মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের লংমার্চের একটি পথসভা মিরসরাই উপজেলা সদরে অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫ টায় পথসভা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলা উদ্দিন শিকদারের সভাপতিত্বে এবং মিরসরাই উপজেলা জাময়াতের আমীর নুরুল কবিরের সঞ্চালনায় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আপনারা বিদ্যুত চান, গ্যাস চান, পানি চান, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে চান, হ্যাঁ ভোটের বাস্তবায়ন চান, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চান, শাপলা গণহত্যার বিচার চান, পিলখানা হত্যাকান্ডের বিচার চান, শহীদ ওসমান হাদির বিচার চান, জুলাই গণহত্যার বিচার চান-এই সরকার কি এগুলো বাস্তবায়ন করবে? না। তাহলে আপনারা তৈরি হোন। চাঁন্দাবাজি আমরা বন্ধ করবো, দুর্নীতি আমরা বন্ধ করবো। আমরা সুন্দর আগামীর বাংলাদেশ গড়বো ইনশাল্লাহ।’
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘আমরা ক্ষমতাসীন দলকে বলতে চাই। ৬ মাস হয়েছে, এই ৬ মাসে এত বড় কর্মসূচী কেন দেওয়া লাগলো। আপনাদের হিসেব নেই অনেক রক্তের বিনিময়ে জুলাই জাতীয় সনদ পেয়েছিলাম এবং একটি গণভোট ও জাতীয় ভোট হয়েছে। সেই গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের জন নতুন জাতীয় সংসদ অধিবেশন যেদিন আহবান করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতির আদেশের আইনে বলা হয়েছিল ১ মাসের মধ্যে সংবিধান সংষ্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে হবে। আপনারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে গণভোটকে ভুলে গিয়ে জনগণের রায়ের সাথে বিশ^াসঘাতকতা করে সংষ্কার অধিবেশন ডাকেননি। কথা ছিল ১৮০ দিনের মধ্যে এই জুলাই সনদের ৮৪টি ঐক্যমত্য কমিশনের সংবিধান সংষ্কারের একমত হওয়ার, রাষ্ট্র সংষ্কারের বিষয়গুলো আপনারা কার্য্যকর করবেন। এই সেপ্টেম্বরে ১৮০ দিনও শেষ হতে চলেছে আপনারা সেই ওয়াদা রক্ষা করেননি। ৬ মাসেইতো জাতির সাথে আপনারা বিশ^াস ঘাতকতা আপনারা করেছেন।’
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, ‘ছাত্রলীগ, যুবলীগের যে সন্ত্রাসী ছিল তাদেরকে ওই পাড়ের দাদাবাবুদের কাছে আপনারা পাঠিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তাদেরকে পাঠিয়েছি তাদের খাছলত আমরা বলি অভ্যাস তাদের সে অভ্যাসগুলো এখনো বাংলাদেশে রয়ে গেছে। সেই ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামীলীগের অভ্যাস ছিল তাঁরা চাঁদাবাজি করতো। এখন সেই খাছলত নতুন দলের কাছে এসেছে। তাঁরা সন্ত্রাসী করতো ক্যাম্পাসে আপনারা দেখেছেন। ছাত্রদল, যুবদল সন্ত্রাসী কার্য্যক্রম করতে। আমরা আপনাদের হুঁশিয়ার করে বলবো আমাদের নয় দফা যে দাবী ছিল সেটা এক দফায় রুপান্তর হয়েছিল। শেখ হাসিনা উঁকি মারে কিন্তু আসতে পারে না। আমরা আপনাকে বলবো ভাইয়া জান ৬ দফা দাবী যদি না মাইনা নেন এই ৬ দফা দাবী এক দফা দাবীতে রুপান্তর করা হবে। আল্লাহ ছাড়া আমরা কাউকে ভয় পাই না।’
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ‘আমরা স্পষ্ট বলে দিতে চাই, এই বাংলাদেশে আর আওয়ামী স্টাইলের একতরফা, রাতের ভোটের কিংবা দখলদারিত্বের নির্বাচন আমরা হতে দেব না। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তার আগে নির্বাচন কমিশনে বিএনপির দলীয় লোককে বসানোর পেছনে কী উদ্দেশ্য? এতেই স্পষ্ট বোঝা যায়, বাংলাদেশে সামনের নির্বাচনগুলোতে দখলদারিত্ব করার নতুন প্ল্যান শুরু হয়েছে। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি সংস্থা, প্রত্যেকটা জায়গায় সরাসরি দলীয় রাজনীতি করা পদধারী ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি বিএনপির দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।’-শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মিরসরাইয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত লংমার্চের পথসভায় এসব কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ এমনকি ইউনিয়ন পরিষদেও দলীয় লোকজনকে প্রশাসক হিসেবে বসানো হয়েছে। অথচ তারা নির্বাচন দেওয়ার কথা বলেছিল। এখন ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি করপোরেশনে নির্বাচন দেওয়ার বিষয়ে তাদের আর কোনো হুঁশ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ছয় দফা দাবিতে শুরু হওয়া লংমার্চের প্রসঙ্গ তুলে আখতার হোসেন বলেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মানুষের মধ্যে এ কর্মসূচির পক্ষে ঐক্য তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য, ‘জনতার এই জোয়ার থামানো আর সম্ভব নয়। এত মানুষ কষ্ট করে, রোদে পুড়ে রাজপথে দাঁড়িয়ে আছেন, মিছিলে এসেছেন। আপনাদের হয়ে আমরা কথা বলব। ঢাকা থেকে যারা এসেছি, আপনাদের কথা দিচ্ছি– সংসদে ও সংসদের বাইরে যেখানেই সুযোগ পাব, জনতার পক্ষে কথা বলব। বাংলাদেশে আমরা স্বাধীনতার লড়াই চালিয়ে যাব।’
তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের প্রতি যে চক্রান্ত আপনারা চালিয়ে যাচ্ছেন, যে দুঃসাহস দেখাচ্ছেন, তা থেকে ফিরে আসুন। জনগণের ইচ্ছাকে স্বীকার করে গণঅভ্যুত্থানের অভিপ্রায় অনুযায়ী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করুন।’
আখতার হোসেন বলেন, একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে আরেকটি ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য ছাত্র-জনতা জীবন দেয়নি। শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ কিংবা এই চট্টগ্রামের অধিবাসীরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্যই জীবন দিয়েছিল। সেই পথেই আমাদের ওসমান হাদী ভাইকে শাহাদাত বরণ করতে হয়েছে। আমরাও শাহাদাত বরণ করতে প্রস্তুত, কিন্তু বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদকে আসতে দেব না। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, যারা ফ্যাসিবাদী ছিল, মানুষকে খুন-গুম করেছে এবং আলেম-ওলামাদের নির্যাতন করেছে, তাদের অনেকে এখনো মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিরোধীদলের আমাদের বন্ধুদের গ্রেপ্তার না করে ওই আওয়ামী দোসরদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসুন।’
আখতার হোসেন বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস খর্ব না হবে, যতক্ষণ নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত না হবে, ততক্ষণ সংগ্রাম চলবে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ ও ‘দিল্লির দালালদের’ প্রতিহত করার আহŸানও জানান তিনি।
এসময় বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ (বীর বিক্রম), সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি অধ্যাপক ফজলুল করিম, মিরসরাই খেলাফত মজলিসের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সভাপতি জাফরুল্লাহ নিজামী, খেলাফত মজলিস মিরসরাই সভাপতি মাওলানা মফিজ উল্ল্যাহ নিজামী, এনসিপির মিরসরাই সমন্বয়ক আরিফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি জসিম উদ্দিন আজাদ, মিরসরাই জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, মিরসরাই পৌরসভা জামায়াতের আমির শিহাব উদ্দিন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি মাঈন উদ্দিন রায়হান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শিবিরের কলেজ বিষয়ক সম্পাদক সাকিব হোসাইনসহ অরো অনেকেই।








