প্রেম ভালোবাসা বাধা মানে না” এ কথাটির প্রজ্জলন্ত ব্যাখ্যা দিয়ে গেলেন এই দম্পতি। বন্ধুর কাছ থেকে নাম্বার নিয়ে পরিচয়ের কিছুদিন পার হতে না হতেই নিভির প্রেমের সম্পর্কের তীব্র আবেগে পরিবারের বাধা বিঘ্ন অতিক্রম করে প্রায় ৪ মাস আগে পালিয়ে বিয়ে করে, জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত একসঙ্গে থাকার শপথ নিয়েছিলেন স্বামী নাঈম হোসেন। দুই পরিবারও মেনে নেয় তাদের বিয়ে। নিজ বাড়িতেও যায়গা হয় তাদের। কিন্তু আলতা মেহেদীর রং না মুছতেই প্রাণের প্রিয়তমা স্ত্রীর পরকীয়ায় বলি হলেন স্বামী নাঈম হোসেন (২০)। এই নির্মম হত্যাকান্ড বেশ চাঞ্চল্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে। মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার চর ডাকাইতাবান্দা এলাকা থেকে স্বামী নাঈম হোসেনের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নাঈম হোসেন উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের মাইজবাড়ি গ্রামের মোঃ শফিকুল ইসলাম (দুদুর) ছেলে। স্ত্রী রেশমি খাতুন একই উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের রামাইল গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে। এ-ই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্ত্রীসহ পরকীয়া প্রেমিক মাসুদকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাসুদ অর্জুনা ইউনিয়নের চরভরুয়া গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। জানা যায়, দুইভাই এ-র মধ্যে নাঈম ছিল বড়, ছোটভাই ক্লাস সেভেনে পড়ে। তাঁর বাবা স্থানীয় বাজারে চা বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম (দুদু)। অভাব অনটন দূর আসনে স্ত্রী-সন্তানদের জন্য জীবনযুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন। যমদূত রেশমিকে বুঝার আগেই শোকের ছায়ায় মর্মাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার মত কেউ নেই। যানা যায়, শ্বশুর-শাশুড়ি তাঁর বড় মেয়ের বাড়ি নাটোর যাওয়ায় গত ১৬ ডিসেম্বর স্ত্রী রেশমিকে শ্বশুর বাড়িতে রেখে ১৮ ডিসেম্বর নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন নাঈম। যতদিন শ্বশুর-শাশুড়ি বাড়ি না ফেরেন ততদিন রেশমির সেখানেই থাকার কথা ছিল। তিন দিন পর স্বামী নাঈমকে যাওয়ার জন্য কল করতে থাকেন রেশমি। নাঈমের হাতে টাকা না থাকায় বিকাশে ৫০০ টাকাও পাঠান তিনি। পরে গত রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মায়ের কাছ থেকে আরও কিছু টাকা নিয়ে নতুন জামাকাপড় পরে শ্বশুরবাড়ি যান তিনি। বিকালে চর দেখানোর কথা বলে স্বামীকে নিয়ে ঘুরতে বের হন স্ত্রী রেশমি। বাড়ি থেকে বেশ দূরে কোন এক নির্জন জায়গায় নিয় পরিকল্পিতভাবে পূর্বের প্রেমিক মাসুদসহ অন্যদের নিয়ে নাঈমকে হাত পা বেঁধে নদীর পানিতে চুবিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেন রেশমী পরে সেই লাশ একটি নৌকার নিচে বেঁধে রেখে গুমের চেষ্টা করেন তারা। সন্ধ্যার পর বাড়িতে এসে স্বামী নাঈমকে খুঁজে পাচ্ছেন না বলে রেশমি মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে কান্না শুরু করেন। এবং শাশুড়িকে কল দিয়ে জানান, নাঈম টয়লেটের চাপে ভুট্টা ক্ষেতে গিয়েছিল, দীর্ঘক্ষণ পেরিয়ে গেলেও আর ফিরে আসেনি। পরে তিনি খোঁজ করে না পেয়ে বাড়ি ফিরে এসেছেন। পরদিন নাঈমের সন্ধানে তাঁর শ্বশুরবাড়ী রামাইল যান। সেখানে স্ত্রী রেশমি তাদেরকে একই কথা বলে কান্না করে খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে খালি হাতে ফিরে আসেন। রেশমির কথায় সন্দেহজনক মনে হলে থানা পুলিশকে জানায় নাঈমের পরিবার। পরে পুলিশ কৌশলে রেশমিকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি নিজেই হত্যার কথা স্বীকার করেন। এবং লাশ কোথায় গুম করে রেখেছেন তাও জানান। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে প্রথমে প্রেমিক মাসুদকে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আটক করে থানা পুলিশ। মাসুদ অর্জুনা ইউনিয়নের চরভরুয়া গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। পরে রেশমি ও মাসুদকে সঙ্গে নিয়ে লাশ উদ্ধার অভিযানে যায় পুলিশ। রাতে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার চর ডাকাইতাবান্দা এলাকা থেকে স্বামীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ভূঞাপুর থানার এস আই ফরিদ আহমেদ জনান, নাঈম হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন স্ত্রী রেশমি ও তাঁর প্রেমিক মাসুদ। বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকালে জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আহসান উল্লাহ্ জানান, নাঈম হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদালতে রেকর্ড করা হয়। তারা দুজনই নাঈমকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করার পর মৃতদেহ গুমের চেষ্টার কথা স্বীকার করেছেন। এবং তার দেওয়া বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে আরও যারা জড়িত তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। মোহাম্মদ সোহেল, ক্রাইম রিপোর্টার (টাঙ্গাইল)
অপ্রতিমের হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
কুমিল্লা: অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার...








