ঢাকা, ০৭ মার্চ, ২০২২
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
আজ ৭ মার্চ, ২০২২, সোমবার, দুপুর ২টায় বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের কালজয়ী ভাষণের ৫১তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’-র উদ্যোগে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়।
উক্ত ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’র সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির।
সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইন্সটিটিউটের সাম্মানিক সভাপতি নাট্যজন মুক্তিযোদ্ধা রামেন্দু মজুমদার, নির্মূল কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা সমাজকর্মী রোকেয়া কবীর, নির্মূল কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক শহীদসন্তান অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী, নির্মূল কমিটির বহুভাষিক সাময়িকী ‘জাগরণ’-এর যুগ্মসম্পাদক লেখক সাংবাদিক সাব্বির খান, নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য শাখার নির্বাহী সভাপতি মানবাধিকারকর্মী সৈয়দ এনামুল ইসলাম, নির্মূল কমিটির অস্ট্রেলিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকারকর্মী জুয়েল তালুকদার, নির্মূল কমিটির বোস্টন শাখার সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকারকর্মী মাহাফুজুর রহমান, নির্মূল কমিটির বহুভাষিক সাময়িকী ‘জাগরণ’-এর হিন্দি বিভাগের সম্পাদক ভারতের সমাজকর্মী তাপস দাস, টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি ফোরাম ফর হিউম্যানিটি তুরস্কের সাধারণ সম্পাদক লেখক ও চলচ্চিত্রনির্মাতা শাকিল রেজা ইফতি, নির্মূল কমিটির মানিকগঞ্জ শাখার সভাপতি এডভোকেট দীপক ঘোষ এবং নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকার নেতা কাজী মুকুল।
১৯৭১-এর ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ শোনার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে নির্মূল কমিটি’র সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহা, বাঙালি জাতিসত্ত্বার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র এবং বাংলাদেশে গণহত্যার প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে যখন বঙ্গবন্ধু ’৭১-এর ৭ মার্চের অবিস্মরণীয় ভাষণে ঘরে ঘরে দুর্গ তৈরি করে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করবার আহ্বান জানান। ৭ মার্চের এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু আরও বলেছিলেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব।’ তারপরই বলেছিলেনÑ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এই একটি আহ্বান সমগ্র জাতির চেতনায় স্বাধীনতা ও শোষণ-পীড়ন মুক্তির যে বোধ সঞ্চারিত করে তা মূর্ত হয়েছে পরবর্তী নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে, যা ছিল সার্বিক অর্থে একটি গণযুদ্ধ। এই চেতনারই প্রতিফলন ঘটেছে ’৭২-এর সংবিধানে রাষ্ট্রের চার মূলনীতির ভেতর।’
শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, ‘উচ্চতর আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বঙ্গবন্ধুর ভাষণসহ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং বাঙালির অসাম্প্রদায়িক মানবতার ইতিহাস সকল মাধ্যমের পাঠক্রমে, প্রাথমিক পর্যায় থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে আমরা দাবি জানাচ্ছিÑ বিশ্ব ঐতিহ্যের এই অমূল্য সম্পদ বিশ্বের সকল গুরুত্বপূর্ণ ভাষায় অনুবাদ করতে হবে।’
বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইন্সটিটিউটের সাম্মানিক সভাপতি নাট্যজন মুক্তিযোদ্ধা রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ১৯ মিনিটের ভাষণটি শুনে আমরা এখনো শিহরিত হই, উদ্দীপ্ত হই। আমরা সকলে ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর নিকট থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা শুনতে চেয়েছিলাম কিন্তু সকলকে অবাক করে দিয়ে তাঁর গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন বটে কিন্তু তা পরোক্ষভাবে যাতে পাকিস্তান সরকার যেন তাঁকে বিচ্ছিন্ন করতে না পারে। এই ভাষণের জন্যই তিনি রাজনৈতিক কবি হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। বঙ্গবন্ধু এই ভাষণটি আমাদের চিরকালের প্রেরণা সুতরাং এই ভাষণটিকে আমাদের প্রাথমিক থেকে উচ্চতর শিক্ষা মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’
বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদার মন্তব্য করে নির্মূল কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ই মার্চ এমন একটি দিন যেদিন বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের দিক-নির্দেশনা দেন। এ ভাষণ বিশ্ব ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত যা ইউনেস্কো ২০১৭ সালে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যে নথিভূক্ত করে। ৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা থেকে শুরু করে বিশ্বের অনেক নেতাই এ বক্তব্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘দীর্ঘ ২৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা এবং পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যে শাসন-শোষণ চালিয়েছিল তার ইতিহাস এবং সাম্প্রদায়িকতার কুফল বঙ্গবন্ধু তাঁর ১৯ মিনিটের বক্তব্যে পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। তাঁর এই বক্তব্য ছিল ’৫২ থেকে ’৭১ সাল পর্যন্ত প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ের যন্ত্রণার বহিঃপ্রকাশ। পাকিস্তানি সরকার যখন বঙ্গবন্ধুর দাবিগুলো একের পর এক প্রত্যাখ্যান করছে এমন সময় তিনি নিরুপায় হয়েই দুঃখ-ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে বাঙালি জনগণকে নিজেদের অধিকার আদায় করার নিমিত্তে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দেন।’
