বরিশাল: বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি শান্ত করতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শূচিতা শরমিন।
তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীরা যদি মুচলেকা দেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) প্রত্যাহার করা হবে।
রোববার (৪ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামকে অপসারণ করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে নতুন রেজিস্ট্রার নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলেও জানান উপাচার্য।
এ সময় তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর আলোকে ঢাকায় অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ক্যাম্পাসের শান্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুহসিন উদ্দীনকে সিন্ডিকেট ও কাউন্সিলে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
এছাড়াও, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন, এবং ক্যান্সার আক্রান্ত শিক্ষার্থী জেবুন্নেছা হক জিমির মৃত্যুর ঘটনাও গুরুত্ব সহকারে দেখছে প্রশাসন।
অন্যদিকে, উপাচার্যের বক্তব্যের আড়াই ঘণ্টার ব্যবধানে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক শূচিতা শরমিনের অপসারণের এক দফা দাবি তোলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলেন, উপাচার্য শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি বরাবরই অগ্রাহ্য করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও জিডি করেছেন।
তারা অভিযোগ করেন, ক্যান্সার আক্রান্ত শিক্ষার্থীর আর্থিক সহায়তার আবেদন উপাচার্য স্বাক্ষর না করায় সময়মতো সহায়তা মেলেনি। ফলে তার মৃত্যু নিয়ে প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার বিষয়েও ক্ষোভ জানান শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলন শেষে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন এবং ভিসি অপসারণ স্লোগানে মুখরিত করেন ক্যাম্পাস।
প্রসঙ্গত, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামের অপসারণসহ চার দফা দাবিতে দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা, জিডি এবং দমনমূলক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।







