বিএনপির প্রার্থী তালিকায় অধিকাংশই বিতর্কিত ও গডফাদারপ্রবণ ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম গণঅভ্যুত্থানের পর বিএনপি নতুন প্রজন্ম ও যোগ্য নেতৃত্বকে সামনে আনবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, তারা আবারও পুরোনো গডফাদারদের ভরসাতেই টিকে থাকতে চাচ্ছে।
সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিএনপি তরুণ নেতৃত্বকে পাশে রাখার পরিবর্তে কৌশলে ছাত্রদল ও যুবদলের সম্ভাবনাময় নেতাদের বাদ দিয়েছে। এসব তরুণদের আমরা আমাদের দলে স্বাগত জানাই। রাজনীতিতে নতুন চিন্তা ও স্বচ্ছ নেতৃত্বের সময় এসেছে।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান দেশে ফিরছেন—এটা ইতিবাচক। অনেক আগেই আসা উচিত ছিল। আমরা সংলাপের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের প্রতীক’ আখ্যা দিয়ে নাসীরুদ্দীন বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায়ই তিনি আবারও নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন, তাই জুলাইয়ের ঐতিহাসিক আন্দোলনকেও স্বীকৃতি দেওয়া সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দায়িত্ব একমাত্র ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে থাকা উচিত। এটি রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। দেরি করলে ছাত্রসমাজ আবারও রাস্তায় নামবে।
বড় দলগুলোর সমালোচনা করে এনসিপি নেতা বলেন, কিছু বড় দল ছোট দলগুলোকে ১-২টি আসন দিয়ে তাদের অস্তিত্ব নষ্ট করতে চায়। আমরা মনে করি, প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকে নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। যারা প্রতীক বিক্রি করে রাজনীতি করে, জনগণ তাদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানাই।
শেষে তিনি বলেন, আমরা বিএনপি বা জামায়াত কাউকেই ভয় পাই না। জনগণের পক্ষে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। এখন সরকারের উচিত হবে এই দুই দলের সুবিধাভোগী রাজনীতি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।







