এরপর ১৯৮৬ সালে যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো ইউনিভার্সিটি থেকে প্রাণরসায়ন বিভাগে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ড. জেবা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন এবং আণবিক জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
ড. জেবা ইসলাম সিরাজ ২০২৪ সালের ১লা জুলাই বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)’র প্রফেসর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ২০১৫ সাল থেকে ঢাবির আওতাধীন ‘সেন্টার ফর বায়োইনফরমেটিক্স লার্নিং অ্যাডভান্সমেন্ট সিস্টেমেটিক্স ট্রেনিং’ এর পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ঢাবির প্রাণরসায়ন এবং আণবিক জীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপার্সন হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।
এছাড়াও ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস, অস্টিনের ভিজিটিং রিসার্চার এবং বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভিজিটিং সাইন্টিস্ট হিসেবে কিছুকাল কাজ করেছেন ড. জেবা। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুলের প্রাণরসায়ন বিভাগের পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবেও কিছুদিন কাজ করেছেন তিনি। বায়োমলিকিউলার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ‘সোসাইটি ফর গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অব বাংলাদেশি বায়োটেকনোলজিস্টস’ এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারের ‘কোর কমিটি অন বায়োসেইফটি’ এর সাইন্টিস্ট হিসেবে কাজ করছেন ড. জেবা।
গবেষণা ও কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ড জেবার ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। এর মধ্যে ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাংক থেকে প্রাপ্ত পুরস্কার, ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড অ্যাওয়ার্ড (২০১৬), অনন্যা পুরস্কার (২০১৬), বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড (২০১২), সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন এজেন্সি অ্যাওয়ার্ড (২০১০), ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার অ্যাওয়ার্ড (২০০৮), ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড (২০০৫), জেনারেশন চ্যালেঞ্জ প্রোগ্রাম অ্যাওয়ার্ড (২০০৫), রকফেলার ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড (১৯৯০) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর ৭৪ টি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৭ সালে লবণাক্ততা থেকে ফসলকে কিভাবে রক্ষা করা যায়- এ বিষয়ে ‘টেড-এক্স’ এ বক্তব্যও দিয়েছিলেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করার সময় লবণ সহিষ্ণু ট্রান্সজেনিক ধানের জাত উদ্ভাবন করেছিলেন ড. জেবা। ধানের এন্ডোস্পার্মে ভ্যাকসিন হিসেবে ব্যবহারের জন্য নিউকোসাল কলেরা নামক এন্টিজেন উদ্ভাবন করেছিলেন তিনি। ধানের বীজের মধ্যে উৎপাদনের জন্য কলেরা এবং টিবি অ্যান্টিজেনের ক্লোনিংও করেছিলেন তিনি। এছাড়াও ফ্লুরোসেন্ট মার্কার ব্যবহার করে বাংলাদেশি ধান ৬৩, ৬৭, ৭৪-এ একাধিক লবণ সহিষ্ণু QTLs (ডিএনএ-এর অঞ্চল যা ফিনোটাইপিক ভেরিয়েশনকে প্রভাবিত করে) প্রবেশ করাতে সক্ষম হয়েছিলেন ড. জেবা।








