হাতে আর মাত্র চার দিন সময় আ
আওয়ামী লীগের জোটের জটিলতা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এক মন্তব্যের কারণে। আওয়ামী লীগের জোটের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন না হলে জোট নয়। জোটের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
একটি জোটের বিপরীতে আরেকটি জোট হয়। সে ক্ষেত্রে জোটের প্রয়োজন না পড়লে কেন জোট করতে যাব?’
শরিকদের বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনা ১৪ দলীয় জোটের চেয়ারম্যান। আমরা শরিকদের বিষয়ে এখনো ঠিক করিনি। কারণ জোটের বিপরীতে জোট হয়। আমাদের প্রতিপক্ষের যদি একটা বড় জোট হয়, সেটার বিপরীতে আমাদেরও জোট হবে। এ ছাড়া আমরা কেন অহেতুক জোট করতে যাব? প্রয়োজন না থাকলে জোট করব না। জোট করব যাদের নিয়ে, মানুষের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হবে।’
ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে জোটের শরিক দলগুলোর একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার কথাই ওবায়দুল কাদের বলছেন কি না, সেটিই জানতে আগ্রহী তাঁরা। তবে এমন চূড়ান্ত পর্যায়ে এমন নির্দেশনা পাওয়া গেলে জোটের বাইরে গিয়েই নির্বাচনে অংশ নেবে শরিক দলগুলো।
২০০৮ সাল থেকেই জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ ও শরিক দলগুলোর সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক জোট ভাঙার প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না, জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করেননি।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের শরিক দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জোট প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের কেন এমন কথা বললেন এটার ব্যাখ্যা উনিই ভালো দিতে পারবেন। আমার সঙ্গে পাঁচ দিন আগেও কথা হয়েছে। তখনো সব কিছু ঠিক ছিল। আওয়ামী লীগ নিজে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার কথা জানিয়েছিল। এখন যদি এই পাঁচ দিনের মধ্যে বড় কোনো সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয়, তাহলে সেটা হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে ১৪ দলীয় শরিক জোটের প্রভাবশালী এই নেতা বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি এটা চূড়ান্ত। আওয়ামী লীগ জোটে না গেলে আমরা জোটের বাইরে নির্বাচন করব। এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শরিকদের সঙ্গে বসার সময় দেননি। হাতে সময় বেশি নেই। হয়তো উনি (শেখ হাসিনা) খুব বেশি ব্যস্ত। কাল (আজ) সকালে মিটিংয়ের পর দেখি আমাদের সময় দেন কি না।’
এদিকে, আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর ধানমণ্ডিতে অবস্থিত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করবে আওয়ামী লীগ। প্রার্থী বাছাইয়ে এলাকায় জনপ্রিয়তাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নৌকার প্রতীক হাতে ভোটে দেখা যাবে অনেক নতুন পরিচিত মুখ। সেই সঙ্গে বর্তমান অনেক সংসদ সদস্যই মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হবেন।






