে। কেননা
যারা ব্যথা দেয়, বঞ্চিত করে, অপমান করে কিংবা ঠকায় তাদের ওসবেই সুখ,
ওতেই তৃপ্তি। তাদের অভ্যাস বদলে আপনাকে ভালো রাখতে গিয়ে, সুখী করতে
গিয়ে কিংবা মানসিক প্রশান্তি দিতে গিয়ে তারা নিজেরা অসুখী হবে- এমনটা আশা
করাও ঠিক নয় বরং বোকামি হবে। কাজেই আপনার চুপ হয়ে থাকাটা আপনাকে
দমবন্ধ করা আর্তনাদ দিলেও তাদরেকে একদিন না একদিন আফসোস দেবে।
তাদের সেই পরিনামদেখার জন্য নিজেকে একটু শক্ত রাখুন এবং সাহসী হোন।
যেখানে আমার সম্মান নাই, বিশ্বাস রাখার মানুষ নাই এবং প্রশান্তি পাওয়ার
ছায়া নাই সেখানে ঘেঁষলে দুঃখ বাড়বে বৈকি। মন খারাপের অনেকগুলো কারণ ধেয়ে
আসবে। হিউমান সাইকোলজি বলে, আমরা কেবল হারানোর ভয়েই শব্দ দিয়ে
প্রতিবাদ করি। আশা করতে থাকি, এতে অমানুষ মানুষ হবে, পাল্টে যাওয়া প্রিয়
মানুষ আবার প্রিয় হবে। অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ বদলে যাবে। অথচ যে মানুষগুলো
আপনাকে মানুষ হিসেবেই মূল্যায়ণ করেনি, আপনার দমবন্ধ করা আর্তনাদ-
কান্নার কারন হয়েছে বারবার এবং যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতি দিয়েছে- নিশ্চিত
জানবেন, তারা আপনার কেউ নন। তাদেরকে আপনি বুকে পুষে রাখলেও বারবার
ছোঁবল খাবেন। আপনাকে পরাজিত করেই যারা সারাজীবন সুখ খুঁজেছে তাদেরকে
জিতিয়ে দিয়েন না! তাদের সাথে খেলায় অংশগ্রহণ না করলেই তাদের প্রায়শ্চিত্ত
হবে! তাদের উপকার করুন! ভুলের জন্য এখানে কিছু শিক্ষা পেলে ওপারের ভোগ
কিছুটা লাঘব হবে। রব ছাড় দেন তবে ছেড়ে দেন না!
নিজের জন্যই নিজেকে ভালোবাসা জরুরি এবং আপন স্বার্থে বাঁচা দরকার। আপনি
না মানতে চাইলেও একজন সৃষ্টিকর্তা আপনারও আছে! তিনি আপনাকেও তার
পরিকল্পনার বাইরে রাখেননি। কাজেই সকল দুঃখ-কষ্ট, চাওয়া-পাওয়া'র কথা
স্রষ্টাকে বললে তিনি সদয় হবেন এবং সব সমস্যা-যন্ত্রনার অবসান হবে। এই
পৃথিবীতে যা কিছুর আয়োজন সবকিছু আপনাকে ভালো রাখার জন্য! আপনি দুঃখের
সাথে কেন থাকতে ও বাঁচতে চান? জাগুন, আগামীকালের সকাল আপনার হবে।
রাজু আহমেদ, প্রাবন্ধিক।
raju69alive@gmail.com