৭ই মার্চের ভাষণটি রেসকোর্স মাঠে উপস্থিত থেকে শোনার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা সমাজকর্মী রোকেয়া কবীর বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যখন ভাষণ দেয়ার জন্য স্টেজে উঠেছিলেন তখন তাঁকে পেছন থেকে ছাত্ররা স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করলেও তিনি রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে ঘোষণাটি সরাসরি দেননি। ৭ই মার্চের ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর তাঁর যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতা প্রতিফলিত করেছিলেন। তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এর জন্য তিনি দীর্ঘ সময় ধরে যে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তা কাজে পরিণত করার জন্য “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম” বলে স্বাধীনতার ডাক দেন।’
নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকার নেতা কাজী মুকুল বলেন, ‘৭ই মার্চের ভাষণটি ছিল বাংলাদেশ সৃষ্টির মূল ভিতÑ যার উপর ভিত্তি করে ’৭২-এর সংবিধান প্রণীত হয়। আমাদের উচিত নতুন প্রজন্মের নিকট ৭ই মার্চের ভাষণটির অসাম্প্রদায়িক ও সংগ্রামী মর্মবাণী পৌঁছে দেয়া এবং সকল স্তরের পাঠ্যসূচিতে এই ভাষণটি অন্তর্ভুক্ত করা।’
নির্মূল কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক শহীদসন্তান অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্বের অবিসংবাদিত নেতাদের যে অবিস্মরণীয় ভাষণগুলি চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে তার ভিতর বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি অনন্য। কেননা, ৭ই মার্চের ভাষণটি একটি দেশের প্রেক্ষাপটকে পরিবর্তন করে দিয়েছিল। শুধু তাই নয়, ভাষণটির প্রতিটি কথাই প্রতিফলিত হয়েছে বর্তমান বাংলাদেশে। মার্টিন লুথার কিং সাদা-কালো মানুষের বৈষম্য ঘুচিয়ে দেয়ার জন্য ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’ খ্যাত ভাষণটি অনেক বিখ্যাত হলেও সে ভাষণের প্রতিফলন আজও ঘটেনি যেখানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের প্রতিফলন ঘটেছে বাংলাদেশ সৃষ্টি এবং বাংলাদেশের মূল সংবিধানে।’
নির্মূল কমিটির বহুভাষিক সাময়িকী ‘জাগরণ’-এর যুগ্মসম্পাদক লেখক সাংবাদিক সাব্বির খান বলেন, যে আকাক্সক্ষা ও প্রত্যয় বুকে ধারণ করে বাঙালি জাতি একাত্তরে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে একটি স্বাধীন দেশ, পতাকা ও মানচিত্র পেয়েছিলো, সে সবই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। এই চেতনা মূল চাবিকাঠি ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা’Ñ এই চার নীতি বাঙালি জাতিকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেছিলো। স্বাধীনতার দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরে এই দুইয়ের বিচ্ছেদ ঘটাতে এবং বাঙালি জাতির সংস্কৃতি থেকে মুছে ফেলতে একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা যে বিরামহীন অপচেষ্টা চালিয়েছে, তাকে রুখে দাঁড়ানোই হোক আধুনিক প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ। সে যুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি হতে হবে একাত্তরের চেতনা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং বাহাত্তরের সংবিধান। একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের দিকনির্দেশনাই হোক বাঙালি জাতির পথ চলার প্রেরণা।’
নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য শাখার নির্বাহী সভাপতি মানবাধিকারকর্মী সৈয়দ এনামুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু অভিন্ন। বাংলাদেশের ইতিহাস পাঠ করলে যেমন বঙ্গবন্ধুকে পাওয়া যায়, তেমনি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন ও কর্মে বাংলাদেশের পরিচয় নিহিত। জয় বাংলা শ্লোগান যেমন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, তেমনি ধর্মের নামে রাজনীতি না, জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্র নীতি, শোষিতের গণতন্ত্র, নারীর সমানাধিকার, ধন ও সুযোগে বৈষম্যহীন সমাজও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। বঙ্গবন্ধু জীবনের শেষ দুই বছর রাষ্ট্রীয় কর্মচারী, শিক্ষিত ও বিত্তশালীদের দুর্নীতি ও শোষণের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন। তাও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অংশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী আদর্শ ও শক্তি কি? পাকিস্তানের চব্বিশ বছরের শাসনে যা কিছুকে বঙ্গবন্ধু ‘না’ বলেছেন এবং নিজে করেছেন তার সব কিছুই। তাই আমি পাকিস্তানি ভাবধারার কোন কিছুকে গ্রহণ করা মানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি বেইমানি। ‘জয় বাংলা’ না বলা যেমন মুক্তিযুদ্ধ বিরোধিতা তেমনি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সমর্থন করাও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধিতা করার শামিল।’
