মহা সমারোহে এগিয়ে আসছে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জন্য সম্ভাব্য বাজেটের আয়োজন। জুন মাসের প্রথম দিকেই ঘোষিত হবে সেই আলোচিত বাজেট। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নতুন নির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট এটি। দেশের বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির ঊর্ধ্বহার, জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি,বৈশি^ক জ¦ালানি সংকট, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন, বৈশি^ক নানান সংকট. প্রভৃতি কারণে বহুল প্রতীক্ষিত বাজেট আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নি¤েœ একজন সরকারি কলেজের শিক্ষক হিসেবে বাজেটে নিজের প্রত্যাশার কতিপয় দিক তুলে ধরার চেষ্টা করলাম মাত্র: ক) আর্থিক সুবিধা ও বেতন কাঠামো: উচ্চতর গ্রেড: বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অধ্যাপকের গ্রেড আপগ্রেড করার মাধ্যমে তৃতীয় গ্রেড করা হোক। বর্তমানে অধ্যাপকের গ্রেড চতুর্থ। যথাযথ পদসোপানসহ ২য় ও ৩য় গ্রেড না থাকার কারণে মাউশির মহাপরিচালককেও গ্রেড-৪ -এ বেতন প্রদান করা হয়। একটি ক্যাডার সার্ভিসের সর্বোচ্চ গ্রেড-৪ হওয়া খুবই দু:খজনক। যেখানে বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসের দু-একটি ব্যতিক্রম ক্যাডার ছাড়া প্রায় সব ক্যাডারেই গ্রেড-১ পদ থাকলেও শিক্ষা গ্রেড-১ পদ দেওয় হয় না। সরকারের বিশেষ বিবেচনায় এ পর্যন্ত দুজন মহাপরিচালক গ্রেড-১ পেয়েছে শুধুই ব্যক্তিগত কারণে এবং সরকারের বিশেষ বিচেনায়। তাই যৌক্তিক কারণেই অধ্যাপক গ্রেড-৩ করে শিক্ষা ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদ মাউশির মহাপরিচালক গ্রেড-১সহ মাউশির পরিচালক, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য পদ, নায়েমের মহাপরিচালক ও অন্যান্য,এনটিসিবির বিভিন পদ , সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পদসহ শিক্ষা ক্যাডারে প্রশাসনিক পদের যৌক্তিক গ্রেড উন্নয়ন করে শিক্ষা ক্যাডারের পদসমূহের পদবিন্যাস পুনর্গঠন করা আবশ্যক। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন: সরকারি কর্মচারীদের স্বাভাবিক জীবন মানের উন্নয়নের প্রয়োজনে এবং স্বাভাবিক জীবন যাপনের নিশ্চয়তার জন্য বেতন কমিশন কর্তৃক সুপারিশকৃত নতুন পে-স্কেল ২০২৬-২৭ অর্থ বছর থেকেই বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। খ) পদোন্নতি ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন: নিয়মিত পদোন্নতি: বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসে বিভিন্ন ক্যাডারের মধ্যে পদোন্নতি বিষয়ে ব্যাপক বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। বৈষম্যের ফলে বঞ্চিত বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের মধ্যে কর্মস্পৃহা কমে যায় । একই সাথে বঞ্চিত ক্যাডারগুলোতে মেধাবীদের তুলনামূলক কম আকর্ষণ করে। পেশাগত ক্যাডারগুলোতে হতাশা বেশি হওয়ায় সার্ভিসগুলোর বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় । ফলে সাধারণ নাগরিকগণ সেবা পেতে সমস্যার মুখোমুখি হয়। সেবার মান কমে যায়। তাই সার্ভিসের গুনগত মান উন্নয়নে পদক্ষেপ জরুরি। সবচেয়ে ভালো পদক্ষেপ হতে পারে সকল ক্যাডারের ব্যাচভিত্তিক একই সময়ে পদোন্নতি প্রদান কারা। যেহেতু সকল ক্যাডার একই সময়ে যোগদানের প্রচলন রয়েছে তাই সরকার পদক্ষেপ নিলে সিনিয়রিটি নিয়ে জটিলতার আশক্সক্ষা নেই। গবেষণা ফান্ড:বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার পেশাভিত্তিক ও বুদ্ধিভিত্তিক একটি সার্ভিস হওয়ায় গবেষণা ও উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে পেশাগত মান উন্নয়ন একটি সম্ভাবনাময় বিষয়। যাতে নিজের পেশার উন্নয়নের পাশাপাশি দেশ ও জাতি গঠনে ব্যাপক ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষা সার্ভিস লাখ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাদানের সাথে সরাসরি জড়িত । ফলে শিক্ষা ক্যাডারের গুনগত মান পরিবর্তনের সাথে সাথে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থারও গুনগত মান পরিবর্তন হয় এবং প্রভাবিত হয়। একই সাথে শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছে শিক্ষা ক্যাডার। তাই শিক্ষা প্রশাসনের দক্ষতা ও টেকসই শিক্ষার জন্য গবেষণা ও উচ্চতর ডিগ্রি ও প্রশিক্ষণ অতীব জরুরি। সুতরাং সবদিক বিচেনায় শিক্ষা ক্যাডারসহ সকল শিক্ষকের গবেষণার সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবি জানাই। বদলি সুবিধা: নিজ এলাকা থেকে বা সুবিধাজনক স্থান থেকে অসম দূরত্বে পদায়িত শিক্ষক ও কর্মচারীদের সহজ বদলির জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি। দীর্ঘদিন পরিবার থেকে দূরে থাকা যেকোনো সরকাবি কর্মচারী ও শিক্ষকের জন্য মানসিক পীড়ার কারণ। একটি হয়রানিমুক্ত ও সহজ বদলির সুযোগ একজন শিক্ষক বা কর্মচারীর পেশাগত জীবনকে আরোও সুন্দর ও আনন্দময় করে তুলতে পারে। গ) কলেজের অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা: একাডেমিক ভবন ও পরীক্ষার কেন্দ্র তৈরি: দেশের বহু কলেজে পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবন ও অবকাঠামো সুবিধা না থাকায় ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠানে সমস্যার সৃষ্টি হয়। পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও পর্যাপ্ত বাজেট চাই। কলেজগুলোতে আলাদা পরীক্ষা কেন্দ্র বা পরীক্ষার জন্য অলাদা ভবন না থাকায় মাসের পর মাস পরীক্ষার জন্য শ্রেণিকার্যক্রম ও ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়। ফলে শিখন-শিক্ষণে ব্যাপক ঘাটতি তৈরি হয়। স্মার্ট ক্লাসরুম ও পাঠাগার: বিশ^ায়ন ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় উপস্থিতি থাকা আবশ্যক। শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী শক্তির ব্যবহার ও বিকাশ প্রয়োজন। তাই সকল প্রয়োজনীয় সুবিধা সম্বলিত আইসিটি ল্যাব স্থাপন, স্মার্ট ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম তৈরি ও পাঠাগার সুবিধার জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করার দাবি জানাই। আবাসন ব্যবস্থা: প্রতিটি সরকারি কলেজে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য বরাদ্দ প্রদান করতে হবে। আবাসন নিশ্চিত করা হলে যাতায়াতের ঝুকি হ্রাস হবে, ক্লান্তি সমস্যার অনেকটা সমাধান হবে এবং যাতায়াত সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। একই সাথে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর জ্ঞান বিনিময়ের সময় ও সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। যাতায়াত: শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত যাতায়াতের জন্য নিজস্ব পরিবহণের সুবিধা প্রদান করা প্রয়োজন। ঘ) অবসর ও সামাজিক নিরাপত্তা: পেনশন ও অবসর সুবিধা সহজীকরণ: শিক্ষক ও সরকারি অন্যান্য কর্মচারীদের পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধাসমূহ আরোও সহজ করে দিতে হবে। প্রয়োজনে আবসরের কয়েক বছর পূর্বেই অডিট বা নিরীক্ষা সমাপ্ত করে অবসরের ক্ষেত্র প্র¯দত করে নেওয়া সম্ভব। শুধুই অবসরের পূর্বোক্ত স্বল্প সময়ের নিরীক্ষা অবসর পূর্বে করে অবসর সহজ করা যাবে। অবসরের যাবতীয় কাজের জন্য কল্যান কর্মকর্তা নিয়োগের বিধান কার্যকরীভাবে গ্রয়োগ করা যেতে পারে। যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক অবসরের সাথে সাথেই যাবতীয অবসর সুবিধাসমূহ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। স্বাস্থ্য বীমা চালু: সকল শিক্ষকের জন্য স্বাস্থ্য বীমার চালু করা প্রয়োজন। ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটেই প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করার দাবি জানাই। সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের বিকেন্দ্রীকরণ ও সম্প্রসারণ: পেশাগত কারণে শত শত মাইল দূরে অবস্থানকারী সরকারি কর্মচারীগণ ঢাকায় অবস্থিত সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল হতে সেবা নিতে পারছে না। বিশ লাখ সরকারি কর্মচারীর সেবা প্রদান করার মত প্রয়োজনীয় সক্ষমতাও নেই সরকারি কর্মচারী হাসপাতালটির। ফলে হাসপাতালটি জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ আবশ্যক। অন্তত জরুরিভিত্তিক বিভাগীয় পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন এ হাসপাতালের। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান কাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য বরাদ্দ প্রদান করতে হবে। পরিশেষে এ কথা বলতে পারি, যদি উপরে আলোচনাকৃত বিষয়সমূহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও নির্দেশনা প্রদান করা হয় জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ তবেই একজন সরকারি কলেজের বিসিএস শিক্ষক হিসেবে আমরা খুবই আনন্দিত হবো এবং আমাদের পেশাগত জীবন আরোও গতিশীল ও সুন্দর হবে বলে আশাবাদী হবো। লেখক, মো: মহিউদ্দিন শিক্ষক (বিসিএস সাধারণ শিক্ষা) আমতলী সরকারি কলেজ, বরগুনা। সম্পাদক-মাসিক ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স -71news24.com
মধুপুরে ঝড়ের তাণ্ডব: ৫৩ হেক্টরে কলা-পেঁপের ব্যাপক ক্ষতি
মধুপুরে ঝড়ের তাণ্ডব: ৫৩ হেক্টরে কলা-পেঁপের ব্যাপক ক্ষতি গৌরাঙ্গ বিশ্বাস বিশেষ প্রতিনিধ টাঙ্গাইলের মধুপুরে মুহূর্তের ঝড়ে কলা ও পেঁপে বাগানের...








