রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়ায় ১০০ কিলোমিটার রাস্তা বাইসাইকেল চালিয়ে উপস্থিত হয়েছে বিএনপির নেতা-কর্মীগণ। এছাড়াও বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে যোগ দিতে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের তাঁতীপাড়া থেকে রংপুরে এসেছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী আজিজার রহমান। পুলিশি বাধা আর ভয়ভীতি উপেক্ষা করে প্রায় ১১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শুক্রবার বিকালে তিনি রংপুরে অবস্থান করছেন। ক্রাচে ভর করে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে ঘুরছেন তিনি। শুক্রবার কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে ষাটোর্ধ্ব কৃষক আজিজার রহমান বলেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা হাতিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য তিনি। এক দুর্ঘটনায় ২০ বছর আগে বাম পা হারিয়েছেন। কিন্তু হারাননি মনোবল। বিএনপিকে ভালোবেসে এক পায়েই ছুটে যান সভা সমাবেশে। গণপরিবহন ধর্মঘটকে তোয়াক্কা না করে এক পা নিয়েই দলের বিভাগীয় সমাবেশে যোগ দিতে রংপুরে এসেছেন তিনি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামল থেকে এ দলের সঙ্গে তার সংখ্যতা। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী আজিজার রহমান বলেন, বিএনপি এবং খালেদা জিয়াকে ভালোবাসি দেখে রংপুর আসছি। বিএনপি যে দাবিতে সমাবেশের ডাক দিয়েছে তা যৌক্তিক। সরকার তেল, ডাল, চাল, চিনিসহ সবকিছুর দাম বাড়িয়েছে। আমাদের আয় রোজগার নেই। কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের দাম পাচ্ছে না। আমরা বাঁচতে পারছি না। তিনি বলেন, অটোরিক্সায় করে কুড়িগ্রাম থেকে খুব কষ্ট করে আসছি। আমি প্রতিবন্ধি মানুষ, আসার পথে অনেক কষ্ট হয়েছে। কিন্তু তবুও ভালো লাগছে, কারণ বিএনপি আমার ভালোবাসার দল। রংপুরে আসার সময় একজনের কাছ থেকে ২৫০ টাকা ধার করে নিয়ে এসেছি। আমার সঙ্গে আরও পাঁচজন এসেছে। তারা সবাই দলকে ভালোবাসে। এছাড়াও ঠাকুরগাঁও থেকে ১০০ কিলোমিটার বাইসাইকেল চালিয়ে বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সমাবেশস্থল রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে আসার পর শরিফুল ইসলাম বলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১৯নং বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের শতাধিক যুবদল কর্মী বাইসাইকেল চালিয়ে সমাবেশ এসেছেন। আমি আমার দেশ ও দলের জন্য আরও কষ্ট করতে চাই। প্রয়োজনে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে চাই। তবুও আওয়ামী লীগ সরকারের পতন চাই। সমাবেশের মাধ্যমে আমরা আমাদের নেত্রীর মুক্তি চাই ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ নানা দাবিতে বিএনপি দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে গণসমাবেশ করছে। গত ৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম, ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহ ও ২২ অক্টোবর খুলনায় সমাবেশ করেছে দলটি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ২৯ অক্টোবর শনিবার রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে চতুর্থ গণসমাবেশের আয়োজন করেছে বিএনপি। বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে ৩৬ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে রংপুর জেলা মটর মালিক সমিতি। ধর্মঘটের কারণে বাস বন্ধ থাকায় সমাবেশে আসতে নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে। বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও রংপুর বিভাগীয় গণসমাবেশের সমন্বয়কারী এ জেড এম জাহেদ হোসেন বলেন, গণসমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য নেতা-কর্মীরা ছুটে আসছেন। পথিমধ্যে তাদেরকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। সব বাধা বিপত্তি উপেক্ষা তারা আসছেন। আমরা আশা করছি আজকের গণসমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হবে। বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ সফল করতে আসা নেতা-কর্মীরা এখন খোশ মেজাজে আছেন। কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ শুরুর আগের দিনেই অনেকটা ভরে গেছে মানুষে। শুক্রবার রাতে মাঠে অবস্থান নেওয়া নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা ফোনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শীতের কষ্ট ভুলে কেউ কেউ মেতেছেন গান-গল্পে। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সমাবেশের মাঠ ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। মাঠের বিভিন্ন স্থানে নেতা-কর্মীরা জটলাবেঁধে কেউ ফেসবুক স্ক্রলিং করছেন, কেউ কথা বলছেন আবার অনেককে তাদের ফোনে গেম খেলতেও দেখা গেছে। শীত উপেক্ষা করে অনেকেই আবার ক্লান্ত শরীরে খড় বিছিয়ে গায়ে পাতলা কম্বল জড়িয়ে শুয়ে পড়েছেন। মাঠে নেতা-কর্মগণ বলেন অনেক দূর থেকে আসছি। এখন ক্লান্ত তাই বিশ্রাম নিচ্ছি। কুড়িগ্রামের রাজারহাট থেকে আসা আরেফুল ইসলাম বলেন, রাতে আর তেমন কাজ নেই তাই বসে বসে সময় পার করছি। মোবাইলে পর্যাপ্ত চার্জ রয়েছে একারণে গান শুনে মনটাকে একটু হালকা করে নিচ্ছি। পঞ্চগড় থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী ওয়াদুদ আলী বলেন, বাড়ি থেকে অনেক ভেঙে ভেঙে এসেছি। ২০ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে এসেছি। কিছুক্ষণ বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করলাম। পরে খড় বিছিয়ে গায়ে পাতলা কম্বল জড়িয়ে শুয়ে পড়ছি। একটু শীত অনুভব করছি। এদিকে জেলার ছাত্রাবাসগুলোতে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু। তিনি বলেন, আমাদের হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা ধর্মঘট উপেক্ষা করে রংপুরে এসেছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করছে প্রশাসন। সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। শুধু সড়কে নয় নগরীর মেসগুলোতে বহিরাগতদের থাকতে নিষেধ করা হয়েছে। অনেকে আবাসিক হোটেলগুলোতে বুকিং দিয়েছে, কিন্তু পুলিশের ভয়ে যাচ্ছে না। সরকার পরিকল্পিতভাবে এসব করছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার নুরে আলম মিনা বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীদের আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছি। সমাবেশ ঘিরে যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা না ঘটে, সেজন্য কয়েক দফায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ...







