এমডি রেজওয়ান আলী বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি-সহকারী স্টেশন মাস্টারের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ, বিধিমালা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ। দিনাজপুরের বিরামপুর রেলস্টেশনের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত সরকারি কাঁঠাল গাছ নির্বিচারে ডাল,পাতা ও কাণ্ড কর্তনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী,সাধারণ জনগণ ও রেলস্টেশন সংশ্লিষ্টরা এ ঘটনাকে সরকারি সম্পদ ধ্বংস ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার নগ্ন উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ,বিরামপুর রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মোঃ আলাউদ্দিন ফয়েজ (৪৫) কোনো ধরনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই নিজ উদ্যোগে সরকারি কাঁঠাল গাছটির ডাল,পাতা,কাণ্ড ও ফুল কেটে ফেলেন। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনের সৌন্দর্য বর্ধনকারী গাছটি কার্যত “নেংটা” অবস্থায় পরিণত হয়েছে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধ্বংস, ব্যবসায়ীদের ক্ষতি রেলস্টেশনের ওই কাঁঠাল গাছের পূর্ব পাশে অবস্থিত মুদি দোকানদার বেলাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“গাছটি এমনভাবে কাটা হয়েছে যে এটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। কাটা ডাল পড়ে আমার দোকানের ক্ষতি হয়েছে, এমনকি বিদ্যুৎ মিটার পর্যন্ত ভেঙে গেছে। এর দায় কে নেবে?”তার পাশের আরেক দোকানদার শ্রীরাম বলেন,“কোনো যুক্তি বা কারণ ছাড়াই সরকারি গাছ উজাড় করে দেওয়া হয়েছে। এটি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ। সরকারি সম্পদের সঙ্গে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।”

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিস্ফোরক বক্তব্য রেলস্টেশনে কর্মরত এক কুলি রবি বলেন,“স্টেশনের সৌন্দর্য নষ্ট করে এভাবে গাছ কাটা কখনোই ঠিক হয়নি।”আরও গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে যে—“মাস্টার সাহেব আমাদের কয়েকজনকে নিয়ে গাছের পাতা,কাণ্ড ও ফুল কেটে বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন।”
এই বক্তব্যে ঘটনাটি ব্যক্তিগত লাভ, অবৈধ বিক্রয় ও ক্ষমতার অপব্যবহার—এই তিনটি দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি ও বিতর্কিত মন্তব্য এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী স্টেশন মাস্টার মোঃ আলাউদ্দিন ফয়েজ-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তবে নিজের দায় এড়িয়ে তিনি দাবি করেন—
“পার্শ্ববর্তী দোকানদাররা আগেও গাছের পাতা কেটে বিক্রি করতো। তাই আমি এবার পাতা ও ডাল কেটে বিক্রি করেছি এবং সেই টাকা রেলস্টেশন জামে মসজিদে দিয়েছি।”
সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন—
“বিধিমালা লঙ্ঘন করে চারপাশে অনেকেই অনেক কিছু করছে, এটাতে আবার কী যায় আসে? ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।”এই বক্তব্য স্থানীয়দের কাছে আইনের প্রতি অবজ্ঞা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার চরম দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির সত্যতা নেই
এ বিষয়ে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা, পাকশি—হাসিনা খাতুন-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্পষ্টভাবে জানান,“বিরামপুর রেলস্টেশন মাস্টার বা সহকারী স্টেশন মাস্টার এ বিষয়ে আমার কাছ থেকে কোনো অনুমতি গ্রহণ করেননি।”

আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের মতে,রেলস্টেশনের ভেতরে থাকা সব গাছ বাংলাদেশ রেলওয়ের সম্পত্তি। এসব গাছ কর্তনের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন রেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং প্রয়োজনে বন বিভাগের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক। অনুমতি ছাড়া গাছের ডাল,পাতা ও কাণ্ড কাটা সরকারি সম্পদ ধ্বংস, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের শামিল।

স্থানীয়দের জোরালো দাবি
ঘটনার পর এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জোরালোভাবে দাবি জানানো হয়েছে—
ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত,
অভিযুক্ত সহকারী স্টেশন মাস্টারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা,
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ,ধ্বংসপ্রাপ্ত গাছের পরিবর্তে নতুন গাছ রোপণ ও পরিবেশ পুনরুদ্ধার। এ বিষয়ে দ্রুত বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় জনগণ।
Post Views: 167
Related