কথাটি কিছুটা সত্য। মুসলিম ছেলেরা হিন্দু মেয়েদেরকে পছন্দ করে। তবে এই স্বভাবটা আমাদের ভারত উপমহাদেশে বেশী দেখা যায়। বাঙ্গালীদের মধ্যে এই স্বভাবটা আরেকটু বেশী। এর পেছনে একটি যৌক্তিক কারন আছে। মজার ব্যাপার, এই বিষয়েও কোরআনের আয়াত থেকে উত্তর পাওয়া যায়।
- নিশ্চয় আমি হূরদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করব। অতঃপর তাদেরকে বানাব কুমারী, সোহাগিনী ও সমবয়সী। (সুরা ওয়াকিয়াহ – ৩৫, ৩৬,৩৭)
কোরআনের আয়াতের ওই কথাটি লক্ষ্যনীয় – সোহাগিনী (عروبة) উরুবান। এই সোহাগিনী কথাটির কোন সঠিক সংজ্ঞা হয় না। বাংলা, হিন্দী উভয় ভাষাতেই এই কথাটি আছে। সবাই সোহাগিনী চেনে। কিন্তু কতটুকু কি থাকলে তাকে সোহাগিনী বলবে, সেটার কোন সঠিক নিয়ম নেই।
সাধারন হিসাবে, সোহাগিনী হলো এমন একজন নারী, যে তার জন্য নির্দিষ্ট পুরুষের জন্য প্রেমময়ী। তাকে দেখলেই পুরুষের হৃদয় আনন্দিত হবে। তাছাড়া, তার পোশাক ও সাজসজ্জার অনেক বেশী নারীসুলভ হতে হবে। সেই সাথে তার আচরন হতে হবে কোমল ও লাজুক প্রকৃতির।
উপরে, সোহাগিনীর যে বর্ননা দিলাম, সেটা ভালোভাবে মিলিয়ে দেখুন। আমরা গল্প-উপন্যাসে বা নাটক-সিনেমায় যে আদর্শ প্রেমময়ী ভারতীয় নারীর চিত্র দেখি। শাড়ীর আঁচল উড়ে, এলোমেলো চুলে বাতাস লাগে, শাড়ীর আঁচলে মুখের সামান্য অংশ ঢাকে। এগুলোই আমাদের কাছে, সোহাগিনী।
এটাই হলো, ভারতবর্ষের মুসলিম ছেলেদের হিন্দু মেয়ে পছন্দ করার কারন। হিন্দু মেয়েরা তাদের পোশাক, সাজসজ্জা, ও আচরনের মাধ্যমে, অনেক বেশী আদর্শ ভারতীয় নারীর মতন দেখতে হয়ে ওঠে। তেমন আদর্শ ভারতীয় নারীর মতন দেখতে হবার কারনে, এই অঞ্চলের মুসলিম পুরুষের কাছে, সেই হিন্দু নারীকে প্রেমময় বা সোহাগিনী মনে হয়। তাকে অনেক বেশী ভালো লাগে।
এতক্ষন যা লিখেছি, সেটার বাস্তব উদাহরন দেখুন, নীচের এই ছবিতে। একই নারী, একবার ভারতীয় পোশাকে, আরেকবার পশ্চিমা পোশাক। কোনটা দেখে তাকে পেতে ইচ্ছা করে? কোনটা দেখে প্রেমময়ী বা সোহাগিনী মনে হয়?
সতর্কতাঃ আমি আকর্ষনের কারন বর্ননা করেছি। কিন্তু, মুসলিম ছেলেকে হিন্দু মেয়েদের সাথে সম্পর্কে জড়াতে উতসাহ দেইনি। প্রায় সকল পাপ কাজই আকর্ষনীয় ও উপভোগ্য হয়। তাই বলে, পাপ করা যাবে না।







