বিশেষ প্রতিনিধি:
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) থেকে দুর্নীতির কলঙ্ক লেপন করে অপসারিত হয়েও থামেনি তাঁর বেপরোয়া ও অপকর্মের নগ্ন রথ। কাফরুলের ‘মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতি’র সাধারণ কিংবা বৈধ সদস্যদের অনুমোদন তো দূরের কথা, কোনো চাহিদা বা সম্মতি না থাকা সত্ত্বেও অনৈতিক রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক দাপট খাটিয়ে চরম গায়ের জোরে প্রশাসক পদটি বাগিয়ে নেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফা। সাধারণ সদস্যদের তোয়াক্কা না করে ও নিয়মনীতির সীমানা মাড়িয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে আঁতাত করে বেআইনিভাবে প্রশাসক পদটি করায়ত্ত করে এই বিতর্কিত প্রশাসক আসনে বসেই মেতে উঠেছেন সদস্যদের ঘাম ঝরানো উপার্জনে সঞ্চিত অর্থ চরম নির্লজ্জতার সাথে লুটপাট, ক্ষমতার ঘৃণ্য অপব্যবহার এবং অধিবাসীদের শত কোটি টাকার মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকু দখলের এক জঘন্য মাফিয়াতন্ত্রে।
প্রশাসনিক ক্ষমতার এমন জঘন্য অপব্যবহারের পর উলফার লোলুপ দৃষ্টি পড়ে সদস্যদের রক্তের দামে কেনা নিবন্ধিত ফ্ল্যাটের ওপর। নামজারি সম্পন্ন ও নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধিত কোটি কোটি টাকার ব্যক্তিগত সম্পত্তি জোরপূর্বক বেআইনিভাবে দখলের পরম ঘৃণ্য ও নগ্ন পাঁয়তারা শুরু করেন তিনি। স্থানীয় অপরাধী চক্র ও নেপথ্যে থাকা কুখ্যাত আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘রাকিন’-এর প্রত্যক্ষ মদদে বিজয় রাকিন সিটিতে একের পর এক অপকর্ম ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যান। এর ধারাবাহিকতায় গত ১ আগস্ট বৈধ ফ্ল্যাটসমূহ গায়ের জোরে ও অস্ত্রের মুখে দখলের নির্লজ্জ উদ্দেশ্যে একদল বহিরাগত সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে এলাকায় প্রকাশ্যে ভয়াবহ তাণ্ডব ও হামলা চালানো হয়, যা পুরো এলাকায় এক ভয়াল ও আতঙ্কগ্রস্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তবে এই জঘন্য ও বর্বর হামলার পর সিটির সর্বস্তরের সাধারণ বাসিন্দারা ভয়ভীতি পেছনে ফেলে জীবন বাজি রেখে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। অধিবাসীদের এই অভূতপূর্ব ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে; ভেস্তে যায় সন্ত্রাসী ও দখলদারদের বড় ধরনের দখলের চক্রান্ত।
রাকিনের সাথে প্রশাসকের এই অশুভ ও ঘৃণ্য আঁতাতের সবচেয়ে বিষাক্ত চালটি উন্মোচিত হয় তাদের দীর্ঘদিনের সীমাহীন ব্যর্থতা ধামাচাপা দেওয়ার কৌশলে। বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও আবাসন কোম্পানি ‘রাকিন’ ফ্ল্যাট মালিকদের আইনি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করছে না, অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণকাজ অসমাপ্ত ফেলে রেখেছে এবং ভবনের মারাত্মক সব নির্মাণ ত্রুটি (Construction Defects) সংশোধন না করেই দায় এড়িয়ে যাচ্ছে। একই সাথে জমির প্রকৃত মালিক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের প্রাপ্ত ন্যায্য ক্ষতিপূরণ মেটাতেও তারা চরম টালবাহানা ও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আইন ও চুক্তি অনুযায়ী প্রশাসকের প্রধান কাজ ছিল রাকিনকে আইনি কাঠগড়ায় দাঁড় করানো, নোটিশ দেওয়া এবং অবিলম্বে ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন প্রদান, নির্মাণ ত্রুটি মেরামত ও জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ আদায়ে বাধ্য করা। কিন্তু প্রশাসক উলফা উল্টো রাকিনের অন্যায়কে ঢাকতে তাদেরই প্রস্তুত করা জঘন্য চিত্রনাট্য বাস্তবায়ন করছেন।
সমিতি কর্তৃক কঠোরভাবে শতভাগ সরকারি নিয়ম মেনে ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সকল ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, অথচ উলফা ও তাঁর অশুভ সিন্ডিকেট অতি কুৎসিত ও জঘন্য চাল চেলেছেন। আইনগতভাবে কোনো ফ্ল্যাটকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করার বিন্দুমাত্র এক্তিয়ার বা বিচারিক ক্ষমতা প্রশাসকের না থাকা সত্ত্বেও, নিজের স্বার্থ হাসিল ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের উদ্দেশ্যে তিনি কিছু সংখ্যক ফ্ল্যাটকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘অবৈধ’ বলে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং মূল সত্য ধামাচাপা দেওয়ার নগ্ন জালিয়াতির