আমার আগে আরো ১৪ জন উত্তর দিয়েছেন। উনারা অনেক ধরনের ব্যবসার কথা লিখেছেন। তাদের তেমন তথ্য-সমৃদ্ধ লেখার জন্য ধন্যবাদ।
অন্যরা উত্তর লেখার পরেও, আমি সেই একই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি। এর কারন হলো – ওই “লাভজনক ব্যাবসা” জিনিসটা ভালোভাবে চেনা।
আমরা সবাই “লাভজনক ব্যবসা” কথাটা বারবার বললেও, এর প্রকৃত অর্থ বুঝি না।
১০০ টাকায় কিনে, ১৩০ টাকায় বিক্রি করলে বেশি লাভ, নাকি ১৮০ টাকায় বিক্রি করলে বেশি লাভ?
আবার, ১০০ টাকায় কিনে ১৮০ টাকায় বিক্রি করলে বেশি লাভ ; নাকি ৫০ টাকায় কিনে ১৮০ টাকায় বিক্রি করলে বেশি লাভ?
কি বুঝলেন?
- লাভ = বিক্রয়মুল্য – মোট খরচ
লাভ জিনিসটা হলো বিক্রয়মুল্য ও খরচের পার্থক্য। এই পার্থক্যটা যত বেশি, তত বেশি লাভজনক।
একজন শিল্পপতি ৫ কোটি টাকা খরচ করে, ৫ কোটি ২৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করেছে। অর্থাৎ ৫% লাভ করেছে।
ওদিকে একজন চা-ওয়ালা ৫০ হাজার টাকা খরচ করে, ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে। অর্থাৎ ২০% লাভ করেছে।
- বিষয়টা ভালোভাবে বুঝুন – চা-ওয়ালা লোকটি, ওই শিল্পপতির তুলনায় চার গুন বেশী লাভ করেছে।
শিল্পপতির চেয়ে চা-ওয়ালার ব্যবসা অনেক বেশি লাভজনক। এজন্য কি আপনি চা-ওয়ালা হবেন? নাকি শিল্পপতি হতে চাইবেন?
লাভজনক ব্যবসার হিসাব করলে, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি লাভজনক ব্যবসা হলো – ভিক্ষা, পতিতাবৃত্তি ও মাজার।
এসব ব্যবসায় কোন মূলধন, খরচ, ইত্যাদি নেই। পুরোটাই লাভ। এর চেয়ে লাভজনক ব্যাবসা আর নেই।
কি বুঝলেন?
আপনি আসলে লাভজনক ব্যবসা চান না। আপনি চান সন্মানজনক ও সফল ব্যবসা।
- আবার বলুন, কি চান? সন্মানজনক ও সফল ব্যবসা।
সন্মানজনক ব্যবসা শুরু করাটা সহজ, কিন্তু সফল হওয়া কঠিন। সেই কঠিন কাজের কথা চিন্তা করেই, বেশিরভাগ মানুষ ব্যবসা শুরু করতে পারে না।
আল্লাহর নামে সন্মানজনক ব্যবসা শুরু করুন। সততা ও নিষ্ঠার সাথে ব্যবসা করুন। কাস্টমারদের না ঠকিয়ে, তাদেরকে ভালো পণ্য ও সেরা সেবা দেবার চেষ্টা করুন। আল্লাহর কাছে বারবার সাহায্য চাইতে থাকুন। ধীরে হলেও, অবশেষে সাফল্য আসবে।








