৪০০ আসনের মধ্যে ৩০০ আসন পাওয়ার যে মন্তব্য এনসিপি নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী দিয়েছেন, তা নিয়ে অনেকে বিদ্রুপ করছেন। প্রশ্ন হলো—কোন যুক্তিতে?
নির্বাচন কি ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে? যদি না হয়ে থাকে, তাহলে আপনি কীভাবে নিশ্চিত হলেন তারা ৩০০ আসন পাবে না?
একই ধরনের বক্তব্য যদি আপনার পছন্দের কোনো রাজনৈতিক নেতা দিতেন, তখন কি এতটা ক্ষোভ দেখাতেন? বরং গদগদ হয়ে ফেসবুকে শেয়ার করতেন, ঢাক-ঢোল পিটিয়ে প্রচার করতেন। তখন কি “গণতন্ত্র” বা “ভোটাধিকার” শব্দগুলো মনে পড়ত?
স্মরণ করিয়ে দিই, কিছুদিন আগেই বিএনপি নেতা ড. মঈন খান বলেছিলেন—‘দেশের মানুষ না খেয়ে থাকতে পারে, কিন্তু দ্রুত নির্বাচন চায়।’ বলুন তো, কোন গণতান্ত্রিক যুক্তিতে এই বক্তব্যকে সমর্থন করা যায়? তখন তো এটিকে “রাজনৈতিক দূরদর্শিতা” বলে বাহবা দিয়েছিলেন!
বাংলাদেশে এমন একটি দলও দেখাতে পারবেন না, যারা বলেনি—‘জনগণ আমাদের চায়’। যদি সত্যিই সব দল জনগণের পছন্দের হয়, তাহলে গত ৫০ বছরে কেবল দুই দলই পালাক্রমে ক্ষমতায় এল কেন? অন্যরা কোথায় হারিয়ে গেল?
“১৮ কোটি মানুষ আমাদের চায়”—এই দাবি যদি অন্য কোনো দল করে, তখন তা কি কোরআন-হাদিসের মত অমোঘ সত্য হয়ে যায়? সেইসব বক্তব্য নিয়ে কি আপনি সমানভাবে প্রতিবাদ করেন? নাকি এনসিপির মতো ছোট দল নিরাপদ টার্গেট হওয়ায় নির্বিঘ্নে ব্যঙ্গ করছেন, কারণ তাদের পক্ষ থেকে কেউ থ্রেট দেবে না?
আপনার এই দ্বৈত মানদণ্ডই (এক দল বললে প্রশংসা, অন্য দল বললে বিদ্রুপ) আসলে অন্ধ দলীয় আনুগত্যের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।
নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী একটি বৈধ রাজনৈতিক দলের নেতা। নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভের প্রত্যাশা করতেই পারেন। যদি বলি, ‘এই দল নিশ্চিতভাবে জিতবে’, তাহলে তো বাকি দলগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণই নিষ্প্রয়োজন হয়ে পড়ে—তাই না?
ভুলে যাবেন না, এ ধরনের দলভিত্তিক বিদ্বেষ ও ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।







