আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহী-১ আসনে (তানোর-গোদাগাড়ী) শুরু হয়েছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণা ও গণসংযোগ। এদিকে উপজেলা নির্বাচনে এবার জয়-পরাজয়ে মেইন ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে স্থানীয় এমপির অদৃশ্যে সমর্থন বলে মনে করছেন ভোটারগণ। ফলে সিংহভাগ প্রার্থী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তথা স্থানীয় এমপির অদৃশ্যে সমর্থন পেতে দলের নীতিনির্ধারণী মহলে দেন-দরবার করেছেন। কিন্ত্ত যারা মুলধারার আদর্শিক নেতৃত্ব তারাই দল বা স্থানীয় এমপির অদৃশ্যে সমর্থন পেয়েছেন। এসব বিবেচনায় তানোরে উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না ও গোদাগাড়ীতে উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিজয়ী হবার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন।
বিগত উপজেলা নির্বাচনে এমপি ফারুক চৌধূরীর রাজনৈতিক দূরদর্শীতায় আদর্শিক ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব তানোর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না এবং গোদাগাড়ী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত,স্থানীয় রাজনীতি,অর্থনীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও নেতৃত্ব ইত্যাদি সবকিছুই স্থানীয় এমপিদের নিয়ন্ত্রণে।ফলে এমপিদের সমর্থিত প্রার্থী ব্যতিত অন্যদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করা আর নিজের পাঁযে কুড়াল মারা সমান কথা। কারণ এমপিবিরোধী কেউ বিজয়ী হলে তাকে তো যেকোনো কাজের জন্য এমপির কাছেই যেতে হবে তখন কি এমপি তাকে চাহিদা মতো কাজ দিবেন ? তাহলে ওই ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে জনগণের লাভ কি ?
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাচন ঘিরে এলাকায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বোধদয় হয়েছে এটা স্থানীয় নির্বাচন ক্ষমতা পরিবর্তনের নির্বাচন নয়। কাজেই সরকারি দলের অদৃশ্য সমর্থিত
প্রার্থীর বিজয় ব্যতিত এলাকার উন্নয়ন সম্ভব নয়। যার জ্বলন্ত উদাহরণ রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।বিগত রাজশাহী সিটি নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে ভোট দিয়ে বিএনপি প্রার্থীকে বিজয়ী করে কিভাবে উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছিল রাজশাহীর মানুষ সেটা ভুলেনি। এই বিবেচনায় তানোর- গোদাগাড়ী উপজেলার মানুষ উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে কোনো ব্যক্তি নয়, সরকারী দলের অদৃশ সমর্থিত প্রার্থীর বিজয় চাই।
এদিকে আওয়ামী লীগের নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের বোধদয় এটা দলের সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং তার প্রতিনিধি সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীর প্রেষ্টিজ। তাই তারা এবার কারো কোনো মোহে বা প্ররোচনায় পড়ে সরকার সমর্থক প্রার্থীর বিপক্ষে ভোট প্রয়োগ করবেন না। তাদের অভিমত, ভুল থাকতে পারে প্রার্থী বা কোনো নেতাকর্মীর। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রতিনিধি স্থানীয় সাংসদ ফারুক চৌধুরী কোনো ভুল করেননি। ফলে তাদের সম্মান রক্ষায় তাদের সমর্থিত প্রার্থীর বিজয় ব্যতিত বিকল্প নাই। কারণ তাদের সমর্থিত প্রার্থীর পরাজয় ঘটলে কেউ প্রার্থীর পরাজয়ের কথা বলবে না, বলবে দলের পরাজয় ঘটেছে, আর এটা আওয়ামী লীগের আদর্শিক কোনো নেতা বা কর্মী-সমর্থকের কাম্য হতে পারে না ? অপরদিকে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা অভিমান বা মোহের বসে নৌকার বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল। তারা সেই ভুল অনুধাবন করে এখন অনুতপ্ত। এবার তারা শপথ নিয়েছে উপজেলা নির্বাচনে সরকার সমর্থিত প্রার্থীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করে তারা তাদের সেই ভুল শোধরাতে চাই।
এদিকে করোনাকালীন সময়ে তানোর উপজেলায় ২টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং গোদাগাড়ী উপজেলায় ২টি পৌরসভা ও ৯ টি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ময়না-জাহাঙ্গীর ছুটে চলেছেন। স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীর আহবানে সাড়া দিয়ে তার বিশস্ত্ব দুই প্রতিনিধি লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না ও জাহাঙ্গীর আলম সাধারণ মানুষের কাছেও আস্থা ও ভরসার প্রতিক হয়ে উঠেন। করোনা ভাইরাস দুর্যোগে তারা মানবতার রানার হয়ে সাধারণ মানুষের সেবায় দিনরাত অবিরাম ছুটে চলেছেন। তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত সবপ্রান্তেই তাদের সরব উপস্থিতি করোনা প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ ও সাহসী করে তুলেছিল। স্থানীয় সাংসদের নিজস্ব তহবিল পাশাপাশি তারাও তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে নিম্ন আয়ের কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা দেবার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে নিজে নিরাপদ থেকে অন্যকে নিরাপদ রাখতে কি করনীয় সেই সম্পর্কে সাধারণ মানুষদের মধ্যে জনসচেতনা সৃস্টির লক্ষ্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন এবং সবাইকে এগিয়ে আশার আহবান জানিয়েছেন। তাদের সেই অবদানের কথা সাধারণ মানুষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে আবারো তাদের প্রতি আস্থা রেখে তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে একট্টা হয়েছেন।#
Post Views: 212
Related