স্বামীকে ভালোবাসুন …. তিনি বাসায় ফেরার পূর্বে নিজেকে পরিষ্কার -পরিচ্ছন্ন রেখে ও সুগন্ধি ব্যবহারের মাধ্যমে ।। যেন আপনার কোমল মুখটা দেখেই পুরো দিনের ক্লান্তি মুছে যায় তাহার ক্লান্ত হৃদয় থেকে !!!
স্বামীকে ভালোবাসুন …. যখন তিনি বাসায় ফিরে সালাম দিয়ে আপনার মুখ পানে চাহে, তখন মিষ্টি একটু হাসি ও নম্রতার নজর দিয়ে তার দিকে তাকিয়ে তার হাতের ব্যাগ নিজ হাতে নিয়ে ।। মনে রাখবেন , মুচকি হাসি সম্বলিত চোখ স্বামীর বন্ধ হৃদয়ের তালা খুলে দেয় , তাহার মনকে জয় করে নেয় !!!
স্বামীকে ভালোবাসুন …. প্রিয়তম স্বামীর প্রশংসা করুন ।। কারন, এটা নেক বিবিদের সিফাত ।। স্বরন করুন আম্মাজান আয়িশা রাঃ তাহার প্রিয় স্বামী রসূলুল্লাহ (সঃ) এর তরে লিখেছিলেন ——
” লানা.. শামসুন ওয়ালিললা.. ফা..ক্বি শামসুন *
ওয়াশামসুন খয়রুন মিন শামসিস্ সামা..ই *
ফাইন্নাশ্ শামসা তাতলু’য়ু বা’আদাল ফাজরী *
ওয়াশামসি.. তাতলু’য়ু বা’আদাল ইশা..ই *
অর্থঃ ” আমার একটি সূর্য আছে , আসমানেরও একটি আছে। কিন্তু আমার সূর্য আসমানের সূর্যের চেয়ে উত্তম। কারন আসমানের সূর্য উদিত হয় ফযরের পরে আর আমার সূর্য উদিত হয় এশার পরে ।।”
স্বামীকে ভালোবাসুন …. কারন রাতে যখন আপনি ভয়ংকর স্বপ্ন দেখে কাঁদতে শুরু করেন তখন তার বুকটাকে আপনি এমন ভাবে পেয়ে থাকেন যেন তা আপনার সুরক্ষিত কেল্লা !!! পরম সোহাগে তিনি আপনাকে বুকে আগলে রেখে শান্তনা দিতে থাকেন ।।
স্বামীকে ভালোবাসুন … যখন তিনি আপনাকে বিউটি পারলারে যেতে নিষেধ করেন তখন , কারন তিনি যানেন সেখানের সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে আপনার দৌহিক সৌন্দর্য চলে যেতে পারে You Tube -এ।
স্বামীকে ভালোবাসুন …. যখন তিনি আপনাকে তাহার পিতা-মাতার একটু খেদমত করতে বলেন, কারন তাদের মেহনতের ফসল আজ আপনার ঘরে ।। যদিও একটু বকাবকি করে তবুও !!! আর এরকম প্রায় সব বৃদ্ধের/বৃদ্ধারই হয়ে থাকে এবং আপনারও হয়তো একদিন হবে !!!
স্বামীকে ভালোবাসুন …. যখন তিনি আপনাকে নিষেধ করেন নেইল পালিশ ব্যবহার করতে , কারন তিনি জানেন নেইল পালিশ থাকলে ওজু , ফরয গোসল কোনটাই হয় না !!! তাই পবিত্রাতাও অর্জন করা যায় না ।।
স্বামীকে ভালোবাসুন …. আপনার সজীব হাত দুটিতে মেহেদী লাগানোর মাধ্যমে !!! কারন স্ত্রীর মেহেদী রাঙা হাত স্বামীর অনেক প্রিয় ।। আর এটা বড় একটা সুন্নাতও বটে !!!
স্বামীকে ভালোবাসুন …. যখন তিনি আপনাকে চোখের ভ্রূ গুলো সরুকরতে , কপালে টিপ দিতে , মাথার চুল কেটে মডেলিং করতে নিষেধ করেন তখন কথা গুলো মানার মাধ্যমে ।। কারন তিনি জানেন হাদিসেএসেছে , আল্লাহ তা’আলার লানত যারা নিজের ভ্রুর পশম উপড়ায় এবং সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে দাঁত সরু করে, আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন সাধিত করে ।। ( বুখারী ৫৯৩৯, মুসলিম ২১২৫) আর তিনি এও জানেন, যে ব্যক্তি বিজাতীয় সাদৃশ্য অবলম্বন করে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে ।। (আবূ দাউদ ২/৫৫৯)
স্বামীকে ভালোবাসুন …. যখন তিনি আপনাকে বলেন বেবিটাকে তোমার স্থন পান করাও তখন সন্তানকে আপনার স্থন পান করানোর মাধ্যমে ।। কারন মায়ের দুধ সন্তানের দৌহিক ও মানষিক বিকাশে অদ্বিতীয় ।। আর এর ফলে স্থন ক্যান্সারের ঝুকিটাও বেশ কমে যাবে, সাথে পাচ্ছেন প্রতি ফোটা দুধের জন্য অগনিত সুওয়াব ।।
স্বামীকে ভালোবাসুন …. যখন তিনি বলেন , প্রিয়তামা সিজার নয় আমাদের সন্তানটা পৃথিবীতে আসুক নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে ।। কারন তিনি যানেন সিজার নারীর স্বাস্থের জন্য চরম ক্ষতিকর ।। তাছাড়া সিজার করলে আপনিও যাবেন বেশ মুটিয়ে !!!
