পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে মাদারীপুরের বিভিন্ন মোজায় ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনার সত্যতা মিললে অধিকতর তদন্তের জন্য উচ্চ পর্যায়ের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। এর মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি তদন্ত কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদের এক চিঠিতে বলা হয়, মাদারীপুর জেলায় পদ্মা বহুমুখী সেতুন নির্মাণ প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানে অনিয়মের বিষয়ে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে পূর্ণাঙ্গ মতামত না পাওয়ার পরিপেক্ষিতে মাদারীপুর জেলায় পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানে অনিয়মসহ অন্যান্য অনিয়ম চিহিৃত করে দায় দায়িত্ব নির্ধারণ করার লক্ষ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পূর্বের কমিটি নিন্মরুপ পুর্নগঠন করা হলো। কমিটি প্রয়োজনে উপযুক্ত কর্মকর্তা/কর্মচারীর সমন্বয়ে ইনভেন্টরি টিম গঠন করতে পারবে।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব), সদস্য হিসেবে থাকবেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব ছাইফুল ইসলাম, ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব কবীর মাহমুদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নুরুল হক, সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব) আতিকুল ইসলাম। এই কমিটিকে আনীত অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন অতিদ্রæত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।
এর আগে অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিবকে চিঠি পাঠিয়েছেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিবকে লেখা চিঠিতে তিনি বলেন, মাদারীপুর জেলায় পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প ও পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের নদী শাসনের জন্য ২০০৭-০৮ অর্থবছর থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত ০১/২০০৭-০৮, ০৩/২০০৯১০, ০৭/২০১০-১১, ০২/২০১৩-১৮ ০৫/২০১৫-১৮, ০৫/২০১৩-১৪, ০৩/২০১৪-১৫, ০৯/২০১৪-১৫ ১০/২০১৪-১৫ (অস্থায়ী হুকুম দখল), ০১/২০১৫-১৬, ১১/২০১৫-১৬, ০৩/২০১৬-১৭, ০৮/২০১৬-১৭, ০০৩/২০১৭-১৮, ০৬/২০১৭-১৮, ০৮/২০১৯-২০, ০৬/২০১৯-২০ ও ০৬/২০২০-২১ (অস্থায়ী হুকুম দখল) নং এলএ কেস সৃজণের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত এলএ কেসসমূহের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির পাশাপাশি সরকারি খাসজমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল।
সম্প্রতি ০৬/২০১৭১৮ এলএ কেসের ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানকালে একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভুয়া বন্দোবস্ত দলিল তৈরি ও জালিয়াতির মাধ্যমে কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালের যোগসাজশে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়াও সম্প্রতি অডিট রিপোর্টে সরকারি খাসজমির অধিগ্রহণের অর্থ প্রদানে অনিয়ম হয়েছে মর্মে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আপত্তি দাখিল করা হয়েছে।
প্রাপ্ত বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে নথিপত্র পর্যালোচনায় বর্ণিত এলএ কেসসমূহের মধ্যে কয়েকটি এলএ কেসে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানে অনিয়মের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং অবশিষ্ট এলএ কেসসমূহে এরূপ অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সরকারি সম্পত্তির অর্থ আত্মসাৎ হওয়ার মাধ্যমে সরকারি স্বার্থ ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি মাদারীপুর জেলা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে।
এমতাবস্থায়, উক্ত এলএ কেসসমূহের সংঘটিত অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে এবং এর সাথে সংশিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।







