এই সময়টাতে সপ্তাহের দুই তিনদিন খাদ্য তালিকায় অন্য কোনো সবজি থাক বা না থাক মিষ্টি কুমড়া থাকবেই। ছোটবড় অনেকের পছন্দের সবজি মিষ্টি কুমড়া। এর স্বাস্থ্য উপকারিতাও বেশ। তবে শুধু এই সবজিরই স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে তা কিন্তু নয়, এর বীজও প্রচুর উপকারী। আর আমাদের দেশে এই বীজের জনপ্রিয়তাও আছে। গৃহিণীরা প্রায়ই কুমড়ার বীজ শুকিয়ে সংরক্ষণ করেন। ভর্তা বা অন্য কোনো উপায়ে এই বীজ খাওয়া হয়।
তবে এই সুস্বাদু বীজ খাওয়ার সর্বোত্তম সময় হল সকালের খাবার বা নাস্তার মধ্যে খাওয়া। প্রতিদিনের সালাদের সঙ্গে সুস্বাদু কুমড়ার বীজ যোগ করা যেতে পারে। এছাড়াও বিকালের নাস্তায় ভাজাপোড়া বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে এই বীজ অনন্য। আর বেক করা খাবারেও কুমড়ার বীজ যোগ করা যায় এতে স্বাদ ভালো হয়। নিজেদের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এই বীজের তুলনা হয় না।
চলুন জেনে নিই কুমড়ার বীজের স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো কী কী-
ওজন কমায় : কুমড়া বীজের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে যা ওজন কমায়। অতিরিক্ত চর্বি, ক্যালোরি এবং সোডিয়ামের পরিমাণ কমানোর জন্য কাঁচা, লবণ-হীন বীজ বেছে নেওয়া উচিৎ।
হার্ট ভালো রাখে : কুমড়ার বীজ আমাদের হার্ট ভালো রাখতেও সাহায্য করে। এতে বিদ্যমান ওমেগা থ্রি হার্টের যত্ন নেয়।
ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায় : কুমড়ার বীজে থাকে জিংক, ফাইটোকেমিক্যালস। যা আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। কুমড়ার বীজ হাড় গঠনেও সাহায্য করে। শরীরে ভাল কোলেস্টেরল বাড়িয়ে তুলতেও ভূমিকা রয়েছে কুমড়া বীজের।
রক্তে শর্করা কমায় : টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতেও সাহায্য করে কুমড়ার বীজ।
প্রদাহ কমায় : কুমড়ার বীজ মূল্যবান পুষ্টি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর যা আমাদেরকে ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, আঁশ, স্বাস্থ্যকর চর্বির যোগান দেয়। আর প্রদাহ কমায়।
অবসাদ দূর করে : কুমড়ার বীজে রয়েছে ট্রিপ্টোফ্যান নামের অ্যামাইনো অ্যাসিড যা সুখানুভূতি সৃষ্টিকারী হরমোনের নিঃসরণে সহায়তা করে এবং একই সঙ্গে মেলাটোনিন আর সেরোটোনিন নিঃসৃত হতে সহায়তা করে যা অবসাদ কাটিয়ে শরীর, মন তরতাজা করে তুলতে সাহায্য করে।
ঘুম ভালো হয় : আমাদের শরীরে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ট্রিপটোফ্যান পেতে ২০০ গ্রাম কুমড়ার বীজ প্রয়োজন। এছাড়াও, এই বীজগুলোতে রয়েছে জিঙ্ক যা ট্রিপটোফেনকে সেরোটোনিনে রূপান্তরিত করে। যা আবার মেলাটোনিন হরমনে পরিবর্তিত হয়। এই হরমোন ঘুমের চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে।
ত্বক ভালো রাখে : কুমড়ার বীজ ভিটামিন ই এবং ক্যারোটিনয়েডের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, যা ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে কোলাজেনকে উদ্দীপিত করতে সহায়তা করে।
চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে : কুমড়ার বীজ ত্বকের পাশাপাশি চুলের জন্যও উপকারী। এতে কিউকারবিটাসিন নামক একটি যৌগ রয়েছে, যা চুলের বৃদ্ধিকারক এক ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড। এছাড়াও এতে রয়েছে অন্যান্য পুষ্টি উপাদান যা চুলকে শক্তিশালী ও চকচকে রাখতে সাহায্য করে।








