সাদ্দামের দুর্ভাগ্যের জন্য মন খারাপ হয়। ইস! স্ত্রী ও সন্তানের জানাযায় দাঁড়ানো, কবরে নিজ হাতে মাটি দিয়ে শেষ বিদায় দিতে না পারার কষ্ট এই ছেলেটাকেসারাজীবন কষ্টের মধ্যে রাখবে।
সাদ্দামের কষ্টের কথা বলতে বলতেমেয়েটার দুর্দিন এড়িয়ে যাচ্ছি যে! একটা ২২ বছরের মেয়ে যিনি মা- নিজের পুত্রকে নিজ হাতে হত্যা করে তারপর নিজে আত্মহত্যা করেছে- কী দুর্বিষহ সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন- ভাবতে পারছেন? পরিবার এবং আশেপাশের মানুষগুলো কী পরিমান টক্সিক হলে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়- এই বিষয়ে আপনার মধ্যে ভাবনার উদয় হয় না?
স্বামী জেলে। এদেশের হাজারো নারীর স্বামী জেলে আছে। তাদেরও অভাব আছে। সামাজিক চাপ আছে। তন্মধ্যেসাদ্দামের স্ত্রীকেই কেনো আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হলো? এটার তত্ত্ব তালাশ করা দরকার। নিজের সন্তানকে হত্যা করার পরিস্থিতি কখন সৃষ্টি হয়? মেয়েটির নিজের পরিবার, স্বামীর পরিবার কিংবা আত্মীয় স্বজন কেউ কী পাশে ছিল না? মৃত্যুর দিকে তাকে কারা ঠেলে দিয়েছে? কিংবা কেউ কী সেই নারীর মানসিক যন্ত্রণা জানতো না?
স্বামী ছাড়াও কেবল সন্তানকে আগলে রেখে হাজারো মেয়ে সারাজীবন সংগ্রাম করে বেঁচে থাকে। সাদ্দামের স্ত্রীর ক্ষেত্রে আসলে কী ঘটেছিল- সেটা উদঘাটন করে আমলে নেওয়া দরকার। যার স্বামী জেলে তার জন্য পরিবার ছায়া হবে না?
ভুল পথে জীবন উড়িয়ে যাই। সাদ্দামরা যাদের জন্য জীবন যৌবন শেষ করে তারা আসলে ভালো থাকে। মধ্যখান থেকে সাদ্দামদের স্ত্রী ও সন্তানদের খেসারত দিতে হয়। কারো কারো খেসারতে পুরো জীবনটাই শেষ হয়ে যায়। কারো প্রিয়জন এবং পরিবার যদি ছায়া ও সাপোর্টিভ না হয় তবে স্ত্রী কিংবা স্বামী কেউ শান্তিতে বাঁচতে পারে না।
নিরীহ বউটিকেসন্তানসহ কেন আত্মহত্যা করতে হলো সেই রহস্য উদঘাটন হওয়া জরুরি। কারণ সাদ্দাম নাকি সাদ্দামের পরিবার নাকি ভিন্ন কিছু- সেটাও আলোতে থাকুক । বর্তমান সবকিছুর মূল্য নির্ধারণ করতে পারে না। কিছু কিছু ঘটনা ও বাস্তবতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের ওপর ভরসা করতে হয়। আমরা প্রতীক্ষায় করছি……
রাজুআহমেদ, প্রাবন্ধিক।








