মাধবপুর ( হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ একসময় আরিফুল ইসলাম জিয়া হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় নোয়াপাড়া, বাঘাসুরা এলাকায় সার ব্যবসায়ী হিসেবে জীবন যাপন করতেন। তার জন্মস্থান ব্রাহ্মণ্যবাড়ী জেলায়। মামলা মোকদ্দমা থেকে নিজেকে প্রশাসনের চোখে আড়াল রাখতে চলে আসেন মাধবপুর উপজেলায়। ধর্ম আত্মীয়তার ছায়ায় আস্তে আস্তে শুরু করেন তার মিশন। এমনি করে শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জায়গায় জমি ক্রয় করে দিবে বলে শুরু করেন তার মিশনের কার্যক্রম। তা থেকে জিরো পয়েন্ট থেকে আজ আরিফুল ইসলাম জিয়া কোটি কোটি টাকার মালিক বনে শিল্পপ্রতি হয়ে গেছেন। আর প্রতারণার টাকা দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বাড়িঘর, ঢাকা-সিলেটে প্লাট বাড়ি ক্রয় করে রাজার হালে বসবাস করে আসছেন। শুধু তাই নয় তার এক ছেলেকেও লেখা পড়া করার জন্য পাঠিদেন ইউকে।
উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের শাহপুর-হরিতলা এলাকার নিরীহ কৃষক ও জনতা আরিফুল ইসলাম জিয়ার খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছে।
আরিফুল ইসলাম জিয়া বিএনপির অঙ্গসংগঠন পেশাজীবি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পরিচয়ে নিজেকে বড় মাপের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ জনতা’কে দিনের পর দিন হয়রানি স্বীকার করে আসছে ।
পেশাজীবি দলের কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট পদ’কে পুজি করে, বিএনপির ব্যানারে প্রতারক জিয়া তার আর্থিক সুবিধা আদায়ে কুট-কৌশল হিসেবে গ্রামের অসহায় সহজ-সরল মানুষদের বিভিন্ন প্রলোভনে পারিবারিক বিবাদে জড়িয়ে ফেলছে। দেন-দরবারের মাধ্যমে তার আর্থিক সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে। জমাজমি ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমেও জিয়া কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।
জানা যায়, জিয়া প্রতারণা করে শূন্য থেকে শত কোটি টাকার মালিক হওয়ার অবিশ্বাস্য ঘটনা। একের পর এক প্রতারণার ঘটনায় এখন নিঃস্ব মানুষের সংখ্যা প্রায় শতাধিক। ভয়ভীতি, হুমকি-ধামকি এমনকি নারী দিয়ে ফাঁসানো, চুরি, ছিনতাইসহ নানান ধরণের মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানী করার ফলে কেউ মুখ খুলতেও সাহস পান না।
নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণকারী আরিফুল হক জিয়া এখন শত কোটি টাকার মালিক !
জমি কেনার নামে অল্প কিছু টাকা বায়না দিয়ে বাকি টাকা তার স্বাক্ষরিত ভুয়া ব্যাংক চেকের মাধ্যমে দলিল লেখক দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়া তার প্রথম কাজ।
এরকম অহরহ অভিযোগ রয়েছে এলাকায়। জিয়ার প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন। এমন তথ্যেরও সত্যতাও মিলেছে। একজনের জমি অণ্যজনকে দিয়ে রেজিস্ট্রি, দলিল না করে সাবকবলা কিংবা পাওয়ার অব এটর্নি করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি, এক মৌজার জমি অন্য মৌজায় দেখানো, ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করে গ্রামের অসহায় সহজ-সরল মানুষদের সাথে করে আসছে প্রতারণা। আর তার এসব কাজে সহযোগিতা করে আসছে সালাহ উদ্দীন নামের এক দলিল লিখক।
ভুক্তভোগীরা জানান, এই প্রতারক জিয়ার কাছে আপন পরের বালাই নাই। অর্থের কাছে সে অন্ধ। তার রয়েছে বিশাল নেটওর্য়াক। এই নেটওর্য়াকের মাধ্যমেই সে এলাকায় নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, ডাকাতি জমি দখল, গরু চুরি, গাজার ব্যবসা, জুয়া খেলা ও হত্যা মামলার আসামি বানিয়ে অনেক পরিবার’কে পথে বসিয়ে দিয়েছেন। তাছাড় অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে সামাজিক জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। মানুষকে ধোঁকা দিয়ে তার নামে, তার ভাইর নামে, তার