বাংলাদেশ এখন শতভাগ ডিজিটাল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, ‘সকলের হাতে হাতে এখন মোবাইল ফোন। কে দিয়েছে এই মোবাইল ফোন? আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এই মোবাইল ফোন দিয়েছে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন ওয়াই-ফাই এসেছে। এটাই ডিজিটাল বাংলাদেশ।’
শনিবার (১১ মার্চ) ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ ময়দানে বিভাগীয় জনসভায় যোগ দিয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এসময় ময়মনসিংহে ৭৩টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি ৩০টির ভিত্তিস্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি আপনাদের উপহার দিয়ে গেলাম। আপনারা এসব প্রকল্প রক্ষণাবেক্ষণ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না, ভূমিহীন থাকবে না। কারণ এ দেশ জাতির পিতা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। আমরা ৩৫ লাখ মানুষকে ঘর করে দিয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থেকে মানুষের সম্পত্তি দখল করে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে যাদের ঘরবাড়ি নেই, তাদের বিনা পয়সায় বাড়িঘর করে দিচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত তখন লুটপাট, বোমা হামলা, জঙ্গিবাদ মানুষ হত্যার মতো কাজ করে। তাদের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। বিএনপির ক্ষমতা থাকা মানে নির্যাতন, লুট করা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে উন্নয়ন উপহার দেয় আর বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে নির্যাতন করে।

তিনি বলেন, ‘আমরা নতুন নতুন স্কুল করেছি। ২৬ হাজার নতুন প্রাইমারি স্কুল সরকারিকরণ করেছি। আজকে আমাদের স্বাক্ষরতার হার ৭৫.২ শতাংশ।
এরআগে দুপুর আড়াইটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্কিট হাউজ মাঠে পৌঁছান। এসময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাকে বিভিন্ন স্লোগানে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছা বার্তার জবাব দেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী ৫৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ সমাপ্ত ৭৩টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও প্রায় দুই হাজার ৭৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ ও জনগণের শান্তি কামনা করা হয়।
এরআগে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হন জনসভাস্থল সার্কিট হাউজ মাঠে। শেখ হাসিনার এ জনসভায় রেকর্ডসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিতি হয়েছেন। সকাল থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা এসেছেন। জনসভা বিকেলে হলেও দুপুরের মধ্যেই জনসমুদ্র্রে পরিণত হয় ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ মাঠ। প্রধানমন্ত্রীকে সামনে থেকে এক নজর দেখার অপেক্ষায় সবাই। লাখো মানুষের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে জনসভা ময়দান।

জানা যায়, আটটি বিশেষ ট্রেনে নেতাকর্মীরা ময়মনসিংহে পৌঁছান। এছাড়াও পূর্বধলার জারিয়া-ঝাঞ্জাইল স্টেশনে থেকে শত শত মানুষ ট্রেনের ছাদে চড়ে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে যোগ দিয়েছেন।
যেসব প্রকল্প উদ্ধোধন করা হয় :
ময়মনসিংহের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন জায়গায় ছবির ভিত্তিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল, ময়মনসিংহ সদরের চর সিরতায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ডা. মুশফিকুর রহমান শুভ মেমোরিয়াল ইসলামিক মিশন হাসপাতাল, ৩২টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্প, ২১টি বিদ্যালয় ও কলেজের চার তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ময়মনসিংহ জেলায় ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, ময়মনসিংহ সদর উপজেলা পরিষদ নতুন হাসপাতাল নির্মাণ; জামালপুরের মাদারগঞ্জ, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স; ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় গোরবাকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দর, জেলা আইনজীবী সমিতির মূল ভবন, শহীদ অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম ভবন ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজের নবনির্মিত চারতলা একাডেমিক ভবন
এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল নির্মাণ, শেখ রেহানা হল নির্মাণ, রোজী জামাল হল নির্মাণ, সরকারি আনন্দ মোহন কলেজে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট ৫ তলা ছাত্র হোস্টেল নির্মাণ এবং শেরপুর (কানাসাখোলা)-ভীমগঞ্জ-নারায়ণখোলা-রামভদ্রপুর-পরানগঞ্জ, ময়মনসিংহ (রহমতপুর) সড়ক উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

জনসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহাম্মদ হোসেন, মির্জা আজম, সদস্য মারুফা আখতার পপি, সংসদ সদস্য ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু, সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্তসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।







