বাঙালি হিন্দু পরিবারে জন্ম নেওয়া সুশোভন সোনু রায়ের শৈশব কেটেছে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে। মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর মায়ের ওপর। কলকাতার ভিইইসিসি-তে কর্মরত ছিলেন তাঁর বাবা। একমাত্র সন্তানকে মানুষ করার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে চাকরি ও সংসার—দু’দিক সামলেই এগিয়ে নিয়ে যান তাঁর মা। এই অভিজ্ঞতাগুলি তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠনে ভূমিকা রাখে।
ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। নৃত্যের মাধ্যমে পারফর্মিং আর্টসের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় ঘটে। একটি নৃত্য প্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই বছর ওয়েস্টার্ন ড্যান্সের প্রশিক্ষণ নেন তিনি, যেখানে পপ ড্যান্স ছিল তাঁর পছন্দের ধারা। বিভিন্ন মঞ্চ অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নিয়ে পারফরম্যান্সের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরিবারের ইচ্ছা ছিল তিনি সংগীতচর্চা করুন, তবে নৃত্যের প্রতি ব্যক্তিগত আগ্রহই তাঁকে এই পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
২০১৬ সালে দমদম মতিঝিল রবীন্দ্র মহাবিদ্যালয় থেকে বাণিজ্যে স্নাতক সম্পন্ন করার পর অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সুশোভন। মুম্বাইয়ের বিভিন্ন প্রজেক্টে অডিশন দেওয়ার পাশাপাশি কলকাতায় ফিরে পরিচালক ও প্রযোজক পীযূষ সাহার তত্ত্বাবধানে প্রায় দুই বছর অভিনয় কর্মশালায় অংশ নেন। এই সময়ে তিনি অভিনয়ের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
২০১৯ সালে আকাশ আট চ্যানেলের ধারাবাহিক আনন্দময়ী মা-এর মাধ্যমে টেলিভিশনে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। প্রয়াত পরিচালক দেবীদাস ভট্টাচার্যের নির্দেশনায় একজন বৈষ্ণব ভক্তের চরিত্রে অভিনয় করেন। পরবর্তীতে স্টার জলসার মোহর ও কোড়াপাখি-সহ একাধিক ধারাবাহিকে কাজ করেন। কোড়াপাখি-তে পার্নো মিত্রের বিপরীতে একটি নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় তাঁর অভিজ্ঞতায় ভিন্নতা যোগ করে। এছাড়া জি বাংলার যমুনা ঢাকি এবং স্টার জলসার তিতলি ও খেলাঘর-এও বিভিন্ন ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।
কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে টেলিভিশনে কাজের গতি কমে গেলে পেশাগতভাবে নতুন দিক অনুসন্ধান করতে শুরু করেন সুশোভন। ২০২৩ সালে মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেন। হলিডে ইন হোটেল, ডাবর, টাইটান আই+, ভেলোসিটি আইওয়্যার, অ্যামাজন, স্পেন্সার্স, ক্যাম্পাস শুজ, বিগ বাজার, বায়োটিক এবং ফিয়ামা ডি উইলস-এর সঙ্গে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। একই সময়ে কলকাতায় অনুষ্ঠিত ‘এথনিক এলিগ্যান্স ২০২৫’ সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার-আপ হন।
টেলিভিশন থেকে চলচ্চিত্রে কাজের ধারাবাহিকতায় বাংলা চলচ্চিত্র ‘টেক কেয়ার ভালোবাসা’-এর মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর। ছবিতে ‘জয়’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। চার বন্ধুর সম্পর্ক ও তাদের জীবনের নানা পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কাহিনিতে জয় একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে উপস্থিত। ঘটনাপ্রবাহের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া অন্য চরিত্রগুলির সঙ্গে সম্পর্কের গতিপ্রকৃতিকে প্রভাবিত করে। কখনও সংযত, কখনও দ্বিধাগ্রস্ত, আবার কখনও বন্ধুত্বপূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত আচরণের মাধ্যমে চরিত্রটি গল্পের আবহের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে চলে এবং কাহিনির আবেগঘন দিকগুলিকে সমর্থন করে।








