মোহাম্মদ সোহেল▪️
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে কবিদের মিলনমেলায় কবিতার ছন্দ আর
কবি লিমা রহমান-এর কাব্যগ্রন্থ ‘কে রুখে দেয় দখিনের রোদ’-এর মোড়ক উন্মোচনে দখিনের রোদ যেন অক্ষরে অক্ষরে নেমে এসেছে এই গ্রন্থের পাতায়, আর সেই রোদ্দুরকে বুকে ধরে
যেন বইতে শুরু করে সাহিত্যের শীতল সমীরণ। শুক্রবার, (৮ মে) বিকেলে পৌরশহরের স্বাধীনতা কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় ভূঞাপুর সাহিত্য আড্ডার আয়োজনে অনুষ্ঠিত ১৪তম সাহিত্য আসর যেন কাব্যেরই এক মিলনক্ষেত্র
-যেখানে শব্দ ও ছন্দের দোলায় কম্পিত হয় প্রতিটি উপস্থিত প্রাণ। এ আসরের প্রধান আকর্ষণ ছিল কবি লিমা রহমান-এর কাব্যগ্রন্থ ‘কে রুখে দেয় দখিনের রোদ’-এর মোড়ক উন্মোচন। দখিনের রোদ যেন অক্ষরে অক্ষরে নেমে এসেছে এই গ্রন্থের পাতায়, আর সেই রোদ্দুরকে বুকে ধরে দাঁড়িয়ে কবি নিজেও যেন এক নীরব দহন।অনুষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন শাহজাহান মিয়া-যাঁকে বলা চলে ‘শব্দের মৃদু বাতাসে ভাসান এক অভিভাবক’। প্রধান অতিথি জহুরুল হক বুলবুল উপস্থিতিতে এনেছিলেন গভীর পাণ্ডিত্যের আভা; তিনি যেন ‘সাহিত্যের এক উজ্জ্বল প্রদীপশিখা’।
বাংলা সাহিত্যের নানা প্রসঙ্গে আলোচনায় এগিয়ে আসেন তিন খ্যাতিমান কবি ও গবেষক-কবি কাশিনাথ মজুমদার ছড়িয়ে দিলেন ‘পঙ্ক্তির মায়াজাল’, তিনি ‘যেন বর্ণমালার এক সুমধুর সুরকার’।
পিংকু মজুমদার তাঁর আলোচনায় ‘ছন্দের অলংকার পরিয়ে দিলেন প্রতিটি বাক্যে’-তিনি ‘কাব্যের এক চঞ্চল ফোয়ারা’। ড. আলী রেজা উপস্থিত করলেন ‘গবেষণার নির্যাস, যেন জ্ঞানের এক শীতল নির্ঝরিণী’। এই সাহিত্য আড্ডায় আরও অংশ নেন দেশ-বিদেশের অগণিত কবি ও সাহিত্যমনস্ক মানুষ। তাদের মধ্যে রয়েছেন কবি মো. হারুন অর রশিদ হিটলার-সঞ্চালকের দক্ষতায় ‘যখন কথা বলেন, তখন বয়ে যায় ছন্দের উজান’; তিনি যেন ‘এই আসরের প্রধান সুরধারী’। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন,
শান্ত স্রোতের মতো নির্ভেজাল প্রাণের মানুষ খায়রুজ্জামান ভূঁইয়া। সাহিত্যের কঠিন পথে এক নিভৃত পথিক মো. হামিদুল আলতাফ, গদ্যছন্দের নির্মাণশিল্পী চাঁন মাহমুদ, কাব্যভাষায় দীক্ষিত এক নীরব যোদ্ধা এম কে হাতেম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ধনবাড়ীর কবি সোহান। পল্লিকাব্যের সিক্ত প্রভাতি শিশির মায়াভরা মধুময়ী কথক আঞ্জু আনোয়ারা ময়না। আনোয়ার হোসেন খান, এম এ বাছেদ, ‘নিভৃতচারী এক শব্দ সাধক’ লাবিব,
মেয়েলি আবছায়ায় আলোকিত এক কলম রনী খাতুন, ‘সাহিত্যের পথে মাটির গন্ধ শুঁকে হেঁটে যাওয়া মানুষ’ আব্দুস সালাম, ‘অমলিন বন্ধুত্বের মতো নির্ভেজাল কবি ব্যক্তিত্ব মো. শফিকুল ইসলাম, ‘ঝরাপাতায় ভেজা কবিতা’ লেখা কবি শাহরিয়ার শ্রাবণ, আরও উপস্থিত ছিলেন হাসান কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান, ‘ছায়ার মতো সঙ্গী এক সাহিত্যবোদ্ধা’ হাসান সারোয়ার লাভলু, অনাবিল ভালোবাসায় জড়ানো এক কথক নজরুল ইসলাম, ‘ক্ষণজন্মা সম্ভার, বিদ্রোহের কাব্যপাখা’ মেহেদী হানান, প্রজন্মের চঞ্চল কবিতাচিল আব্দুস ছাত্তার খান, ‘গুরুগম্ভীর পাণ্ডিত্যের মূর্ত প্রতীক’ মামুন তরফদার। সঞ্চালনায় মো. হারুন অর রশিদ হিটলার-এর কুশলতায় পুরো আড্ডা ‘যেন বয়ে যায় ছন্দিত এক নদীর মতো’। শেষে এক অনবদ্য সাহিত্য পরিবেশে হৃদয়ে বাজে কবিতার মৃদঙ্গ, চোখে লেগে থাকে গ্রন্থমেলার অমায়িক আভা। সমাপ্তি ঘটে ‘কে রুখে দেয় দখিনের রোদ’-এর সেই রোদ্দুরকে স্মরণ করে-যাকে রুখতে পারেনি কিছুই, বরং তা কবিতার আঙ্গিকে হয়ে উঠেছে উষ্ণ আলিঙ্গন।







