রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগিরা পড়েছে অসহনীয় দুর্ভোগে। নেই পানি, খাওয়া যাচ্ছে না হাসপাতালের দেয়া খাবার। অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে রোগি ও তাদের স্বজনগণ। জানা যায়, মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মহিলা ওয়ার্ড, প্রসূতি, শিশু ওয়ার্ড ও পুরুষ ওয়ার্ডের ৩৩টি ফ্যানের মধ্যে ১২টিই বিকল। ফলে গরমে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে রোগি। উপরে ফ্যান থাকলেও রোগিকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছে। রোাগদের অভিযোগ নি¤œমানের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। মারফত আলী সজীব নামে এক রোগি বলেন, হাসপাতাল থেকে যে খাবার দেয় তা গলা দিয়ে নামে না। মিঠাপুকুর উপজেলার কুঠির পাড়া গ্রামের ডায়রিয়ায় আক্রান্ত আছমা আক্তার বলেন, হাসপাতালে গরমে নাভিশ্বাস অবস্থা। মেয়ে মিতা খাতুন হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছে। মিঠাপুকুরের বড়বালা ইউনিয়নের শারমীন আক্তার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১০ মাসের শিশু সীমাকে নিয়ে এক দিন আগে ভর্তি হয়েছে। তিনি হাতপাখা দিয়ে বাতাস করেও কোনোভাবেই শিশুর কান্না থামাতে পারছেন না। কর্তব্যরত নার্স বলেন, গত কয়েক দিন ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়ার ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্তহয়ে অর্ধশত রোগি চিকিৎসা নিচ্ছে। প্রতিদিন রোগির সংখ্যা বাড়ছে। ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৫৫ জন রোগি ভর্তি রয়েছে। রোগির স্বজনদের অভিযোগ ওয়ার্ড থেকে রোগিদের নার্সের কক্ষে ডাকা হয় ইনজেকশন পুশ করার জন্য। ওই সময় শিশু রোগিদের নিয়ে অভিভাবকেরা লাইন ধরে নার্সের কক্ষের সামনে দাড়াতে হয়। কর্তব্যরত নার্স বলেন, রোগিদের সুবিধার জন্য তাদের কক্ষে আসতে বলা হয়। মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল ইসলাম বলেন, তিনি অল্প কিছু দিন আগে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। হাসপাতালের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে বৈঠক করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে। বিকল ফ্যানগুলো মেরামত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নার্সদের সতর্ক করা হবে। রোগিদের খাবার উপযোগী খাদ্য সরবারাহ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হবে।








