আইপিএলের সাবেক প্রধান ললিত মোদি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই) ‘হৃদয়হীন’ আখ্যা দিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। মোদি অভিযোগ, বিসিসিআই ক্রিকেটারদের সঙ্গে ‘খচ্চরের’ মতো আচরণ করছে এবং ঠাসা সূচির চাপে তাদের রীতিমতো মেরেই ফেলছে।
বিসিসিআই এখন খেলোয়াড়দের কল্যাণের চেয়ে টাকার পাহাড় গড়া আর বাণিজ্যিক স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে বলে দাবি করেন ললিত মোদি। মূলত ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র একটি প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় মোদি এই মন্তব্য করেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আফগানিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন একমাত্র টেস্টের আগে দলের ব্যস্ত সূচি নিয়ে বর্তমান প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর ভীষণ অসন্তুষ্ট।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গম্ভীরের দুশ্চিন্তার কারণ—আগামী ৩১ মে আইপিএল ২০২৬-এর ফাইনাল। অনেক ভারতীয় ক্রিকেটার সেই ফাইনালে খেলবেন, যাদের আইপিএল শেষ হওয়ার পরপরই জাতীয় দলে যোগ দিতে হবে।
আগামী ৬ জুন থেকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে লাল বলের ক্রিকেট খেলবে ভারত। ঘরোয়া কন্ডিশনে তাদের সাম্প্রতিক টেস্ট পারফরম্যান্স খুব একটা সুবিধাজনক না হওয়া সত্ত্বেও, মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রামের অভাবে নির্বাচক কমিটিকে হয়তো বিকল্প বা রিজার্ভ খেলোয়াড়দের নিয়ে দল সাজাতে হতে পারে।
প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় মোদি বলেন, লাগামহীন সূচি দিয়ে বিসিসিআই ভারতীয় ক্রিকেটারদের ‘মেরে ফেলছে’ এবং তাদের সঙ্গে ‘খচ্চরের’ মতো আচরণ করছে, ‘ঠাসা সূচির চাপে বিসিসিআই তার খেলোয়াড়দের শেষ করে দিচ্ছে। বিসিসিআই কর্তারা, দয়া করে ছেলেদের ওপর এই অমানবিক সূচি চাপিয়ে দেওয়া বন্ধ করুন। তাদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং বিশ্রামের প্রয়োজন আছে। আপনাদের আর বাড়তি টাকার কোনো দরকার নেই।’
মোদি আরও যোগ করেন, বোর্ডের উচিত আর্থিক চিন্তার চেয়ে খেলোয়াড়দের কল্যাণে বেশি নজর দেওয়া। তাঁর দাবি, আইপিএল ইতিমধ্যে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রেখেছে।
বোর্ড কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে আইপিএলের সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি এমন এক আয়ের উৎস তৈরি করে দিয়েছি যা সারা বিশ্ব হিংসে করে। ওই চেয়ারগুলোতে বসে আপনাদের টাকা নিয়ে কোনোদিন চিন্তাই করতে হবে না। দোহাই আপনাদের, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অন্তত গঠনমূলক বা ভালো কিছুর কথা ভাবুন। খেলোয়াড়দের কল্যাণই সবার আগে হওয়া উচিত। তাদের ওভারওয়ার্ক বা অতিরিক্ত খাটিয়ে মারবেন না।’
এর আগে ভারত টেস্ট দলের অধিনায়ক শুভমান গিলও ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে মাঠে নামার আগে প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে কথা বলেছিলেন। তাঁর মতে, যেকোনো টেস্ট সিরিজ শুরু করার আগে অন্তত দুই সপ্তাহের একটি কন্ডিশনিং ক্যাম্প করা প্রয়োজন।
আধুনিক ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের ওপর কাজের চাপ বা ‘ওয়ার্কলোড’ এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে আইপিএলের মতো ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের পরিধি ক্রমেই বড় হওয়া এবং জাতীয় দলের ঠাসা আন্তর্জাতিক সূচি দম ফেলার সময় দিচ্ছে না ক্রিকেটারদের। ক্রিকেটাররা যখন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের তীব্র উত্তেজনা আর ধকল কাটিয়ে সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিতে যান, তখন ক্লান্তি, চোট এবং লাল বলের প্রস্তুতির অভাব—এসব সমস্যা এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারত প্রায়ই বিদেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে, বিশেষ করে সহযোগী দেশগুলোর বিপক্ষে দ্বিতীয় বা এমনকি তৃতীয় সারির দল পাঠিয়েছে। কিন্তু ঘরের মাঠে টেস্ট ম্যাচে ভারত এমন ঝুঁকি নেওয়ার বিলাসিতা দেখাতে পারবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।








