বাড়ির পাশে রিলেশন করে জীবনে যে পাপ করেছি সেই পাপের ফল ভোগ করতেছি প্রায় ৯ বছর ধরে।আমার বয়স যখন ১৭ ছিলো তখন থেকে আমার বড় আপুর চাচাতো ননদকে আমি খুব পছন্দ করতাম। ওর বয়স তখন ১৪-১৫ হবে।এলাকার অনেকেই তাকে বিয়ে করা স্বপ্ন দেখতো।
সবার মধ্যে আমি ওর পছন্দের তালিকায় ছিলাম। তাছাড়া আমি জানতাম তাকে কিভাবে ইম্প্রেস করতে হয়।
ক্লাস এইটে থাকতেই আমি তাকে প্রোপোজ করি।
কিন্তু ও না করে দেয়। এরপর থেকেই একতরফা ভালোবাসি প্রায় ২ বছর।
ওর স্কুলের পাশেই একটা কেজি স্কুলে আমি জব করতাম।
তখন ইন্টার পাশেই জবে প্রবেশ করি।
প্রতিদিন যোহরের নামাজ পড়তে যেতাম ওদের স্কুলের মসজিদে।
একটা সময় ওর ফ্রেন্ডকে আমার কথা বলে যে, আমি ওরে পছন্দ করি।
তখন ওর ফ্রেন্ডরা বলে ছেলে তো পারফেক্ট আছে রাজি হয়ে যা।
আর রাজি না হলে আমরা প্রোপজ করি।
তখন ও ওদের ওপর রাগ হয়।
আর বলে, আমি প্রেম না করলেও আমি চাইনা ওনি কাউকে ভালোবাসুক।
পাশাপাশি বাড়ি হবার কারনে ওর মা প্রায় সময় ফোন ঠিক করার জন্য আমার কাছে আসতো।সাথে ও নিজেও আসতো।এভাবে আমার নম্বর ওদের ফোনে থাকে।
একদিন রমজানে আমাকে ও নক দেয়, কিছু ফানি পিক দেয় তখন আমি হালকা মেসেজ করি।
আর সুযোগ বুঝে ওকে পছন্দ করি এটা বলে দেই।
প্রথমে বলে প্রেম করবেনা, পরে রাজি হয়।
এভাবে আমরা ৪ বছর ১১ মাস ২১ দিন প্রেম করি।
এর মধ্যে ৩/৪ বার দেখা করেছি ওর ফ্রেন্ড ছিলো তখন।
আমরা দুজনকে দুজন অনেক ভালোবাসতাম।
বর্তমান সময় এমন ভালোবাসা কারো দেখিনি।
কিছুদিন পর ওর বিয়ে জন্য ছেলে দেখা হলে সে রাজি হয়না, কান্নাকাটি করার কারনে ওর বাবা বুঝতে পারে ওর রিলেশন আছে।
পরে আমার কথা বলে দিলে ওর আব্বু আমাকে ফোন করে।
একটা সময় আমাকে ৬ ভরি স্বর্ণ আর ৮ লক্ষ টাকা কাবিনের দেয়াল তুলে ধরে। যেটা আমার পক্ষে সম্ভব ছিলোনা।
(২বছর আগের ঘটনা)
এর মধ্যে ওর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
ওর বাবা মা ওর সাথে খুব খারাপ আচরণ করতো।
ও সারাক্ষণ কান্না করতো।
একদিন বাড়ি থেকে বের করে দিলে সারাদিন বৃষ্টিতে ভিজে ছিলো।
এরপর কান্না করে বলেছিলো আমি আর সহ্য করতে পারতেছিনা, আমাকে মাপ করে দাও, আমি এভাবে চলতে থাকলে মরে যাব।
এর মধ্যে সৈনিকে জব করা একটা ছেলের সাথে বিয়ে পাকা করে ফেলে ওর বাবা মা।
শেষবারের মত দেখা করতে বলি, আমরা একটা রেস্তোরাঁতে দেখা করি। সেদিন দুজন প্রায় ১ ঘন্টা কান্না করি।
আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিলো।একটা সময় সহ্য করতে না পেরে দেয়ালে ঘু***ষি মা*রি।সাথে সাথে আমার হাত ছিলে যায়।
ওর কান্না আরো বেড়ে যায়।চোখের পানি মুছে তাকে বিদায় দিয়ে আমিও গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে যাই। কিছুদিন কথা বন্ধ থাকে।
আমিও ঢাকাতে সরকারি জবের জন্য পড়তে থাকি।
২ মাস পর বাড়ি আসি ঈদের ছুটিতে। ওরও বিয়ে ঠিক হয়ে যায়।
বিয়ের ১৬ দিন পর আমার নিজ জেলাতে একটা সরকারি জব হয়।
অথচ ২০ দিন আগে জবটা হলে আমি ওকে হারাইতাম না।
এরপর আবারও আমার আরেকটি সরকারি জব হয় সেটাও নিজ জেলাতেই।
অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার টাইপিস্ট পদে।
বিয়ের আজ ২ বছর হয়ে গেছে। শুনেছি ২দিন পর ওকে তুলে নিয়ে যাবে।
বাড়ির সামনে আলোকসজ্জা লাগাচ্ছে, বিয়ের গেট দিচ্ছে।
এসব দেখে আমার শুধু কান্না আসতেছে। ভিতরটা পুড়ে যাচ্ছে।
দম বন্ধ হয়ে আসতেছে।
যখন বিয়ের কথা হচ্ছিলো তখন ভাবতাম বিয়ে হয়নি এখনো হয়তো আমারি আছি, বিয়ের পর ভেবেছি বিয়ে হলেও কি হইছে এখনো ও আমারি আছে, ছেলে যখন এখানে ছুটিতে এসে ১০/১২দিন করে থাকলো তখনি আশা ছেড়ে দিয়েছি।শেষ যেটা আশা করেছি সেটা হলো, হয়তো এখানে থাকলে কখনো নিজের অজান্তে দেখা হয়ে যাবে।এখন সেই আশাটাও হারিয়ে ফেলেছি।
সামনের দুইটা দিন আমার কিভাবে কাটবে বুজিতেছিনা।
ভেবেছি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে কেথাও ঘুরে আসবো কিন্তু তেমন কোন আত্মীয় নেই যেখান থেকে ঘুড়ে আসতে পারি।
ওর বিয়ের ২টা দিন কিভাবে কাটাবো প্লিজ একটা পরামর্শ দিন।
আমি মানুসিক ভাবে খুব কষ্টে আছি। এখান থেকে একটু বের হতে চাই।
— নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
প্রতীক ছবি









