রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকার অসহায় ও পানিবন্দি মানুষের জন্য খিচুড়ি রান্না করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিলেন উপজেলা প্রশাসন। গত বৃহ¯পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদে খিচুড়ি রান্না করে পানিবন্দি ও অসহায় মানুষের মধ্যে খিচুড়ি বিতরণ করেন হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম মিঞা। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলো চুলায় আগুন জ্বালাতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় খিচুড়ি রান্না করে পানিবন্দি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন হাতীবান্ধা উপজেলা প্রশাসন। এসময় হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম মিঞা বলেন, বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গত বুধবার থেকে অনেকে চুলায় আগুন জ্বালাতে পারেননি। পানিবন্দি মানুষের জন্য খাবার রান্না করে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উত্তম কুমার নন্দী, গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়া প্রমুখ।
সৌদি আরব গিয়ে চাকরি না পেয়ে চিকিৎসা ও খাদ্যাভাবে এক যুবকের মৃত্যু
রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: পরিবারের অর্থনৈতিক সচ্ছলতার জন্য বিদেশে গিয়ে চাকরি না পেয়ে এক করুণ পরিণতির শিকার হয়েছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার এক যুবক। উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের রসুলপুর বালুপাড়া গ্রামের সাফিউল ইসলাম নামে ওই যুবক সৌদি আরবে অনাহারে ও বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন বলে তার পরিবারিক সূত্রে জানা যায়। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশাহারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো গ্রাম জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। গত বছর মে মাসে স্থানীয় দালাল মিস্টারের মাধ্যমে আড়াই লক্ষ টাকা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এবং ১ লক্ষ টাকা সুদে ধার করে সৌদি আরব পাড়ি জমান সাফিউল। তার উদ্দেশ্য ছিল পরিবারের আর্থিক দুর্দশা দূর করা। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক নয়, যার কারণে তিনি কোনো চাকরি পাননি। প্রায় ১৫ মাস ধরে চাকরিহীন অবস্থায় থাকার কারণে তার কাছে টাকা শেষ যায়। চাকরি ও অর্থ না থাকায় সাফিউল ইসলামকে চরম দুরাবস্থার মধ্যে পড়তে হয়। পরিবার জানায়, তিনি দিনের পর দিন মসজিদে সামান্য খাবার সংগ্রহ করে রাস্তার ধারে বা ফ্লাইওভারের নিচে রাত কাটাতেন। এভাবেই দীর্ঘ ১৫ মাস অমানবিক জীবন যাপন করতে গিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে। গত ২৮ জুলাই সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের গেটে বিনা চিকিৎসা ও খাবারের অভাবে তার মৃত্যু হয়। সাফিউল ইসলামের মৃত্যুও সংবাদ গ্রামে পৌঁছালে তার পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠে। তার বৃদ্ধ বাবা মো. জলিল শেখ এবং মা মোছা. মাহিলা বেগম বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তারা বলেন, ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য ঋণ করে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমাদের ছেলেকে হারিয়ে আমরা সর্বস্বান্ত। ছেলের মরদেহ এখন কীভাবে দেশে ফিরিয়ে আনবো সেই চিন্তায় অস্থির হয়ে আছি। এ ঘটনার জন্য স্থানীয় দালাল মিস্টারকে দায়ী করছেন গ্রামবাসী। তারা বলেন, মিস্টার নামে ওই দালাল সাফিউল ইসলাম ও তার আরেক প্রতিবেশী রনিকে একই সময়ে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন। রনিও বর্তমানে সেখানে একই রকম মানবেতর জীবনযাপন করছে। দালাল মিস্টারের প্রতারণার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাফিউলের প্রতিবেশীরা। সাফিউল ইসলামের মৃত্যুর পর থেকে দালাল মিস্টার পলাতক রয়েছেন। গাইবান্ধা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মো. নেশারুল হক বলেন, সাফিউল ইসলামের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। সরকারি সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে এবং দ্রুত মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দালালদের মাধ্যমে বিদেশ গমনের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
জমি না দিয়েই মহাসড়কের অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ
বায়েজিদ পলাশবাড়ী গাইবান্ধা) : পলাশবাড়ীতে মুনছুর আলীর বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ না হলেও প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে মুনছুর আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত জমির অংশীদাররা। অভিযোগ রয়েছে, পলাশবাড়ী পৌর শহরের নুনিয়াগাড়ী মৌজার সাবেক ৭৯/৮০ নম্বর দাগ এবং বর্তমান ৮৩১ নম্বর দাগের ০.০৯৪৮ একর জমির বিপরীতে ৫ কোটি ৫৬ লাখ ৪৩২ টাকা অধিগ্রহণের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, ওই পরিমাণ জমি বাস্তবে মহাসড়কের জন্য অধিগ্রহণ বা হস্তান্তর করা হয়নি। ভুক্তভোগী রেখা বেগমসহ অন্যান্য অংশীদারদের অভিযোগ, সাসেক প্রকল্প-২ সংশ্লিষ্টদের আপত্তি, অন্যান্য অংশীদারদের আপত্তি এবং এলএমসি কেস নং ২৭০/২০২৩-২০২৪ ও এলএ কেস নং ১১/২০১৯-২০২০-এর বিষয়গুলো নিষ্পত্তি না করেই মুনছুর আলীর নামে অধিগ্রহণের অর্থের চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের দাবি, বিষয়টি যথাযথভাবে সরেজমিন যাচাই না করে কাগজপত্রের ভিত্তিতে অর্থ ছাড় করা হয়েছে। দলিলের হিসাবেও উঠছে প্রশ্ন অভিযোগকারীদের দেওয়া কাগজপত্রের তথ্য অনুযায়ী, নুনিয়াগাড়ী মৌজার এসএ খতিয়ান-১৬, আরএস খতিয়ান-২৫ এবং জেএল নম্বর-৬৯-এর সাবেক ৭৯/৮০ নম্বর দাগে মুনছুর আলীর বাবা মৃত মোফাজ্জল হোসেন ১৯৫৩ সালের ২১ জানুয়ারি ৪২৫ নম্বর দলিলের মাধ্যমে মোট ১২৭ শতাংশ জমির মালিকানা লাভ করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের ১৯ নভেম্বর ০১/৬৯ নম্বর কেসের মাধ্যমে সড়ক বিভাগের কাছে ৩২ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয় বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে এতে মোফাজ্জল হোসেনের নামে অবশিষ্ট থাকার কথা ৯৫ শতাংশ জমি। এরপর ২০০২ সালে বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে ওই জমির একটি অংশ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হস্তান্তর করা হয় ২১৬৯ নম্বর দলিলে ছেলে আল মামুনকে ৩৯ শতাংশ, ২১৭০ নম্বর দলিলে স্ত্রী হালিমা বেগমকে ৩ শতাংশ এবং ২১৯৪ নম্বর দলিলে দুই মেয়ে রোকেয়া বেগম ও শাহিনা পারভীনকে পৃথকভাবে ৫ শতাংশ করে মোট ১০ শতাংশ জমি দেওয়া হয়।...







