ভিডিও চিত্র ডেক্স রির্পোট দিনাজপুর বিরামপুরে পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজির সময় জাহাঙ্গীর আলম (৫০) নামের এক ভূয়া পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজির সময় আটক করেছে বিরামপুর থানা পুলিশ। সোমবার (১৭ জুন ২৪) বিরামপুর রেলস্টেশন থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। কে এই জাহাঙ্গীর আলম তিনি পাশ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিন মাষ্টারের ছেলে। জানা যায়,তিনি দির্ঘদিন যাবত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকুরী করেছিলেন। অবসর নিয়ে বিরামপুর রেলস্টেশনের পশ্চিম পার্শ্বে একটি বাড়িতে একাই বসবাস করত। জানা যায়,সে পরিবার থেকে বিছিন্ন হয়ে বেপরোয়া ভাবে বিরামপুর রেলস্টেশনের বিভিন্ন প্রকার কার্জক্রমের তদারকি করে আসছিলেন। প্রায় সময় তিনি রেলস্টেশনে সময় দিতেন। স্হানীয় সূত্রে আরও জানা যায় তিনি কোন প্রকার ব্যবসা বানিজ্যের সাথে জড়িত দেখা মিলে না। তারপরও তিনি চাকচিক্য রকমে চলাফেরা করত। বিশেষ সূত্রে জানা যায়,সে নিয়মিত ভাবে মোবাইলে ক্যাসিনো খেলায় জড়িত ছিল। পাশাপাশি ঢাকার মতিঝিল এলাকায় জুয়ার আসরে সপ্তাহে ২-৩ দিন সময় দিত। এরই সুবাদে তিনি নিয়মিত ভাবে ট্রেনে যাতায়াত করত। বিভিন্ন সময়ে দেখা যায় তিনি অনেক ট্রেন ভ্রমণের টিকেট বিক্রয় করতেন। ব্যক্তিগত ভাবে তিনি বিরামপুর রেলস্টেশনের পশ্চিম পার্শ্বে একটি ভাড়াটিয়া বাড়িতে লিগ্যাল একশন নামে একটি সংস্থার অফিসের সহিত সংযুক্ত ছিলেন। প্রকৃত পক্ষে এটি ছিল মানবাধিকার সংস্থা। সেই অফিসের পরিচয়ে তিনি মানবাধিকার কর্মী হিসাবে পরিচিতির বিস্তার ঘটায়। উক্ত অফিসের সভাপতি ছিলেন তোছারব ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা নামের স্হানীয় ব্যক্তি। নেপথ্যে ছিলেন নয়ন মিয়া ও কাজিন উদ্দিন সরকার ও ডাকবাংলা কর্তব্যরত কেয়ার টেকার সাখাওয়াত হোসেন।
সংস্থার সভাপতি তোছারব হোসেনের বাড়ি দিওড় ইউনিয়নের হরিল্লাখুর মহল্লায়। পেশায় সে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি আর সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা তিনি বিএনপি মোড়ে অটোরিকশা ও চার্জারের একটি ব্যাটারির দোকান রয়েছে। এরা সকলেই এই সংস্থার সাথে জড়িত। এরা বিভিন্ন মানুষের নিকট থেকে অভিযোগ গ্রহণ করে তাদের অফিসে শালিস বৈঠক বসাত ও মোটা অংকের অর্থের লেনদেন করত বলে অভিযোগ উঠেছে। ডাকবাংলা কেয়ারটেকার সাখাওয়াত নয়ন মিয়া ও কাজিন উদ্দিন সরকার এবং জাহাঙ্গীর আলমের সাথেই কাজ করত। কিছুদিন ধরে দেখা যায় জাহাঙ্গীর আলমের সাথে সাখাওয়াত যোগসাজশে চলাচল করছিল ও রেলস্টেশনের বিভিন্ন সময়ে দেখা যেত। এদের কাজ সম্পর্কে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ব্যক্তিগন বলেন এরা রেলস্টেশনে নিজের ক্ষমতার পরিচয় দিয়ে থাকে। নয়ন মিয়া জাহাঙ্গীর আলম ও সাখাওয়াত প্রায় সময় রেলস্টেশনে সময় দিয়ে টিকেট কালোবাজারির সাথে জড়িত ছিল বলে জানান ভুক্তিরা। ধৃত জাহাঙ্গীর আলমের সাথে জড়িত নয়ন মিয়া পেশায় বর্তমানে একজন চা ও পানের দোকানদার। সে বিরামপুর রেলস্টেশনের পশ্চিম পার্শ্বে তার দোকান। সাথে রয়েছে একটি পত্রিকা অফিস। দৈনিক নাগরিক ভাবনা পত্রিকা বেনারে মাননীয় শেখ মুজিবুর রহমান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টাঙ্গিয়ে আইন উপেক্ষা করে কাজ করে আসছেন। এমন অবস্থায় এই অফিসে আইনের বাহিরে বিভিন্ন প্রকার আইন বিরুদ্ধি কাজ করে আসছিল। এবিষয়ে স্হানীয় জনসাধারণ জানান,নয়ন মিয়া শিক্ষাগত যোগ্যতা তার নাই সঠিক ভাবে তার নিজের নামও ঠিক করে লিখতে পারে না। অথচ সে একটি দৈনিক নাগরিক ভাবনা জাতীয় পত্রিকার বিরামপুর প্রতিনিধি কি করে হয় এমনই প্রশ্ন তুলেছেন। এবিষয়ে তার নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান প্রত্রিকার প্রতিনিধি হতে কোন যোগ্যতা লাগেনা। সম্পাদক কি ভাবে দিয়েছে তিনি তা জানেন। জাহাঙ্গীরের অপরজন ছিলেন কাজিন উদ্দিন সরকার সে পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী কোন প্রকার শিক্ষাগত যোগ্যতা নাই। তারপরও সে একজন জাতীয় পত্রিকার সহ সম্পাদক ও স্টাফ রিপোর্টার। দির্ঘ ২ বছর যাবত এই কাজ করে আসছেন। এবিষয়ে তার নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান প্রত্রিকার প্রতিনিধি হতে কোন যোগ্যতা লাগেনা। সম্পাদক কি ভাবে দিয়েছে তিনি তা জানেন বলে জানান। এবিষয়ে স্হানীয় গণমাধ্যম কর্মীগনের মান ক্ষুন্ন হচ্ছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে। তারা আরও জানান,তারা ২ জন কোন প্রকার সংবাদ লেখার যোগ্যতা নাই। বিরামপুর উপজেলায় পর্যায়ে প্রায় ৫০-৫৫ জন সাংবাদিকগনের সারিতে স্হান দখল করেছে। এমন তারা ২ জন সাংবাদিক ভাষাটি ভালো করে পড়তে ও লিখতে পারেনা। তারপরও লোক সমাজে নিজেকে একজন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে থাকে তাদের এই পরিচয়ের অনেক রেকর্ড মোবাইলে ধারণ করা হয়েছে। ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজি জাহাঙ্গীর আলমের তারা দোসর ছিলেন বলে জানান। এবিষয়ে বিরামপুর থানা ওসি সুব্রত কুমার জানান,জাহিদুল ইসলাম নামের এক যুবক সিরাজগঞ্জ থেকে পাশ্ববর্তী নবাবঞ্জে ফুফুর বাড়িতে যায় জন্য বিরামপুর গভীর রাতে রেলস্টেশনে নামেন। ভুক্তভোগী তার ফুফুর বাড়ি যাওয়ার সময় রাত বেশি হওয়ায় তার ফুফাত ভাই এর সাথে মোবাইলে কথা বলেন। এসময় তার ফুফাত ভাই রাত পর্যন্ত রেলস্টেশনে থাকতে বলেন। রেলস্টেশন এলাকায় জাহাঙ্গীর নামে একজন তার পথরোধ করে তার পরিচয় জানতে চান ও তাকে পুলিশ পরিচয়ে তল্লাশি চালায়। এসময় তার ব্যাগ থেকে ৫ হাজার টাকা অসত উদ্দেশ্যে বাহির করে নেয়। বিষয়টি বিরামপুর রেলস্টেশন মাষ্টার জানতে পেরে থানা পুলিশকে খবর দিলে তাকে আটক করা হয়। এরপর পরদিন মঙ্গলবার মামলা দায়ের পূর্বক তাকে দিনাজপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিরামপুর রেলস্টেশন মাষ্টার ভিডিও বক্তব্যে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ষ্টেশন মাষ্টার জানান,সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানার দৌলতপুর ইউপি গোপরেখি গ্রামের পিতা আব্দুল শেখ এর ছেলে জাহিদুল ইসলাম (২৮) আমার অফিসে এসে লিখিত ভাবে অভিযোগ করেন যে কথিত জাহাঙ্গীর আলম পুলিশ পরিচয়ে তার ব্যাগ তল্লাশি চালায় ও ব্যাগ থেকে ৫,০০০ (পাঁচ হাজার টাকা) হাতিয়ে নেয়। বিষয়টি স্হানীয় বিরামপুর থানা পুলিশ কে অবগত করলে পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়। স্হানীয় সূত্রে জানা যায়,ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজি করতে আটক জাহাঙ্গীর আলম তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত আর্মি। বিরামপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন পশ্চিম পার্শ্বে তার একটি বাড়ি রয়েছে। তিনি ঐ বাড়িতে একাই অবস্থান করেন। তার সাথে তার পরিবার থাকে না। সে প্রতি নিয়ত রাতদিন রেলস্টেশনে সময় দিয়ে থাকেন। রেলস্টেশনে থাকা অবস্থায় রেলস্টেশনে আসা বিভিন্ন রকম মানুষের নিকট একজন মানবাধিকার কর্মী পরিচয় দিয়ে থাকেন। জানা যায়,তিনি লিগ্যাল এ্যাকশন মানবাধিকার সংস্থায় কাজের পরিচয় প্রদর্শন করেন। রেলস্টেশনে সূত্রে জানা যায়,জাহাঙ্গীর আলম তিনি সারারাত রেলস্টেশনে সময় দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন প্রকার মানুষের নিকট প্রশাসনিক কায়দায় হুমকি দিয়ে থাকেন। স্হানীয় জনসাধারণ উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
Post Views: 237
Related