মাহমুদুল হাসান, রামগড় উপজেলা প্রতিনিধি:
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালিদের আয়কর অব্যাহতির আওতায় আনা, মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা চালু, উচ্চশিক্ষায় পৃথক কোটা এবং পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাস দমনের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় শাহবাগের শহীদ হাদী চত্বরে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ-এর উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মো. মোস্তফা আল ইহযাযের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) খন্দকার ফরিদুল আকবর, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ লিগ্যাল এইডের সভাপতি অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, শ্রমিক নেতা বজলুর রহমান বাবলু, ছাত্রনেতা মিজানুর রহমান, স্টুডেন্ট ফর সার্বভৌমত্বের আহ্বায়ক জিয়া উল হক, সাহিদুল ইসলাম, কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম, প্রভাষক নারগিস জুই, যুব নেতা সেলিম রেজা বাচ্চু, শাহপরান সাইম, রোজিনা আক্তার ও তারেক রহমান শাওনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে মো. মোস্তফা আল ইহযায বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত বাঙালি জনগোষ্ঠীকেও আয়কর অব্যাহতির আওতায় আনা উচিত। তাঁর দাবি, একই ভৌগোলিক এলাকায় বসবাস করেও জনগোষ্ঠীভেদে কর সুবিধার পার্থক্য অর্থনৈতিক ও প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি করছে।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের আয়কর অব্যাহতি সুবিধা বিদ্যমান। তাঁর দাবি, একই অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাসরত বাঙালিদেরও সমান সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন।
মোস্তফা আল ইহযায আরও দাবি করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিরা চাকরি, উচ্চশিক্ষা, উন্নয়ন প্রকল্প ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অংশীদারিত্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং উন্নয়ন সুবিধা বণ্টনের দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, আয়কর অব্যাহতির কারণে ঠিকাদারি ও ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় অসম পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সব জনগোষ্ঠীর জন্য সমান ও ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
সমাবেশে অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত বিভাগগুলোর তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষায় পার্বত্য বাঙালি শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক কোটা চালুর দাবিও করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর পরিচয় ও অধিকার নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে কোনো ধরনের ভূ-রাজনৈতিক তৎপরতা বা দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে—এমন কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস দমন এবং দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা, মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালু, উচ্চশিক্ষায় সুযোগ বৃদ্ধি, আয়কর সুবিধায় সমতা এবং পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাস দমনের দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে শাহবাগের শহীদ হাদী চত্বর থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।