নির্মূল কমিটির অস্ট্রেলিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকারকর্মী জুয়েল তালুকদার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্যে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে যে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রচিত হয়েছিল তাকে মনে প্রাণে ধারণ করাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। ইতিহাস বিকৃতির মধ্যে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস ও বঙ্গবন্ধুকে মানুষের মন থেকে মুছে ফেলাই ছিলো স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির একমাত্র লক্ষ্য। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মতো ইতিহাস বিকৃতকারীদেরও বিচারের প্রয়োজন। স্কুল কলেজের পাঠ্যসূচীতে ইতিহাস বিকৃতকারীদের মুখোশ উন্মোচন করার মাধ্যমেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধরে রাখা সম্ভব।’
নির্মূল কমিটির বোস্টন শাখার সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকারকর্মী মাহাফুজুর রহমান বলেন, ‘যেন সক্রেটিস এর দার্শনিক-নেতা, নির্মলেন্দু গুনের “রবীন্দ্র নাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেটে।..এলেন কবি…” বঙ্গবন্ধু হলেন সেই রাজনীর বিরল কবি যাঁর আবির্ভাব না হলে বাংলাদেশ একটি জাতি রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর বুকে আত্মপ্রকাশ করতো না- এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত থাকার অবকাশ নেই। হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙালি রাষ্ট্রনায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর পদচারণ এর ছন্দে ছন্দে, তাঁর অমোঘ বাণী, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম” বাঙালির মনের সব দ্বিধাকে দূর করে সাড়ে সাত কোটি মানুষকে মুক্তির সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করে। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ এক কবির কবিতা। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ এক বহুমাত্রিক চিত্রকর্ম যার বিস্ময় আবিষ্কার করতে আমাদের বহুযুগ কেটে যাবে।’
নির্মূল কমিটির বহুভাষিক সাময়িকী ‘জাগরণ’-এর হিন্দি বিভাগের সম্পাদক ভারতের সমাজকর্মী তাপস দাস বলেন, ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে পূর্ব বাংলার জনগণ, বাঙালি জাতির নিজ রাষ্ট্রের যে স্বপ্ন দেখেছিল, সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপকার ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। যৌবনের গুরত্বপূর্ণ ১৪ বছর কারাবাস বরণ করে, ২৪ বছর ধরে বাঙালি জাতির সমস্ত স্বপ্নকে এক সুতোয় বেধে প্রথমে ছয় দফা এবং ৭ই মার্চের জ্বালাময়ী ভাষণের মধ্যে দিয়ে বাঙালি জাতির মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন এবং ভারত ভাগের ২৪ বছর ধরে পূর্ব বাংলার বাঙালিরা যে ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক দেশের স্বপ্ন দেখেছিল তার আইনি বাস্তবরূপের প্রকাশ ঘটান তিনি বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানের মধ্যে দিয়ে।’
টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি ফোরাম ফর হিউম্যানিটি তুরস্কের সাধারণ সম্পাদক লেখক ও চলচ্চিত্রনির্মাতা শাকিল রেজা ইফতি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ সেই ’৭১ সালের প্রেক্ষাপটে যেমন মুক্তিকামী বাঙালিদের উজ্জীবিত করেছিল, একই রকমভাবে আজ এতো বছর পরে এসেও বাঙালিদের কাছে ভাষণটির আবেদনের বিন্দুমাত্র কমতি ঘটেনি। ‘পৃথিবীর বুকে মানবতার ইতিহাসে এ এক অনন্য দলিল,’ জনপ্রিয় তুর্কি লেখক হাকান মেনগুছ তেমনটাই মনে করেন। শুধু হাকান নন, তুর্কি ভাষায় নির্মিত ‘তুর্কিয়ে বঙ্গবন্ধুয়ু আনিওর’ (তুরস্কে বঙ্গবন্ধু) শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্রে এই ভাষণ সম্পর্কে তুরস্কের বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দের ভাবনা আমি তুলে ধরেছি। সবার মতে এই ভাষণটির কাব্যিক ও বলিষ্ঠ প্রকাশ পৃথিবীতে বিরল। তুর্কি কবি তারিক গুনেরসেল ভাষণটি তুর্কি ভাষায় অনুবাদ করেছেন, তাঁর মতে, ‘একজন রাজনীতিবিদ হওয়া সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তাঁর এই সুচিন্তিত ও স্পষ্ট ঐতিহাসিক ভাষণটিতে।’
নির্মূল কমিটির মানিকগঞ্জ শাখার সভাপতি এডভোকেট দীপক ঘোষ বলেন, ‘৭ মার্চের ভাষণ বঙ্গবন্ধু ‘বিসমিল্লাহ’ বলে শুরু করেননি, যদিও সেটা ছিল পাকিস্তান আমলে। ভাষণের শেষে তিনি ‘খোদা হাফেজ’ বা ‘আল্লাহ হাফেজ’ও বলেননি। এখনকার আওয়ামী লীগ নেতারা যদি এইটুকু উপলব্ধি করতে পারেনÑ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলা গড়া অনেক সহজ হবে।’








