আব্দুল কাদের, বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাাঁর বদলগাছী কোলাহাটে সড়ক সংস্কার কাজ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত জটিলতায় সড়কের দু’পাশে খনন করে সংস্কার কাজ বন্ধ রাখায় জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সড়কের দু’পাশ খনন করে কাজ ফেলে ঠিকাদার চলে যাওয়ায় এই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে এলাকায়। তথ্য সংগ্রহকালে স্থানীয় লোকজন জানায় কোলা বাজারের সড়ক ছিল ১০ ফুট প্রশস্ত। কোলা উপজেলার সব চেয়ে বড় হাট হওয়ায় হাটবারের দিন যানজটসহ চলাচলে জন দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। যানজট ও জনদুর্ভোগ এড়াতে হাটের অংশে সড়ক আরসিসি ঢালাই এবং ১৮ ফুট প্রশস্ত করে নির্মান কাজ শুরু করে ঠিকাদার। প্রশস্তকরণ হওয়ায় সড়কের পাশে ২০/২২টি দোকান ঘরের একাংশ ভাঙ্গা পড়বে। ইউনিয়ন পরিষদের জায়গায় হওয়ায় পুরো দোকান ঘর গুলো ভেঙ্গে ফেলার উদ্যোগ নেই চেয়ারম্যান। এ নিয়ে দ্বি-মত দেখা দেয় চেয়ারম্যান আর দোকান মালিকদের সঙ্গে। পরিষদের জায়গায় নির্মিত দোকান ঘর রক্ষায় বেলাল আদালতে মামলা করলে আদালত পরবর্তী শুনানী ন হওয়া পর্যন্ত গত ২২ মার্চ আদালত নালিশী সম্পত্তির উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিলে সড়ক সংস্কার কাজ মুখ থুবরে পড়ে। কোলা বাজারে স্থাপিত সড়কের উদ্বোধনী নাম ফলকে লেখা আছে সময়ান্তর রক্ষনাবেক্ষন কর্মসূচীর আওতায় বজেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী সড়ক (কোলা জিসিÑকীর্ত্তিপুর জিসি বদলগাছী পার্ট) ২৫শ মিটার সংস্কার কাজের জন্য ১ কোটি ৩৯ লাখ ৮৯,৫৯৯ টাকা বরাদ্ধ করা হয়। কাজটি উদ্বোধন করেন ২০২২ সালের ৬ নভেম্বর স্থানীয় সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন তরফদার। উপজেলা এলজিইডি অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায় এ প্রকল্পের কোলা বাজার অংশে ১৫৮ মিটার সড়ক ১৮ ফুট প্রশস্ত করে আরসিসি ঢালাই দিয়ে সড়ক নির্মান করা হবে। তাতে সড়কের পাশে কিছু দোকান ঘরের একাংশ ভাঙ্গা পড়বে। দোকান ঘর গুলি ইউনিয়ন পরিষদের জায়গার উপর নির্মিত। দোকান মালিকরা জানান পরিষদ তাদের লিজ দিয়েছে এবং নিজেরা দোকান ঘর নির্মান করে নিয়েছে। দোকান মালিক বেলাল ও লিখন জানান আমরা সড়ক নির্মান কাজের বিরুদ্ধে নয়। সড়ক নির্মানে ঘর ভেঙ্গে যে পরিমান জায়গা লাগবে আমরা দিব কিন্তু চেয়ারম্যান পুরো ঘর ভেঙ্গে ফেলবে। তাতে আমরা শুধু আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবো তা না আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য নষ্ট হয়ে যাবে। তাই আমরা আদালতে মামলা করেছি। আদালত ভালো একটা সিদ্ধান্ত দিবে এমনটায় আমরা আশাবাদী।
কোলা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সুজাউল ইসলাম কুদ্দুস বলেন সড়কের দু’পাশ খনন করে ফেলে রাখায় সামান্য বৃষ্টি হলে পানি জমে। দেখলে মনে হয় সড়কের মধ্যে লেখ খনন করেছে। জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
কোলা ইউপি চেয়ারম্যান শাহিনুর ইসলাম স্বপন জানায় ঘর ভেঙ্গে সড়কের জন্য জায়গা দিয়ে যে পরিমান ঘর থাকবে তাতে দোকানপাট ভালো হবে না। ঘরের পিছনে হাটের জায়গা রয়েছে। তাই ঘর ভেঙ্গে জামানত নিয়ে নতুন ঘর নির্মান করে দেওয়া হবে তাতে পরিষদ রাজস্ব পাবে। আমার কথা না শুনে দোকান মালিকরা আদালতে মামলা করেছে।
এ কাজের ঠিকাদার রিন্টু খান জানান মামলার কারনে কাজ বন্ধ না থাকলে অনেক আগে কাজ শেষ হয়ে যেত।
উপজেলা প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান আদালতের অস্থায়ী নিষেধাঙ্গার কারনে সড়কের জায়গা সংকুলান হচ্ছে না জন্যই কাজ বন্ধ রয়েছে। জটিলতা সমাধান না হলে প্রকল্প বাতিল হয়ে যাবে।







