সম্মেলনের ১০ মাস পর লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। এতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন কম্পানিকে সিনিয়র সহসভাপতি মনোনীত করা হয়। তিনি ৪০-৫০ বছর ধরে সেখানেই ব্যবসা করে আসছেন। কমিটিতে চারজন বহিষ্কৃত, চার প্রবাসী ও চার সরকারি চাকরিজীবীকে পদ দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র ত্যাগী কয়েকজনকে কমিটিতে রাখা না হলেও সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের ভাই ও স্ত্রীর নামও রয়েছে। এ নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।এদিকে সম্মেলনের দিন কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত ও জেলার শীর্ষ নেতারা ১৩টি সম্পাদকীয় পদ ঘোষণা করেছিলেন। এর তিনজনকে রাখা হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে।
দলীয় সূত্র জানায়, গেল বছরের ১২ মে কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। সম্মেলনের ১০ মাস পর মঙ্গলবার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু ও সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেন।সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিরাজ হোসেন শান্ত বলেন, ‘আমি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। আমার পরিবারের সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকাররা হত্যা করেছে। কম্পোজ করা অনুমোদিত কমিটির ৭০ নম্বর ক্রমিকে সদস্য পদে আমার নাম ছিল। টাকার বিনিময়ে সাদা কালি দিয়ে মুছে কলম দিয়ে চিহ্নিত রাজাকারের ছেলে এ কে এম রাশেদ বিল্লাহর নাম বসানো হয়েছে।’
উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন বাপ্পি বলেন, কমিটিতে দলের ত্যাগী-দুর্দিনের অনেক নেতার নাম নেই। আছে বিএনপি-জামায়াত নেতা, প্রবাসী ও চাকরিজীবী।
কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম নুরুল আমিন মাস্টার অভিযোগ করে বলেন, ‘টাকার বিনিময়ে অন্তত ৩০ জনের কাছে পদ বিক্রি করা হয়েছে।’তবে কমিটি গঠনে কোনো টাকা লেনদেন হয়নি দাবি করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমার স্ত্রীসহ ছয়জন নারীকে কমিটিতে রেখেছি। তাঁরা রাজনীতিতে সক্রিয়। বহিষ্কৃত ও বিদ্রোহীদের সাধারণ ক্ষমা করা হয়েছে।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়গুলো নিয়ে আমরা ঈদের পর বসব।’
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু বলেন, ‘অভিযোগ লিখিতভাবে জানালে আমরা ব্যবস্থা নেব।’
Post Views: 294
Related