গোপাল চন্দ্র রায়, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ স্মার্টফোনের এক স্পর্শে যখন মুহূর্তেই পৌঁছে যাচ্ছে দেশ-বিদেশের সব খবর, তখনও ঘুম থেকে উঠে সকাল বেলা একটি বাই সাইকেল হাতে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন পত্রিকা হকার জহুরুল ইসলাম ডিকো। শহরের অলিগলি, দোকানপাট, সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ, ব্যাংক, বিমা আর বাসাবাড়িতে পৌঁছে দেন জাতীয় দৈনিক বিভিন্ন সংবাদপত্র। দীর্ঘদিন ধরে একই ছন্দে চলা এই মানুষটির পত্রিকা যেন জীবনের একটি অংশ হয়ে দাড়িয়েছে। সবার কাছে যিনি ডিকো নামেই বেশি পরিচিত।
ডোমার পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কাচারি পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে জহুরুল ইসলাম ডিকো। ২০০৩ সাল থেকে পত্রিকা বিলির পেশায় যুক্ত হন তিনি। দেখতে দেখতে এই পেশায় কেটে গেছে ২৩ বছর। ডিকো বলেন, আমি যখন কাজ শুরু করি তখন পত্রিকার কদর ছিল বেশি। হকার ছিল বেশ কয়েকজন। প্রতিদিন পত্রিকা আসতো দুপুরে। ঢাকা থেকে সৈয়দপুর এরপর বাসে করে ডোমারে। পত্রিকা বিলি করতে করতে রাত হয়ে যেতো। রোদ-বৃষ্টি, ঝড় কিংবা শীত কোনো কিছুই আমাকে থামাতে পারেনি। মানুষের হাতে পত্রিকা পৌঁছে দেওয়াটাই ছিল আমার দায়িত্ব। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,ব্যাংক, বিমা এবং বাসাবাড়িতে পত্রিকা সরবরাহ করি। তবে প্রযুক্তির বিকাশ আর ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রসারের কারণে আগের তুলনায় ছাপা পত্রিকার বিক্রি অনেক কমে গেছে। অনেকে এ পেশা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। ৩/৪হাজার টাকা মাসে আসে। বর্তমান বাজার দরের যে অবস্থা তাতে ৫জনের পরিবার এ টাকায় চলে না। ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি ৩ সন্তানের জনক। দুই মেয়ে এক ছেলে। স্ত্রী রুমি আকতার একজন গৃহিণী। পত্রিকা বিক্রির পাশাপাশি তিনি লিটল হার্টস স্কুল নামের একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে সকাল ৯টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত পিয়নের চাকরি করেন। সেখানে তিনি ৩হাজার টাকা মাসে পান। প্রথম দিকে ৫০০টাকা ছিল বেতন। যেখানেই যান পত্রিকা এবং বাই সাইকেল তার সাথে থাকে। পত্রিকা যেন তার জীবনের একটি অংশ হয়ে দাড়িয়েছে। বড় মেয়ে হেনা আকতার (১৩) সরলা বালিকা বিদ্যা নিকেতনে ৬ষ্ট শ্রেণীতে, ছেলে রাহাত (৬) লিটল হার্টস স্কুলে প্লেতে পড়াশোনা করে।ছোট মেয়ে তাসিন (৩) তার পিছু ছাড়ে না। বাড়িতে ঢুকলে ছোট বাচ্চাটি কান্নাকাটি করে বাড়িতে স্ত্রীর কাজের সমস্যা হয় তাই সাথে নিয়ে আসে। তাই পত্রিকার পাশাপাশি তার মেয়েও সাথে থাকে। দেড় শতাংশ জমির উপর তার বসত বাড়ি। তার জীবনের আক্ষেপ প্রতিদিন অনেক মানুষের সুখ দুঃখের কাহিনী ছাপানো পত্রিকা বিলি করেন কিন্তু তার জীবনের সুখ দুঃখ দেখার কেউ নেই। এ পেশায় ২৩বছর পার করলেও এ যাবত তিনি কোন সরকারি সহায়তা পাননি।








