মিরসরাই প্রতিনিধি
শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতনী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। দুর্গোৎসবকে ঘিরে সনাতনী সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে ইতোমধ্যে আনন্দের জোয়ার বইতে শুরু করছে। উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে আর মাত্র কয়েকদিন পরে সারাদেশের ন্যায় মিরসরাই উপজেলায়ও ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসব। এ দুর্গোৎসবকে ঘিরে পাড়া-মহল্লায় চলছে সাজ সাজ রব। পূজার আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিতে পূজারী থেকে শুরু করে ব্যস্ত সময় পার করছে প্রতিমা শিল্পীরাও।
মিরসরাই উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, প্রতিবারের ন্যায় এবারও স্বাড়ম্বরে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের শেষ সময়ের প্রস্তুতি চলছে। এবার উপজেলায় ৯০টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। যার মধ্যে ৫ টি ঘট পূজা (প্রতিমাবিহীন) হবে। পূজা মন্ডপগুলোকে দুইভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে ৫০ টি পূজা মন্ডপের দায়িত্বে থাকবেন জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ বাকি ৪০ টি মিরসরাই থানা পুলিশের দায়িত্বে।
উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা শিল্পীরা নির্ঘুম রাত এক করে কাজ করছে। ঠিক সময়ে খাওয়াদাওয়া করার সময়ও নেই। রাতদিন এক করে শুধুই কাজ চলছে।
ফরিদপুর থেকে মিরসরাইয়ে প্রতিমা তৈরি করতে আসা সজিব রায় বলেন, আমরা এবার প্রায় ৩৮ টি প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছি। যার মধ্যে মিরসরাইয়ে ২ টি প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছি। প্রতিটি প্রতিমা তৈরিতে আকারভেদে ২৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক হিসেবে নিয়ে থাকি। সবগুলো প্রতিমার কাজ শেষ হয়েছে। কয়েকটি প্রতিমার রংয়ের কাজ বাকী রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহার করা হয় মাটি, খড়, পাট, কাপড়, বাঁশ ও রং ইত্যাদি। কারিগরের সুনিপুণ হাতের কাজে প্রতিমাকে আরো বেশি উজ্জ্বল ও সুন্দর করে তোলে।
মধ্য তালবাড়িয়া সার্বজনীন শ্রী শ্রী রক্ষা কালী বাড়ির মন্দির ও দূর্গা মন্দির (দেবত্ব) কমিটির সভাপতি অভি রায় বলেন, ‘দূর্গাপূজা সার্বজনীন। মিরসরাইয়ের মধ্যে আমাদের পূজাটি সেরা হবে বলে আশা করছি। পূজা উদযাপন কমিটি ও গ্রামের সবার সহযোগিতায় পূজার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। অনুষ্ঠিত হয়েছে একাধিক বৈঠক। পূজা মন্ডপে যেন মাদকমুক্ত থাকে এবং কোন প্রকার অপরাধমূলক কাজ যাতে সংঘটিত না হয় সেই জন্য স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি।
মিরসরাই উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব মোহন দে বলেন, মিরসরাই উপজেলায় ৫টি ঘট পূজাসহ ৯০টি ম-পে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন পূজামন্ডপের সভাপতি-সম্পাদক ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে পূজা উদযাপন পরিষদের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি ভালো আছে। আশা করছি অত্যন্ত সুন্দর এবং সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে পারবো। আগামী ৯ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা।
মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল কাদের ও জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূজা উপলক্ষ্যে প্রতিটি মন্দিরে বসানো হচ্ছে সিসিটিভি। প্রতিটি মন্দিরে থাকবে আনসার ও গ্রাম পুলিশ। এছাড়াও পুলিশের বিশেষ টিম টহলে থাকবে।
তারা আরও বলেন, আশা করছি অত্যন্ত সুন্দরভাবে এবার পূজা সম্পন্ন হবে। এবার মিরসরাইয়ের ৯০ টি মন্দিরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। যার ৫০ টির দায়িত্বে থাকবে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ বাকি ৪০ টির দায়িত্বে মিরসরাই থানা পুলিশ।








