মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ একই পরিবারের পাঁচজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে উপজেলার মিরসরাই সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কিছমত জাফরাবাদ এলাকার নওশা মিয়া চেয়ারম্যান বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার সকালে স্বজনরা অসুস্থদের উদ্ধার করে মিঠাছরা ডায়নামিক হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে মিরসরাই থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অসুস্থরা হলেন—ওই বাড়ির মৃত মাঈন উদ্দিনের ছেলে বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী (৪০), তার স্ত্রী জেরিন (৩০), মৃত জয়নাল হুদার ছেলে শাহাবুদ্দিন চৌধুরী (৫০), তার ছেলে ইরফান উদ্দিন চৌধুরী (২৮) ও ইরফানের স্ত্রী মাইমুনা (২৫)।
পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা রান্না করা ভাত ও তরকারির হাঁড়িতে চেতনানাশক জাতীয় কোনো পদার্থ মিশিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। রাতের খাবার খাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা একে একে ঘুমিয়ে পড়েন। বুধবার সকালে পাশের ঘরের লোকজন তাদের অস্বাভাবিক অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অসুস্থ বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রাতের খাবার খাওয়ার পরপরই আমি ও আমার স্ত্রীর ঘুম চলে আসে। সকালে আমার চাচাতো ভাই এসে আমাদের এবং আমার আরেক চাচার পরিবারের সদস্যদের হাসপাতালে নিয়ে যান। এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারিনি। চোখে ঘুম ঘুম ভাব রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, চুরি করার উদ্দেশ্যে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা আমাদের খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে দিয়েছে। এতে আমরা সবাই অচেতন হয়ে পড়ি। আমার প্রায় লক্ষাধিক টাকা ও বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে গেছে।
স্বজন অয়ন চৌধুরী বলেন, রাত ১১টার দিকে সবাই রাতের খাবার খেয়েছি। খাবারের আগে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা রান্না করা ভাত ও তরকারির হাঁড়িতে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে দেওয়ায় সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। আমার জেঠাতো ভাই ও চাচার পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তারা হাসপাতালে থাকায় কী পরিমাণ জিনিসপত্র চুরি হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে তারেক আজিজ নোবেল দাবি করেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের রান্নাঘরে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি রান্না করা তরকারিতে চেতনানাশক জাতীয় ওষুধ মেশানোর চেষ্টা করে। এ সময় তার ছোট বোন ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য লাইট জ্বালালে ওই ব্যক্তি ওষুধ মেশানোর আগেই পালিয়ে যায় বলে জানান তিনি।
মিঠাছরা ডায়নামিক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, বুধবার সকালে অচেতন অবস্থায় নারী-পুরুষসহ পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখন তাদের অবস্থা স্থিতিশীল এবং তারা সুস্থ আছেন।
মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফদিরা ইয়াসমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। এখনো পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