স্ত্রী’র নামে, তার শশুরের নামে, তার শাশুড়ী নামে, ও তার আত্মীয় স্বজনের নামে জমি লিখে নিয়ে বিভিন্ন কোম্পানীর কাছে বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকৃত জমির মালিকগন তাদের জমির দলিলাদিসহ জায়গায় ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তুক ফাইনাল প্রিন্ট পর্চায় তাদের নাম নেই। ফাইনাল প্রিন্ট পর্চায় মালিক বনে গেছে জিয়াসহ তার স্বজনরা। জিয়ার স্বজনদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে, অধিকাংশ লোকই জানান আমরা ঐসবের মধ্যে নেই। নিজের সম্পদই হেফাজতে রাখতে কতকিছু করতে হয়। ফাও বেজালে আমরা নেই। আবার কোন কোন ব্যক্তি জানেইনা যে তারা ফাইনাল প্রিন্ট পর্চায় অন্য জায়গার মালিক হয়েছেন।
প্রকৃত জমির মালিকগনের নামে ফাইনাল প্রিন্ট পর্চায় তাদের নাম না আসায় অনেকেই আদালতে মামলা দায়ের করা জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যে ভাবে প্রতারণা ডানা মেলে প্রতারক জিয়াঃ বিএনপির অঙ্গসংগঠন পেশাজীবি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আরিফুল ইসলাম জিয়া। রীতিমতো প্রতারণার জাদুকর। তার প্রতারনার স্বীকার এলাকার সাধারণ জনগন, বিভিন্ন কলাকৌশলে ভূমির মালিকদের সাথে সম্পর্ক গড়ে হাতিয়ে নেয় সম্পদ,কোম্পানির কাছে মিডিয়া হিসাবে জমি বিক্রির কাজ সুচারু ভাবে সম্পন্ন করে, কিন্তু টাকা নিয়ে নেয় নিজের কাছে, নামে মাত্র বায়না দিয়ে বায়নাপত্র করার নামে করে সাফকাবলা।
তবে তার প্রতারণার লক্ষ্য শুধু টাকা কামান’ ছিল না; যশ ও খ্যাতির জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও কর্মকাণ্ডে তিনি নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন। এসব পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে গণমাধ্যমেও তার সরব উপস্থিতি ছিল। তার রাজনৈতিক অভিলাষও ছিল। তার অন্যতম লক্ষ্য ছিল পৌর মেয়র হওয়া। এ জন্য ঢাকা থেকে বিএনপির অনেক কেন্দ্রীয় নেতাদের ম্যানেজ করে এলাকায় (শ্রীমঙ্গলে) তিনি নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। প্রকাশ্যে প্রচারে না গেলেও সুকৌশলে তিনি কাজ করছিলেন। রমজান মাস এলেই এলাকার গরিবদের মাঝে ইফতার বিতরণ, ত্রাণ বিতরণ, শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করে বিভিন্ন ইলেক্ট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারও করে আসছেন।
শুধু বিএনপি নেতাদের নয় বাগিয়ে নিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতাদের তকমা। দিন দিন বেড়েই চলছে তার ক্ষমতার দাপট। তার ভয়ে রীতিমতো তটস্থ থাকেন অনেক ভুক্তভোগী। সম্প্রতি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলর বাঘাসুরা ইউনিয়নের হরিতলা এলাকায় কুলটেক সলিউশন লিমিটেডের হয়ে জমির দালালি করতে গিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে আসে জিয়ার নাম। নামে মাত্র বায়না করে হুমকি ধমকি দিয়ে নিরীহ মানুষের জমি দখলের নানা তথ্য আসে জিয়ার নামে। জানা যায় তার জীবনের অভিলাষের কথা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই এলাকার মেশকাতের হাত ধরে ২০০৯ সালে আরিফুল ইসলাম জিয়া আসেন শাহপুর এলাকায়। মেশকাতের শ্যালক পল্লবের সাথে পরিচয় হয়ে জিয়াও মেশকাতের শ্যালক পরিচয় দিতে থাকে এলাকায়। একসময় পল্লবকে হাত করে শাহপুর নতুন বাজারে সারের ব্যবসা শুরু করে। মেশকাত ও পল্লবের পরিচয় কাজে লাগিয়ে বেচে নেয় প্রতারণার মাধ্যম। কুলটেক সলিউশন লিমিটেডে জমি কেনার জন্য শাহপুর এলাকায় আসলে জিয়ার সাথে পরিচয় হয় কোম্পানীর চেয়ারম্যান আব্বাসী আদম আলীর। জমি কেনার দায়িত্বও পান জিয়া। অল্প সময়ে কোটিপতির স্বপ্ন দেখেন জিয়া। এলাকার কিছু যুবককে হাত করে গড়ে তুলে জিয়া বাহীনি। তাদের দিয়ে এলাকার নিরহ মানুষকে কাবু করাসহ নানা ধরণের ফন্দি একেঁ জিয়া। এক মৌজার জমি অন্য মৌজা দেখানো, মালিকানা পরিবর্তন, পর্চা কর্তনসহ নান ধরণের অপরাধ।