বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি- চাকুরির বিধি লঙ্ঘন করে বিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি কলেজ ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সংবাদিকতা পেশায় কাজ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। (আজ ১০ আগষ্ট-২৫) বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ হয়েছে বলে জানা যায়। ফলে পাঠদানে ফাঁকি দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলির দাপ্তরিক কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। সাংবাদিকতা পেশায় সার্বক্ষণিক সময় দেওয়া লাগে। এছাড়া তথ্য সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন এলাকায় ছুটে হয় সংবাদকর্মীদের। যারা শিক্ষক পদে চাকরি করেন তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান সহ দপ্তরিক কাজে ফাঁকি দিয়ে তাঁরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়। আবার বিঞ্জাপন সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন সরকারী অফিসে ধর্ণা দিতে দেখা যায়। ওই সাংবাদিকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজিরা খাতায় তাদের ইচ্ছা মতো স্বাক্ষর করেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কিছু করার থাকে না। ওই সব শিক্ষকদের ভয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ বা সরকারী কর্মকর্তারা কিছুই বলেন না। বিরামপুর উপজেলার শিক্ষক কাম সাংবাদিক বেশ কয়েক জন। যারা পার্টটাইম শিক্ষক হলেও ফুল টাইম সাংবাদিক। ওই সাংবাদিকরা চাকরির বিধি লঙ্ঘন করেও পার পেয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়,বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ২০২১ সালে প্রণীত ১১.১৭ অনুচ্ছেদে এমপিও ভুক্ত কোন শিক্ষক বা কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক লাভজনক পদে নিয়োজিত থাকতে পারবে না। যদি কেউ নিয়োজিত থাকে তবে এটি তদন্তে প্রমাণিত হলে সরকার তার এমপিও বাতিল করে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। জানা যায়,বিরামপুর উপজেলার কর্মরত এসব শিক্ষক কাম সাংবাদিকরা মিলে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। সাংবাদিক নয়ন মিয়া বলেন,শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা পরিচয় পত্রিকার জন্য সরকারী বিজ্ঞাপন নিয়ে থাকে। সেই বিজ্ঞাপনের পার্সেন্ট পেয়ে থাকেন তারা। এদিকে শিক্ষকতা পেশা থেকেও তারা বেতন নিচ্ছেন। অন্যদিকে সাংবাদিক হিসেবে সরকারি বিজ্ঞাপন থেকে পার্সেন্ট পাচ্ছেন। এতে তারা নিজেরাই চাকুরির বিধি লঙ্ঘন করছেন। সম্প্রতি ওই সব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর নয়ন মিয়া নামের একজন সাংবাদিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। সাংবাদিক নয়ন মিয়া বলেন, শিক্ষকতা পেশায় থেকে যে সকল সাংবাদিকতায় পেশায় আছে। তারাই বিভিন্ন সময় কর্মরত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না থেকে সাংবাদিকতা সময় দিচ্ছেন। এতে করে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম অবনতি হচ্ছে। এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন,অভিযোগের কপি পেয়েছি তদন্ত স্বাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুটোই মহান পেশা। কিন্তু পেশা হিসেবে দুটোই আলাদা। তুলনামূলকভাবে সাংবাদিকতার চেয়েও মহান পেশা শিক্ষকতা। আজ যিনি সাংবাদিক, শিক্ষাজীবনে তিনিও শিক্ষা গ্রহণ করেছেন কোনো না কোনো শিক্ষকের কাছে। শিক্ষকতা নিছক চাকরি নয়, মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে নিরন্তর সাধনার বিষয়। তাঁরাই জাতি গঠনের মূল চালিকা শক্তি। পক্ষান্তরে সাংবাদিকতা সৃজনশীল পেশা। এই পেশাটিও নিরন্তর চর্চার বিষয়। মননশীল এই পেশায় সার্বক্ষণিক সময় দিতে হয়। সাংবাদিকতা হচ্ছে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তন্ত। কিন্তু ইদানীং মফস্বলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষকই সার্বক্ষণিক সাংবাদিকতায় নিয়োজিত হয়েছেন। তাঁরা তাঁদের স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মানুষ গড়ার মহান ব্রত ত্যাগ করে সাংবাদিকতা করছেন। তাঁরা কখনোই শিক্ষক পরিচয় দেন না,পরিচয় দেন সাংবাদিক তাঁরা সাংবাদিকতার দোহাই দিয়ে শিক্ষকতার মহান দায়িত্বে চরম ফাঁকি দিচ্ছেন। কিন্তু তাঁরা সরকারি বেতনভাতা নিয়মিতই তুলছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কর্তৃপক্ষ সাংবাদিক ভয়ে তাঁদের কিছু বলার সাহস পান না। ক্লাসে পাঠদান না করেই সরকারের কাছ থেকে বেতনভাতা নেওয়াটা কতটা যৌক্তিক?
এদিকে সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গগণ অভিমত প্রকাশ করেন শিক্ষার পরিবেশ ফিরে আনতে যাহারা শিক্ষক হয়ে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত আছেন তাঁদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
Post Views: 706
Related