স্বামীকে ভালোবাসুন …. যখন তিনি স্টার জলসায় আর বহু চ্যানেলে ঐ সিরিয়াল গুলো দেখতে নিষেধ করেন তখন কথাটা মানার মাধ্যমে ।। কারন , এগুলো মুসলিম পরিবারে কে ধ্বংস করার বিজাতীয় ভয়ানক ষড়যন্ত্র ।। আর এগুলো আপনার আমলের পথে শক্ত বাধাও বটে !!!
স্বামীকে ভালোবাসুন …. যখন তিনি বলেন প্রিয়তমা আমার তুমি পর্দার বিধান মেন চলো , মার্কেটিং করার জন্য বোরখা-হিজাব পরে চলো তখন তা করার মাধ্যমে ।। কারন তিনি জানেন এটা নারীর স্বতীত্ব হিফাজাত করার জন্য খোদায়ী রক্ষাকবয , আর পর্দা করা ফরজ ।।
স্বামীকে ভালোবাসুন …. যখন তিনি আপনাকে সিল্ক/কাতান/জামদানী দামী শাড়ী বা সানি লিওন/মাজাক কালী ড্রেস কিনে দিতে ব্যার্থ হন তখন বলুন আমার এতো দামী পোশাকের দরকার নেই ।। মনে রাখবেন অল্পে তুষ্টি জান্নাতীদের সিফাত ।।
স্বামীকে ভালোবাসুন …. যখন তিনি রেগে যান তখন নিরাবতা পালনের মাধ্যমে ।। দেখবেন পরে তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে আপনার হাত ধরে ক্ষমা চাচ্ছেন !!!
স্বামীকে ভালোবাসুন …. শ্রদ্ধার মাধ্যমে ।। কারন হাদিসে এসেছে, ” আল্লাহ তা’আলা কে ছাড়াও যদি কাওকে সিজদা করার নির্দেশ করা হতো, তবে প্রত্যক স্ত্রীকে বলা হতো তারা যেন তাদের স্বামীকে সিজদা করে ।। ( আবূ দাউদ, কিতাবুল নিকাহ্)
স্বামীকে ভালোবাসুন …. যখন ঘুমানোর পূর্বে উভয়ের মাঝে মনমালিন্য হয় তখন স্বামীর বিছানা না ত্যাগ করার মাধ্যমে ।। “স্বামীর হাতে হাত রেখে বলুন , প্রিয়তম আমি ততক্ষণ পর্যন্ত নিদ্রার স্বাদ গ্রহন করবো না যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হন ।।”( বাইহাকী, শুআবুল ঈমান ৮৭৩২) মনে রাখবেন এটি জান্নাতী রমনীদের বৈশিষ্ট্য ।।
স্বামীকে ভালোবাসুন …. মনের মানুষটাকে সন্তুষ্ট রাখুন ।। কারন ” যে মহিলা তার স্বামীকে সন্তুষ্ট রেখে মৃত্যুবরন করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে ।।” ( মুস্তাদরাক হাকিম ৭৪৭৬, তিরমিযী )
স্বামীকে ভালোবাসুন …. যখন জিহাদের ডাক আসে তখন আরব রমনীদের মত তাকে জিহাদের ময়দানে যেতে দিয়ে ।।
স্বামীকে ভালোবাসুন …. কারন আপনি তাহার হৃদয়ের সম্রাজ্ঞী তাহার স্বপ্নের রাজকন্যা ।। সে সব নারীকে ছেড়ে আপনাকেই দেহ-মনে স্থান দিয়েছে ।। আপনি তাহার রানী আর তিনি আপনার মুহাফিজ , প্রয়োজনে আপনাকে হিফাজাত করতে নিজের প্রিয় জীবনটাকেও দিয়ে দিবে ।। তাই সব পুরুষকে ভুলে শুধু তাকে দেহ-মনে স্থান দিন ।।তাকেই ভালোবাসুন ………….
Post Views: 231
Related