অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন তাদের কেউই ভুল স্বীকার করেননি। বরং তারা জনগণকে উত্তেজিত করছেন।
বুধবার (১১ জুন) যুক্তরাজ্যের চ্যাথাম হাউজ আয়োজিত সংলাপে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি তরুণদের হত্যা, গুম এবং অর্থ চুরি করতে পারে। তাই একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের পরিচয় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আপনি কি এখনো এটিকে রাজনৈতিক দল বলবেন? তাহলে, এটি একটি বিতর্কিত বিচার নয়।’
ড. ইউনূস বলেন, তারা মনে করেন ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সেই অধ্যায় বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু যারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন (আওয়ামী লীগ) তাদের কেউই ভুল স্বীকার করেননি বরং তারা জনগণকে উত্তেজিত করছেন।
জাতি আপাতত দেশের নিরাপত্তা ও রাজনীতির সুরক্ষায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত থাকবে। আমরা কেবল এটাই করেছি।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে আগামী এপ্রিলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে ওই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত নতুন সরকারে তার থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই।
তিনি বলেন, আমার মনে হয় আমাদের উপদেষ্টা পরিষদের কোনো সদস্যই এমনটা করবেন না। আমাদের দায়িত্ব হলো, ট্রানজিশনটা ভালোভাবে সম্পন্ন করা এবং জনগণকে খুশি করা। নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। আমরা নির্বাচনটা যথাযথভাবে করা নিশ্চিত করতে চাই। এটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্ববহ বিষয়। যদি নির্বাচন ভুল হয়, তাহলে এই বিষয়টার আর সমাধান হবে না…।
ড. ইউনূস বলেন, ‘১৭ বছর পর আমরা সত্যিকারের একটি নির্বাচন করতে যাচ্ছি। যা আমাদের ইতিহাসে সবচেয়ে সুন্দর নির্বাচন হবে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘কেবল একটি নতুন সরকার নির্বাচনের জন্য রক্ত দেয়নি তরুণরা।’ নতুন বাংলাদেশ তৈরির জন্য সংস্কার কমিশন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য কমিশন তৈরি করেছি। আমরা তাদের সুপারিশের দিকে তাকিয়ে আছি। আমাদের কাজ হলো সব দলের ঐকমত্য তৈরি করা।







