জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ ও পটুয়াখালীর বাউফল আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ, তাঁর স্ত্রী দেলোয়ারা সুলতানা এবং ছেলে রায়হান শাকিবের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (২১ অক্টোবর) পটুয়াখালী দুদকের উপপরিচালক তানভীর আহমদ বাদী হয়ে এই তিনটি মামলা দায়ের করেন। মামলাগুলোর নম্বর হলো—৬, ৭ ও ৫।
দুদকের এজাহারে বলা হয়েছে, সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ সরকারি পদে থেকে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁর বৈধ সঞ্চয় ছিল ৮ কোটি ৬৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯৫৩ টাকা, অথচ ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ পাওয়া গেছে ১১ কোটি ৯৫ লাখ ৯৬ হাজার ৪৩৭ টাকা। অর্থাৎ, বৈধ আয়ের উৎসের বাইরে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৪৮৪ টাকা। এর কোনো বৈধ উৎস তিনি দেখাতে পারেননি।
একই অভিযোগে মামলা হয়েছে তাঁর স্ত্রী দেলোয়ারা সুলতানার বিরুদ্ধেও। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেলোয়ারার বৈধ সঞ্চয় ছিল ৫০ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫ টাকা, কিন্তু ঘোষিত সম্পদ পাওয়া গেছে ১ কোটি ৫১ লাখ ১৩ হাজার ১৪৯ টাকার। বৈধ আয়ের উৎসের বাইরে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ১ লাখ ১ হাজার ৬৫৪ টাকা।
তৃতীয় মামলাটি দায়ের হয়েছে ফিরোজের ছেলে রায়হান শাকিবের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁর বৈধ আয় ছিল ২ কোটি ৭০ লাখ ২৫ হাজার ১২০ টাকা, কিন্তু তাঁর নামে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার ৮৩৪ টাকার সম্পদ। বৈধ আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি ২১ লাখ ৮৫ হাজার ৭১৪ টাকা।
দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত তিনজনই তাদের সম্পদের প্রকৃত উৎস গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেছেন।
এ ঘটনায় বাউফল ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ফিরোজ পরিবার।







