মো.মাসুদ রানা,
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
পার্বত্য চট্টগ্রামের জনপদ সারা বছরই নানা উৎসব আনন্দে মুখরিত থাকে। বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান বিজু, বৈসাবি ও সাংগ্রাইয়ের পাশাপাশি ঈদের আমেজ কে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সিন্দুকছড়ি জোন। পাহাড়ের অন্যান্য উৎসবের মতো ঈদুল ফিতরের আনন্দকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে মাসিক মানবতা ও সমাজকল্যাণ সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আজ বুধবার ১৮ মার্চ দুপুরে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সিন্দুকছড়ি জোনের পক্ষ থেকে এলাকার ১৩০টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে শুভেচ্ছা উপহার বিতরণ করেন জোন উপ-অধিনায়ক মেজর মোঃ মাজহার হোসেন রাব্বানী।
উপহার হিসেবে এসব পরিবারকে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, নতুন শাড়ি, লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি প্রদান করা হয়।
এই উদ্যোগের ফলে পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে এবং সেখানে বিরাজ করছে আনন্দের আমেজ।
শুধু ব্যক্তি পর্যায়েই নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকেও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সিন্দুকছড়ি জোন। এ সময় এলাকার একটি মন্দিরে আয়োজিত মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠানের জন্য ৫ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়। এছাড়াও সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দুইটি পরিবারের পুনর্বাসনে সহায়তার জন্য ৫ হাজার টাকা ও ঢেউটিন প্রদান করা হয় এবং বিভিন্ন অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে নগদ ২৩ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
শিক্ষা ও কৃষির প্রসারে জোনের এগিয়ে আসার ধারা অব্যাহত রেখে, দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য নগদ ৩০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে এলাকার কৃষকদের মাঝে পাঁচটি স্প্রে মেশিন বিতরণ করা হয়।
সিন্দুকছড়ি জোনের পক্ষ থেকে বলা হয়, “পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি মানুষের সুখে-দুঃখে আমরা পাশে থাকতে চাই। বৌদ্ধ, হিন্দু, খ্রিস্টান ও মুসলিম নির্বিশেষে সবার মাঝে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করতেই আমাদের এই প্রচেষ্টা। বিজু, বৈসাবি, সাংগ্রাই কিংবা ঈদ—প্রত্যেকটি উৎসবই আমাদের কাছে সাম্যের বার্তা বহন করে। আমরা চাই, পাহাড়ের প্রতিটি ঘরে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক।”
সিন্দুকছড়ি জোনের এই ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগকে স্থানীয়ভাবে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে এবং এটি পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বলে অভিমত স্থানীয় সুধী মহলের।







