উপজেলা আলীগের দুঃখ প্রকাশ
———————————————
বায়েজীদ গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধ :
গাইবান্ধার পলাশবাডীতে পৌর ছাত্রলীগের আকস্মিক হামলায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি(সিপিবি)’র পথসভা পন্ড।এঘটনায়
সিপিবি' জেলা ও উপজেলার ৩ নেতা আহত হয়েছেন।ঘটনাটি ঘটেছে পলাশবাড়ী পৌরশহরের জিরোপয়েন্ট চৌমাথা মোড়ে। জ্বালানী
তেল-বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার,নিত্যপণ্যের
বাজার মূল্যের ঊর্দ্ধগতি রোধ,রেশনিংসহ ন্যায্যমূল্যের দোকান চালুর দাবীতে সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটি সপ্তাহব্যাপি (১২-
১৮)কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সভা আহবান করা হয়।পলাশবাড়ী উপজেলা শাখার আয়োজনে শনিবার (১৪ জানুয়ারি)বিকেল সোয়া
৪টার দিকে নেতৃবৃন্দ সভার কাজ শুরু করেন।সংগঠনের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আদিল নান্নু’র সভাপতিত্বে
সভায়
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাঁদের বক্তব্য রাখছিলেন। সভায় উপস্থিত সিপিবি’র নেতৃবৃন্দ জানায়,কিছু বুঝে উঠার আগেই ১৫ মিনিটের
ব্যবধানে পলাশবাড়ী পৌর ছাত্রলীগ আহবায়ক মাসুম সরকার চিহৃিত বেশ কয়েকজন সহকর্মি নিয়ে সভায় হামলা চালায়।
সিপিবি'র নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে জানায় ঘটনার আকস্মিকতায় কিছু বুঝে উঠার আগেই মারমুখি ছাত্রলীগ নেতা-কর্মিরা
লাঠিসোটা হাতে নিয়ে আগন্তকের ন্যায় সভায় হাঙ্গামা সৃষ্টি করে।সিপিবি'র নেতৃবৃন্দ বলেন শান্তিপূর্ণ সভায় হামলাসহ মানবিক
আচরণের প্রতিবাদ করায় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা সিপিবি নেতৃবৃন্দের প্রতি আরো চড়াও হয়।তাদের বেপরোয়া-বেধরক মারপিট
করায়। এসময় তিন নেতৃবৃন্দ আহত হন।পথচারিরা দিক-বিদিক
ছোটাছুটি শুরু করেন। এঘটনায় সিপিবি জেলা শাখার সহকারি সম্পাদক অ্যাড. মুরাদজ্জামান রব্বানী মুরাদ,ছাত্র ইউনিয়ন জেলা
সংসদ
সভাপতি আব্দুল ওয়ারেছ,পলাশবাড়ী সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আদিল নান্নুসহ তিন নেতা আহত হন। অপ্রত্যাশিত
ঘটনায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ১৪ দলীয় স্থানীয় সমন্বয়ক মহদীপুর ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম মন্ডলের
সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান,সভায় এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনার বিষয়টি
ঘৃণিত।মোটেও কাম্য নয়।বিষয়টি তাৎক্ষনিক তিনি
গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু বক্কর সিদ্দিককে জানিয়েছেন। উপজেলা
আওয়ামী লীগ সভাপতি উপাধ্যক্ষ শামিকুল ইসলাম সরকার লিপন ঘটনাটির বলেন,বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি মুক্তিযুদ্ধের
স্বপক্ষের রাজননৈতিক দল। কতিপয় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর উন্মাদনায় ন্যাক্কারজনক
ঘটনাটি রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার বহিঃর্ভূত ও দুঃখজনক। উপজেলা আ'লীগের সাবেক সভাপতি আবু বকর তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন
বিষয় সত্যিই দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।থানা অফিসার ইনচার্জ মো.মাসুদ রানা মুঠো ফোনে জানান,সিপিবি নেতৃবৃন্দ পথসভার
বিষয়টি পুলিশ কে আগেও বলেনি এবং পরেও কিছু জানায়নি। সিপিবি লিখিত অভিযোগ করলে তা খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গতরাত ৮টা সিপিবি এব্যাপারে থানায় কোনো অভিযোগ দাখিল করেননি বলে তিনি জানান।প্রেস ক্লাব
সভাপতি রবিউল হোসেন পাতা জানান,ঘটনাটির সূত্রপাত সত্যিই অশোভনীয় ও অবিশ্বাস্য। বিনা উস্কানিতে ছাত্রলীগের সৃষ্ট
অনভিপ্রেত হামলার ঘটনা মোটেই উচিৎ হয়নি। সিপিবি উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আদিল নান্নু অপ্রত্যাশিত
ঘটনাটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদসহ সুষ্ঠু তদন্তের দাবী জানিয়ে বলেন আমাদের শান্তিপূর্ণ পথসভায় আকস্মিক হামলার
ঘটনা মোটেও কাম্য ছিলনা। আমরা তিনজন আহত হয়েছি।তিনি জানান,যথাযথ হস্তক্ষেপের জন্য বিষয়টি ইতোমধ্যেই জেলা
প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ছাড়াও সিপিবি জেলা ও কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড নেতৃবৃন্দকে ইতোমধ্যেই অবগত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য ; সিপিবি’র শান্তিপূর্ণ সভায় হামলা চালিয়ে পন্ড করার নেপথ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনে
নেতৃবৃন্দ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপের দাবী জানিয়েছেন।ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়াও সচেতন জনমনে
চরম অসন্তোষসহ মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।







