ভারতে আটক পাকিস্তানের লস্কর-ই-তৈয়বার ৮ জনের মধ্যে ৭ জনই বাংলাদেশী। তাদের সকলের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের লিডার শাব্বির আহমেদ লোন কাশ্মীরের শ্রীনগরের বাসিন্দা যে ভারতের পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে দীর্ঘদিন বাংলাদেশে অবস্থান করছিল। ইউনুস আমলে লস্কর ও জইশ-মুহাম্মদের মত পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি দলগুলোর নিরাপদ আবাস হয়েছিল বাংলাদেশ। ভারতে বড় ধরণের বিস্ফোরন করাই ছিল এই ৮ জনের উদ্দেশ্য।
সারা পৃথিবীতে মোটামুটি পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে জঙ্গি রপ্তানিতে বাংলাদেশ। আমাদের শ্রমবাজার যেসব আরব দেশ ও এশিয়ার সিংগাপুর মালয়েশিয়াতে ছিল সেখানে লেবারদের মধ্যে জঙ্গি কানেকশন চিহ্নিত আগেই হয়েছে। এই রকম একটি দেশকে বিভিন্ন দেশ ভিসা না দিলে দোষটা কাদের? প্রসঙ্গটা যদি ঘুরিয়ে বলা হয় ‘মুসলমানদের ভিসা দেয় না’ তখন এর নেপথ্যে এই কারণগুলো ধামাচাপা দিয়ে ডাইরেক্ট ‘মুসলিম বিদ্বেষ’ চাপানো হয়। ‘মাই নেম ইজ খান বাট আই এম নট টেরোরিস্ট’ এইসব বালছাল বলার দিন শেষ! কয়েকদিন আগেই মধ্য আকাশ থেকে একটি বিমান জরুরী অবতরণ করেছিল যাত্রীর ভয়ের কারণে। কারণ কোন এক রোজাদার মুসলমান ইফতারের জন্য আজান সেট করে রেখেছিল। সেটি যথা সময়ে বেজে উঠলে পশ্চিমা কাফেরদের ‘ইসলামফোবিয়া’ এত বেশি বেড়ে যায় যে বিমানটা জরুরী অবতরণ দরকার পড়ে। এডওয়ার্ড সাঈদকে কেউ প্রশ্ন করেনি ‘আল্লাহো আকবর’ কিংবা আজান শুনে ভয় পায় কেন মানুষ? এই যে তাদের গবেষণা ‘ইসলামফোবিয়া’ এর কারণ কি? কেন মানুষ ভয় পায়? কেবল উপমহাদেশে ‘নারায়ে তাকবীর’ বলে কত শত দাঙ্গা হয়েছে এইসব কাফেররা জানে?
পৃথিবীতে কোথাও বেদ বাইবেল তাওরাতের আইন দিয়ে দেশ শাসনের জন্য সংগ্রাম আন্দোলন চালানো হয় না। পৃথিবীর কোথাও সংবিধানে বৌদ্ধ খ্রিস্টান হিন্দুদের প্রথম শ্রেণীর নাগরিক আর বাকীদের তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক বানায় না। কেবল মুসলিম বিশ্বেই এটা দেখা যায়। ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে মুসলমানদের নিজস্ব দেশ পাকিস্তান হবার পরও ভারত দখল করে দারুল ইসলাম কেন বানাতে চাইবে? কারণ হাদিসের গজওয়াতুল হিন্দ বলে একটা চ্যাপ্টার আছে যা খোদ ভারতের দেওবন্ধের সিলেবাসে পড়ানো হয়। কাশ্মীরের স্বাধীনতা চাওয়া দামড়ি কাফের বামগুলো কোনদিন পাকিস্তানের দখলে থাকা কাশ্মীরের স্বাধীনতা চায়নি। তারা যে কাশ্মীরে গণভোট চায় তারা কি জানে না নেহরুর সেই শর্তে বলা ছিল এর আগে পাকিস্তান তার দখলে রাখা কাশ্মীর আগে ছেড়ে দিবে এবং পাকিস্তান তার সৈন্য প্রত্যাহার করবে। পারলে পাকি বাপদের সেটা আগে রাজি করাক!
বাংলাদেশ সরকারের কি কোন ডাটা আছে পাকিস্তানের জঙ্গি দলগুলোতে কত সংখ্যক বাংলাদেশী মুজাহিদ যোগ দিয়েছে। বিপদটা বাংলাদেশ টের পাচ্ছে না। ভারতে আগুন লাগালে বাংলাদেশ তো শান্তিতে থাকবে না। বাংলাদেশ যদি নিয়ন্ত্রণ না করে তাহলে এইসব লস্কর ফেরত মুজাহিদরা নিজ দেশে কি ইসলাম কায়েম করতে চাইবে না? তখন সামাল দিবেন কিভাবে? দশ ট্রাক অস্ত্র এনে বিএনপির কোন লাভ হয়নি। আবারো একই ভুল করলে সংশোধনের সুযোগ থাকবে না।
এই ৮ জঙ্গিকে আমাদের প্রবীর ঘোষ হলে বলতো ‘মুক্তিযোদ্ধা’! উনার কাশ্মীর নিয়ে লেখায় ইসলামী জঙ্গিদের মুক্তিযোদ্ধা বলেছিলেন। উনি বাম বলেই সেটা পেরেছিলেন। ৮ জঙ্গি ধরা পড়ার পর ভারতে সর্ষের ভেতর ভূত দেখতে পাচ্ছি। একদিকে অরুন্ধতী রায়রা বলবে পাকিস্তান কখনোই নিজ দেশের মানুষের উপর হামলা চালায়নি আর এই শাব্বির আহমেদদের ধরলে বলবে ভারতীয় সেনাবাহিনী নিজ দেশের মুসলমানদের উপর আক্রমন চালায়। বের হতে পারে বলিউডে ‘হায়দার-২’!
-সুষুপ্ত পাঠক