আশ্রয় নিচ্ছেন। যথাযথ সরকারি বিধিবিধান ও প্রক্রিয়ায় প্রদত্ত বরাদ্দের কোনো ফ্ল্যাটকে এককভাবে ‘অবৈধ’ আখ্যা দেওয়ার কোনো আইনি ভিত্তিই থাকতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে এটি এক সুপরিকল্পিত ও অশুভ ব্ল্যাকমেইলিং চক্রান্ত, যেখানে মূল বরাদ্দকে কৃত্রিমভাবে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ রেখে পরবর্তীতে যারা বরাদ্দগ্রহীতা থেকে রক্তের দামে কেনা কষ্টার্জিত টাকায় ফ্ল্যাট কিনেছেন তাঁদের মুখে “আপনাদের কিছু হবে না” বলে সস্তা ও বিষাক্ত সান্ত্বনা ছড়ানো হচ্ছে। এটি কেবল এক চরম আইনি স্ববিরোধিতাই নয়, বরং অধিবাসীদের চিরতরে জিম্মি ও মানসিকভাবে নির্যাতন করার সবচেয়ে ঘৃণ্য কৌশল। এই তথাকথিত মিষ্টি কথার বিষাক্ত অন্তরালে আজ কয়েকটি ফ্ল্যাটকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে প্রকৃতপক্ষে পুরো সমিতির ৮৭০টি বৈধ ফ্ল্যাটের সব বরাদ্দ বাতিলের এক ভয়াবহ নগ্ন চক্রান্তে হাত দিয়েছেন উলফা ও রাকিন সিন্ডিকেট। উচ্ছেদ ও সম্পত্তি হারানোর কৃত্রিম আতঙ্কে মালিকদের দিশেহারা রেখে আবাসন কোম্পানি ‘রাকিন’-এর ওপর থেকে রেজিস্ট্রেশন আদায়, অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন, মারাত্মক নির্মাণ ত্রুটি মেরামত ও জমির মালিকদের কোটি কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ আদায়ের যৌথ আইনি চাপকে একমুহূর্তে বাঞ্ছাল করাই এই ঘৃণ্য চক্রান্তের মূল লক্ষ্য। একই সাথে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার অধিবাসীদের ইস্পাতকঠিন ঐক্য চুরমার করে বিভাজন সৃষ্টি করা এবং সবাইকে আতঙ্কে রেখে মূল অন্যায় থেকে নজর সরিয়ে সুযোগ বুঝে সমিতির ব্যাংকে গচ্ছিত কোটি কোটি টাকার সঞ্চিত তহবিল লুটপাট ও তসরুফ করে শূন্যে পরিণত করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে এই চক্র।
উচ্চ আদালতের স্পষ্ট আদেশ অমান্য করে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ, ক্ষমতার জোরে বেআইনি নিয়োগ ও বারবার অবৈধভাবে মেয়াদ বৃদ্ধি, অস্ত্রধারী বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে প্রকাশ্য তাণ্ডব এবং জালিয়াতিপূর্ণ নোটিশের আড়ালে মানসিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পর সাধারণ সদস্যদের মাঝে ক্ষোভের চরম অগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর আগেও একাধিকবার এই দুর্নীতির বরপুত্র প্রশাসককে অপসারণ করে অনতিবিলম্বে নির্বাচিত কমিটির নিকট দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য সমাজসেবা দপ্তরে একাধিক লিখিত আবেদন জানানো হয়, কিন্তু রহস্যজনক ও সন্দেহজনক কারণে দপ্তরটি তা আমলেই নেয়নি। সর্বশেষ গত ০৪/০৮/২০২৬ তারিখে সমিতির পক্ষ থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পুনরায় লিখিত চিঠিতে অনতিবিলম্বে চরম দুর্নীতিগ্রস্ত ইশতিয়াক আজিজ উলফাকে বরখাস্ত করে নির্বাচিত কমিটির নিকট দায়িত্ব হস্তান্তরের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দেশের আইন ও সাধারণ বাসিন্দাদের নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে বর্তমান সরকার এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের নিকট ভুক্তভোগীরা বিনীত আহ্বান জানান—অনতিবিলম্বে এই দুর্নীতিগ্রস্ত উলফা এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো রাকিন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক কড়া আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে টাকা আত্মসাৎ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা এবং অবৈধভাবে জমি ও ফ্ল্যাট দখলের গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত উলফাকে দ্রুত প্রশাসকের পদ থেকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করে বিচারিক কাঠগড়ায় দাঁড় করানো এখন সময়ের দাবি। একই সাথে আবাসন কোম্পানি রাকিনের দীর্ঘদিনের জালিয়াতি, ফ্ল্যাট হস্তান্তরে ব্যর্থতা এবং নির্মাণ ত্রুটির যথাযথ আইনি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দারা। বিজয় রাকিন সিটির সর্বস্তরের অধিবাসীরা একযোগে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে উলফা ও রাকিন সিন্ডিকেটের এই জঘন্য অশুভ আঁতাত ও মাফিয়াতন্ত্র অবিলম্বে উপড়ে না ফেললে, অধিবাসীরা নিজেদের জীবন, স্থায়ী আবাসন ও নিরাপত্তার স্বার্থে রাজপথে আরও ভয়াবহ ও কঠোর গণআন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হবেন।









