মিরসরাই প্রতিনিধি
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ফুঁসে উঠেছে মিরসরাই উপজেলা। বিশেষ করে এই উপজেলার চার ইউনিয়নের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। ফেনী নদীর পানি বিপদ সীমার উপরে চলে আসায় প্রতিটি বসতঘরে পানি উঠে গেছে। অনেক কষ্টে বাড়ি ঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়ের বাড়ি ও আশ্রয়কেন্দ্রে। অনেকে এখনো বাড়িতে আটকা রয়েছেন। অতিরিক্ত পানির কারণে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছেনা। নদীর তীরবর্তি চারটি ইউনিয়নের সকল বাড়িঘর আক্রান্ত হয়েছে। সময় যত যাচ্ছে ততই পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে।
জানা গেছে, টানা ছয়দিনের বৃষ্টি, ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের অলীনগর, জয়পুর পূর্বজোয়ার, পশ্চিম জোয়ার, কাটাগাং, বৈরয়া, ছত্তরুয়া, আমলীঘাট, হিঙ্গুলী ইউনিয়ন, বারইয়ারহাট পৌরসভা, জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন, ধুম ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, ওচমানপুর ইউনিয়ন, ইছাখালী ইউনিয়ন, মিরসরাই পৌরসভা, কাটাছরা, দুর্গাপুর, মিঠানালা, খৈয়াছড়া, ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বন্যার দেখা দিয়েছে। পানিতে ডুবে বৃহস্পতিবার পুরোদিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে গাড়ি চলাচল বন্ধ ছিল। ঢাকামুখী লেনে উল্টোপথে কিছু গাড়ি চলাচল করার কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
করেরহাট এলাকার বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেন, শুভপুর এলাকায় আমার বোন-ভাগিনারা আটকে রয়েছে। পানির স্রোতের কারণে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ছোট দুইটি ভাগিনার দুই দিন ধরে গায়ে জ¦র। কীভাবে তাদের নিয়ে আসবো বুঝতেছিনা।
আবু সাঈদ তুহিন বলেন, আমার শশুর বাড়িতে এক তলা পানিতে ডুবে গেছে। শ^শুরের পরিবার এখন একটি মসজিদের দোতলায় আশ্রয় নিয়েছে।
বৃস্পতিবার দিনভর পানিতে নিমজ্জিত এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে দেখা গেছে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের।
স্বেচ্ছাসেবক হাজী আবদুল মতিন জানান, পশ্চিম জোয়ার ও আজমনগর গ্রামের পানিবন্ধী মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে মহামায়া লেক থেকে বোট নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মোবাররকঘোনা এলাকার মাইনুল ইসলাম বলেন, আমাদের যেভাবে হোক বাঁচান। ফেনী নদীর পানিতে পুরো এলাকার অবস্থা করুণ। রাস্তাঘাট কিছু দেখা যাচ্ছে না। বোট ছাড়া এখান থেকে যাওয়া যাবে না।
এদিকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন বিএনপি, জামায়াত ইসলামীসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। মিরসরাই পৌরসভায় ত্রান বিতরণ করেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, পৌর জামায়াতের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। করেরহাটে ত্রাণ বিতরণ করেছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ওমর শরীফ।
উপজেলা জামায়াতের আমীর নুরুল কবির জানান, জামায়াত ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছে এবং দলের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী ও সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন জানান, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীরা বন্যাকবলিত মানুষকে উদ্ধারে কাজ করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়নে মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজা জেরিন বলেন, মিরসরাই উপজেলার সব ইউনিয়ন আক্রান্ত হয়েছে। তবে চারটি ইউনিয়নের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। আমরা বোট পাঠিয়ে বিভিন্ন উপায়ে অনেক মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে আনা হয়েছে। এসব পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। তাদের দেখভালে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ৭৯ টি আশ্রয় কেন্দ্রসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়কে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে খোলা রাখা হয়েছে।