এতে সহায়তা করে আরেক দালাল সালাহ উদ্দিন। ভাই ভাইকে দিয়ে দন্ধ, পিতা-পুত্রের মধ্যে দন্ধ লাগিয়ে একের প্রতি অন্যের মামলা করিয়ে হয়রানী করা। তারপর তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়াঁনোর নামে অল্প কিছু টাকা দিয়ে বায়না দলিলের কথা বলে মুল রেজিস্ট্রি করে নেয় জিয়া। এভাবেই অনেককে করেছে পথের ভিখারী। বাহিনী দিয়ে ভয়ভীতির মাধ্যমে জমি দখল, মারপিট করা, মাদক মামলা দিয়ে হয়রানী, নারী কেলেঙ্কারী করানো সহ এমন কোন কাজ নেই যা জিয়া করেনি। জমির টাকার চেক দিয়েও আবার ছলে বলে কৌশলে চেক ফেরত নেয়া। এভাবেই ডানা মেলে তার প্রতারণার পাখার। মাত্র কয়েক বছরে জিয়া হয়ে উঠে কোটি কোটি টাকার মালিক। চড়ে দামী গাড়িতে।
চতুর চালাক জিয়া মিডিয়া কর্মীদেরও ম্যানেজ করে নেয়। এক সময় হবিগঞ্জ থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকার উপদেষ্টা পদও ভাগিয়ে নেয়। বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত থাকা এই জিয়া নিজের অতীত অপকর্ম আড়াল করে তার বদৌলতেই বাগিয়ে নেন বিএনপির অঙ্গসংঠন পেশাজীবি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির পদও। জিয়াকে আর ঠেকায় কে! বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে টাকার বিনিময়ে পদক নিয়ে নিজেকে শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে লেগেই রয়েছে।
ভূমিদস্যু আরিফুল ইসলাম জিয়ার হাত থেকে নিজেদের সহায়-সম্পত্তি রক্ষা করতে রাস্তায় নেমেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরাসহ এলাকাবাসী। গত ২৯ মে সকাল ১১ টায় উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের হরিতলা এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি করেন তারা।
কর্মসূচিতে ভূমিদস্যু জিয়ার ছোবলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, গড়ে উঠা কুলটেক সলিউশন লিমিটেডের কপারটেক নামক প্রতিষ্ঠানের ভূমির দালালি করেন আরিফুল ইসলাম জিয়া। গত কয়েক বছর ধরে জমি কেনার নামে প্রতারণা করে আসছেন জিয়া। জাল দলিল সৃষ্টি করে হাতিয়ে নেয় জমি। অনেককেই চেক দিলেও পায়নি কেউ টাকা। কেউ এর প্রতিবাদ করলেই মাদক, ডাকাতি কিংবা নারী ধর্ষণ মামলা দিয়ে করা হয় হয়রানী। তার বাহীনি দিয়ে হামলা-মামলা ও হুমকি ধামকি দিয়ে দাবিয়ে রাখছে জিয়া। পরে রাতের আধারে ওইসব জমি দখলে নেয় প্রতারক জিয়া।
বাবুল নামে এক ভূক্তভোগীর কাছ থেকে ৩ কোটি ৭৫ লাখ জমি কিনে নিলেও পায়নি কানাকড়ি। আদালতের দারে দারে ঘুরছেন বাবুল মিয়া।
কুদরত আলী নামের অপর এক ভুক্তভোগীর দাবি, তার বসতবাড়ি ক্রয়ের নামে ভুয়া দলিল বানিয়ে দখল নেয়ার চেষ্টা করে জিয়া ও তার বাহীনি। এরকম একই অভিযোগ তুলছেন বাকিরাও।
এ কর্মসূচিতে ‘চিহ্নিত ভূমিদস্যু, দখলবাজ, ভূমি দালাল ও চাঁদাবাজ আরিফুল ইসলাম জিয়াসহ তার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা ও তাদের বিচার দাবি’ লেখা সম্বলিত ব্যানার এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বিভিন্ন প্লেকার্ড হাতে নিয়ে ঘন্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করেছেন,যা স্হানীয় পত্রিকাসহ বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলে সংবাদ প্রকাশ হয়। দীর্ঘ দিন যাবত এই প্রতারকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার পরও প্রশাসনসহ উর্ধতনকর্মকর্তাদের কোন ভূমিকা না থাকায় হবি তথা মাধবপুর উপজেলায় চলছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। তাহলে কি সাধারণ জনতা দিনের পর দিন হয়রানি স্বীকার হয়েই যাবে?
মাধবপুর উপজেলার সচেতন মহলের নাগরিকদের জোর দাবি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ ভূমি মন্ত্রী’র কাছে অতি শীঘ্রই যেন কৃষক ও সাধারণ জনতার প্রতি সু-দৃষ্টি রাখেন।
আগামী পর্বে আসছে জিয়ার অভয়ারণ্যে মুখোশ উম্মুক্ত জানতে চোখ রাখুন পত্রিকার পাতায়।







