হ্যাঁ। না হলে আমি পাশ করলাম কি করে?!!
দেখ বাপু, লেটস গো ব্রাস ট্যাকস… অর্থাৎ এক্কেরে গোড়ায় শুরু করি।
যদি প্রেম আর পড়াশোনা একসাথে না চালানো যায় তবে ভবিষ্যতে – স্ত্রী, সন্তান, পিতা মাতার দায়িত্ব থাকাকালীন চাকরি/ব্যবসা/ গবেষণা করবেন কি করে???!!
আপনার কি ধারণা জীবন বড় হলে সরল হয়???
কবি বলেছেন –
রাজি হয়ে পাঠ নিতে, নিতে হেঁয়ালির
বাজি হয়ে আমি ফেটে গেছি দিওয়ালির
প্রেম, ভালবাসা নামে এই বাওয়ালির
তার চেয়ে সোজা সালভাদোর দালির
ছবি বোঝা, বেশি সোজা।
সবটাই নির্ভরশীল আপনার ওপর।
যে মুহুর্তে আপনি শিরদাঁড়া সোজা করে নিজের জীবনের হালটা কষে ধরবেন, এই প্রেম, পড়াশোনা ব্যাপার গুলি নিজের নিজের বাক্সে পড়ে যাবে , তারপর সোজা হাঁটা।
এবার সমস্যাটা হবে যখন দুই বাক্সের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধবে।
কার গুরুত্ব বেশি, শ্যাম রাখি না কূল?
এক্ষেত্রে ছোট্ট লাভ-ক্ষতির হিসাব দিয়ে বোঝাই।
আমার ব্রেকআপ পুজোর পর, দু মাস হেব্বি কষ্ট, মদ খাচ্ছি, কবিতা লিখছি, রুট লোকাসের অঙ্ক দেখলে গোলাপ ফুলে কাঁটার কথা ভাবছি। বেশ নধরকান্তি দেবদাস টাইপ অবস্থা। ডিসেম্বরএ সেমিস্টার। অপারেটিং সিস্টেম পরীক্ষার তিন দিন আগে একদিন আয়না দেখলাম।
একে তো পরের চাপে প্রেমটার বারোটা বাজছে, তারওপর মধ্যবিত্তের ছেলে, সেম টা গেলে স্বপ্ন ছেতরে পাঁপড় হয়ে যাবে।
অতঃপর হস্টেলের ছাদে গিয়ে হুহু কান্না ও তারপর কাজে বসা। আত্মমর্যাদা বোধটা প্রবল। চাপ কেটে গেসল। দুঃখ কমেনি, কিন্তু সেটাকে কাজের থেকে আলাদা করা গেলেই ফতে।
সেই মেয়েকে দোষ দেব না, সে রোজ পরীক্ষার আগে ফোন করে বলত… ডুড হোয়াটেভার হ্যাপেনস, ডোন্ট ওয়ারি।
সেই বছরটা আজ অবধি সবচেয়ে কঠিন গেছে। কিন্তু শিক্ষা দিয়ে গেছে।
- যারা বিপদে পাশে দাঁড়ায়, তারা ছাড়া কারো তোয়াক্কা করতে নেই।
- যা নিজের বিবেকে করতে বাঁধছে, করতে নেই।
- যার নিজের পয়সায় খাওয়াপড়ার মুরোদ নেই, তার প্রেম করার অধিকার আছে, কিন্তু প্রেমিকার সাথে জীবন কাটানোর অধিকার নাই। তার কারণ যেমন চাল ছাড়া বিরিয়ানি রাঁধা যায় না, পয়সা ছাড়া বাঁচা যায় না।
- শিক্ষা জীবনে সফল হওয়ার একটা ধাপ – শিক্ষা বলছি, ডিগ্রি না। রান্না করা, দোকানের কাজ শেখা, সেলাই, ছুতোরের কাজ, সবই শিক্ষা। শিক্ষা ছাড়া সংস্থান হয় না, সংস্থান ছাড়া জীবনে হাজার যন্ত্রনায় কাবু হয়ে আমরা ছোট ছোট খুশির মুহুর্ত, ভালবাসা, শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব হারিয়ে ফেলি!
আবার প্রশ্ন করি – কার গুরুত্ব বেশি, শ্যাম রাখি না কূল?
বলি – শিক্ষা ও প্রেম, জীবনের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রান্তকে একসাথে পাশাপাশি রেখে চলতেই হবে, না হলে খুশি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাই সমাধান বের করতে হবে নিজেকেই।
যথা, পরীক্ষার আগের সপ্তাহে প্রেমিকার জন্মদিন জরুরি নয়, আবার তার পরীক্ষার আগে তাকে ইন্টিগ্রেশন বোঝানোটা খেলতে যাবার চেয়ে বেশি জরুরি। এই আরকি।
দীর্ঘ উত্তরের জন্যে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।









