চট্টগ্রাম: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক ঘোষিত ৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে শিক্ষক নেতৃবৃন্দরা অংশগ্রহণ করেন। গত বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় শূরার সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ আমিরুজ্জামান। তিনি বলেছেন, জামায়াতের ৫ দফা দাবি ইতোমধ্যে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে এবং এসব দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা হবে।
অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান বলেন, ‘দেশের জনগণ আমাদের দাবির প্রতি ব্যাপক সমর্থন জানিয়েছে। জনগণ যদি তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আরও শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলে, তবে সরকারকে অবশ্যই তাদের দাবি মেনে নিতে হবে। যদি সরকার তা না করে, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে, যা সরকারের জন্যও ক্ষতিকর হবে।’
বর্তমান সরকারের প্রতি তার একটিই আবেদন- জনগণের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। “এটাই দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার একমাত্র সমাধান,” বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান আরও বলেন, ‘আমরা পিআর পদ্ধতি নিয়ে কথা বলেছি, কিন্তু কত দিন আর অপেক্ষা করতে হবে? কেন রাজনৈতিক নেতারা বারবার আমাদের পিআর পদ্ধতির প্রতি সমর্থন জানাতে পারছেন না? সময় এসেছে, অবিলম্বে এই বিষয়টি নিয়ে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে।’
বৈঠকে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম শিক্ষকদের ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘যুগান্তকারী জুলাই আন্দোলনে শিক্ষকদের অবদান ছিল অতুলনীয়। বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একসঙ্গে আন্দোলন করেছেন। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তারা প্রশাসন ও সরকারের অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শিক্ষকদের সাহসী ভূমিকা দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও কাঙ্খিত রাজনৈতিক পরিবর্তন এখনও আসেনি। এখন ৫ দফা দাবি আদায়ের জন্য শিক্ষকদের একত্রিত হতে হবে।’
গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর শূরার সদস্য ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন- অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মোহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, প্রফেসর ড. আব্দুল মান্নান, প্রফেসর ড. নাজিম উদ্দিন, অধ্যক্ষ মাওলানা আবু হানিফা, মাওলানা আমিনুল ইসলাম, মুহাদ্দিস মাওলানা মাহবুবুর রহমান, প্রফেসর মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, এবং শিক্ষক সমিতির সভাপতি ইকবাল বাহার চৌধুরী।
এছাড়া, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।








