ঈদের দুদিন আগে থেকেই রাজধানীতে গাড়ির চাপ তেমন নেই। সড়কে লোকজনও কম অন্যান্য সব সময়ের চাইতে। শূন্য রাজধানীতে চলছে যাত্রী সংকট। দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হচ্ছে রিকশা ও সিএনজি চালকদের। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ যাত্রীদের। এই কারণে কাছাকাছি পথ পায়ে হেটেই পারি দিচ্ছেন অনেকে।
তবে ঈদের লম্বা ছুটি কাটিয়ে ফাঁকা ঢাকায় লোকজন আসতে শুরু করেছেন। সংশ্লীষ্টারা মনে করছেন, রোববার থেকে আগের চেহারায় ফিরে আসবে রাজধানী।
বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় রাজধানীর মগবাজার, মৌচাক, মালিবাগ, বাড্ডা, গুলশান, বনানী, ফার্মগেট, মিরপুর, আসাদগেট, শ্যামলী, নিউমার্কেট এলাকায় ঘুড়ে দেখা গেছে যানজট নেই। সড়কগুলোতে প্রাইভেট কার ও বাস ছাপিয়ে রাজত্ব করছে রিকশা ও অটোরিকশা। তবে যাত্রী না থাকায় দীর্ঘ সময় একই স্থানে বসে থাকতে হচ্ছে রিকশা ও অটোরিকশা চালকদের।
গুলশান ১ নম্বরে দাড়িয়ে থাকা সিএনজি চালক কামাল সোনালীনিউজকে বলেন, ঢাকা তো ফাঁকাই। যাত্রী পেলে মুহুর্তেই চলে যাওয়া যাচ্ছে গন্তব্যে। অন্যান্য সময়ের তুলনায় ভাড়া কিছুটা কম পেলেও পোশায়। এই সময়টাতে কোনো জ্যাম নেই। তাই গন্তব্যে যেতে অতিরিক্ত গ্যাস পোড়াতে হচ্ছে না। কিছুটা কমেও লাভ পাওয়া যায়। সমস্যা অন্য জায়গায়। ফাঁকা ঢাকায় যাত্রী সংকট চলছে। এক যাত্রী নামিয়ে দিয়ে আরেক যাত্রী পেতে ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে যাচ্ছে।
আরেক সিএনজি চালক শামিম বলেন, যাত্রী শূণ্য ঢাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে। ঈদের ২য় দিন কিছুটা যাত্রী ছিলো। কিন্তু এরপর যাত্রী খরা শুরু হয়। এই খরা এখনো চলছে। তবে আমরা আশা করছি শুক্রবার সকাল থেকে লোক আসা শুরু হবে। শনিবারও আসবে এবং রবিবার থেকে আগের চেহারায় ফিরে আসবে রাজধানী।
তিনি বলেন, এই সময়টাতে আমাদের কিছুটা ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হতে হয়। যার কারনে গত দুই দিন ধরে আমি অটোরিকশা নিয়ে বের হইনি। আজকে বেড়িয়েছি। আশা করি কালকে থেকে যাত্রী পেতে শুরু করবো।
আসাদগেটের রিকশা চালক কুদ্দুস বলেন, ‘মামা কেউ নাই ঢাকা। ইয়াং পোলাপান আগে রিকশা নিয়ে ঘুরতো। কিন্তু এখন আর সেই দিন নাই। এখন সবার কাছেই মোটরসাইকেল আছে। সেটা নিয়েই ঘুরে বেড়ায়। তবে কিছু যাত্রী আছে যারা রিকশায় ঘুরতে চায়। তারা আবার ভাড়া ঠিক মতো দিতে চায় না। তারপরও উঠলে সব রাস্তায় যেতে পারি না। এজন্য অনেক যাত্রী উঠতে চায় না।
নিউমার্কেটে দাঁড়িয়ে থাকা আলাউদ্দিন জানান, মামা গরমে কেউ বাসা থেকে বের হয় না। ঈদের দিনসহ তিন দিন যাত্রী ছিলো। কিন্তু এখন অনেক সময় বসে থাকতে হয়। যাত্রী পাওয়া যায় না। সন্ধ্যার পর কিছু যাত্রী পাওয়া যায়। কিন্তু তারা আমাদের চাহিদা মতো ভাড়া দিতে চায় না। ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডাও ঘটে।
মগবাজারে সিএনজির জন্য অপেক্ষা করছিলেন প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরিরত সিহাব আহমেদ। তিনি বলেন, মগবাজার থেকে সাধারণ সময়ে বনানী যাওয়া আসা করেন ২২০ থেকে ২৫০ টাকায়। কিন্তু এখন তো রাস্তা খালি তারপরও ভাড়া চাওয়া হচ্ছে একই। তার সঙ্গে ভাড়ায় মিলছে না। তাই দাঁড়িয়ে আছেন। রাস্তায় জ্যাম নাই। তাই এখন ভাড়া হওয়া উচিৎ ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা।
ফার্মগেটে রিকশার অপেক্ষায় থাকায় আকশ আহমেদ বলেন, সাতরাস্তা পর্যন্ত ২০ টাকা ভাড়া। কিন্তু এখন চাচ্ছে ৩০ টাকা। এই অবস্থায় কিভাবে চলবে। মানুষের বেতন তো বৃদ্ধি পায়নি। কিন্তু রিকশা চালকদের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে আমাদরে সমস্যা বাড়ছে।
ঝিনাইদহ থেকে আসা তরিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের অফিস খুলেছে সোমবার। কিন্তু আমি একটু বেশি ছুটি নিয়েছি। তাই আজকে আসলাম। রবিবার থেকে অফিস করবো। এই দুই দিন ঢাকায় একটু ঘুরবো। বেশির ভাগ মানুষই আজকে ঢাকায় আসছেন।
হানিফ বাসের ম্যানেজার কামাল বলেন, উত্তর ও দক্ষিণের যাত্রীরা ঢাকায় আসছেন বাসে। পদ্মা সেতু ব্যবহার করছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। উত্তরের সড়কে হালকা জ্যাম থাকায় বাস আসতে দেড়ি হচ্ছে, কিন্তু আসছে। শুক্রবার ও শনিবার প্রচুর লোক ঢুকবে ঢাকায়। উত্তর বঙ্গের বিভিন্ন গন্তব্যের সব বাসই ফুল হয়ে আসছে। তাই বলাই যায় রবিবার ঢাকা আগের চেহারা ফিরে পাবে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, শুক্রবার রাত ও শনিবার রাতে প্রচুর বাস ঢুকবে ঢাকায়। এই সময়টাতে যাতে ছিনতাইকারীরা কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে কঠোর নজর দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রতিটি জোনে এই বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ডিউটি ভাগাভাগি করা হয়েছে ঈদের আগেই। আশা করি ঘরে ফেরা মানুষ নির্বিঘ্নে বাসায় ফিরতে পারবেন।








