ইসলামের নিয়মে সবচেয়ে বড় পাপের মধ্যে একটি হলো – সুদ। মাত্র দুই-তিনটি পাপ আছে, যেটা সুদের চেয়ে বড়।
খুব সাধারন একটি বিষয় বুঝলে, সুদের ভয়াবহতা বুঝতে পারবেন।
ধরুন, আপনি একজন হিসাব-রক্ষক (accoutant)। আপনার বস (boss) চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ, খুন, যেটাই করুক না কেন – আপনার কোন শাস্তি হবে?
না, আপনি সেসব অপরাধ করেন না। আপনার কাজ হলো – বসের সম্পদের হিসাব রাখা। সেই লোকটি যাই করুক – তাতে আপনার অপরাধ হয় না।
- সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, সুদের লেখক (হিসাবরক্ষক) এবং এর সাক্ষীদের উপর আল্লাহ লানত (অভিশাপ) করেছেন। তারা সবাই সমান (পাপী) – সহি মুসলিম ১৫৯৮
কি বুঝলেন। অন্য যে কোন অপরাধীর হিসাবরক্ষক, কখনো দোষী নয় ; পাপী নয়। কিন্তু সুদ এমনই একটি জিনিস যে – এটার হিসাব করলেও পাপ হয়। এমনকি সাক্ষী হলেও পাপ হয় !!
হদিসের পরে, এবার খুজে দেখি – সুদের ব্যাপারে কোরআনে কি লেখা আছে:
- এখানে সুদকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে যারা সুদ খায় তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। (সুরা বাকারাহ ২৭৫-২৭৯)
কি ভয়াবহ ব্যাপার – আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা !! এটি একটি কুফরী কাজ। এই কাজটি করেছিলো ফেরাউন আর নমরুদ। একজন মুসলমান এমন কাজ করবে কেন?
এতক্ষণ কোরআন ও হাদিসে থেকে যেটা জানা গেল – একজন মুসলমান, সুদের আশেপাশেও থাকবে না
এবার – প্রশ্নকারীর জন্য পরামর্শ:
প্রথম কথা – আপনি হিসাব-রক্ষক (accoutant) নন। সরাসরি সুদের হিসাব রাখেন না। কিন্তু, পরোক্ষভাবে হিসাব-নিকাশে সহায়তা করেন। কারন – IT বিষয়ক আপনার সকল কাজ- কর্ম, মূলত হিসাব নিকাশের সুবিধার জন্য ব্যাবহার হয়।
দ্বিতীয় বিষয় হলো – আপনার দক্ষতা কাজে লাগানোর জন্য, অন্য অনেক ধরনের প্রতিষ্ঠান অছে। আপনি সম্ভবত commerce এর ডিগ্রিধারী নন। আপনার জন্য ব্যাংক ছাড়া, আরো অনেক ধরনের সুযোগ আছে।
উপসংহার:
সুদ এমনই একটি জিনিস যে, এর আশেপাশে থাকাটাই বিপজ্জনক। বেশি বেতন হলেও আপনি কোন ডাকাত বা খুনির অধীনে কাজ করেন না। কারন, সেখান বিপদ আছে।
ঠিক তেমনই, বিপদ (পাপ) এড়াতে – জলদি ব্যাংকের চাকরিটা বদলানোর চেষ্টা করুন। আল্লাহর রহমতে অন্য কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাবার যোগ্যতাও আপনার আছে।








