নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নে আকস্মিক টর্নেডোর আঘাতে অন্তত পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ভেঙে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ ও ফসলের ক্ষেত। টর্নেডোর তাণ্ডবে আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন গ্রামবাসী।
রোববার (৫ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে ভারী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে হঠাৎ টর্নেডো আঘাত হানে গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। মাত্র দুই থেকে তিন মিনিট স্থায়ী এই টর্নেডোতে মাঝাপাড়া, বানিয়াপাড়া, হাজীপাড়া, উত্তরপাড়া, পোদ্দারপাড়া, জিকরুল মেম্বারের পাড়া, বাবুপাড়া, চেয়ারম্যানের পাড়া, বৈরাগীপাড়া, মুন্সিপাড়া ও কালিরথান গ্রামের ঘরবাড়ি তছনছ হয়ে যায়।
টর্নেডোর আঘাতে গাছপালা উপড়ে কিশোরগঞ্জ-গাড়াগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা চার ঘণ্টা চেষ্টার পর সড়ক থেকে গাছপালা সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘর চাপা পড়ে অন্তত চারটি গরু মারা গেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্যরা জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক এবং অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে।
গাড়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জোনাব আলী জানান, টর্নেডোর আঘাতে ইউনিয়নের ১১টি গ্রাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়েছে, আমন ধানের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে, বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় পুরো ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন লিডার মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, টর্নেডোর কারণে সড়কে পড়ে থাকা গাছপালা সরাতে উদ্ধারকাজ চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রীতম সাহা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।







