মাসুদুর রহমান,জামালপুর প্রতিনিধি : জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতেই আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে সরিষাবাড়ী পৌরসভায় রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সরিষাবাড়ি উপজেলা বিএনপির সন্মানিত সদস্য , উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্ববায়ক মো: রুহুল আমিন সেলিম (বেলজিয়াম সেলিম) জনপ্রিয়তার আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তিনি ইতোমধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গেও তার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। দলের দু:সময়ে বিরোধী দলে সাহসী ভূমিকা নিয়ে সকলের মাঝে তিনি নিজেকে যোগ্য হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পাশাপাশি সরিষাবাড়ি সাধারন মানুষের অভিবাবক জনপ্রিয়তা ও আস্থার জায়গা জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম এমপির নেতৃত্বের সাথে কাজ করেছেন। মো: রুহুল আমিন সেলিম ( বেলজিয়াম সেলিম )সরিষাবাড়ি উপজেলার সভাপতি আলহ্বাজ আজিম উদ্দিন এর ভাতিজা।
জানা যায়, সাতপোয়া, চর ধানাটা, বীর ধানাটা(১ নং ওয়ার্ড),
আরামনগর, আরামনগর বাজার, সামর্থবাড়ী, ঝালুপাড়া, ভূরারবাড়ী, বাকা রৌহা(২নং ওয়ার্ড), বলার দিয়ার, মূলবাড়ী(৩নং ওয়ার্ড),শিমলা গোপীনাথ, শিমলা রঘুনাথ, বিল শিমলা(৪নং ওয়ার্ড), কামরাবাদ, শিমলা পল্লী(৫নং ওয়ার্ড), কোনাবাড়ী, মাইজাবাড়ী, শিমলা চাদ, দিয়ারকৃষ্ণাই, চক হাটবাড়ী, কাঠিয়ার বাড়ী(৬নং ওয়ার্ড), বাংগালী পাড়া, ইজারাপাড়া(৭নং ওয়ার্ড), বাউসী, চৌখা (আংশিক)(৮নং ওয়ার্ড), গজারিয়া, বাউসী চন্দনপুর, চক বাংগালী, নাওগোলা, চর বাংগালী(৯নং ওয়ার্ড) নিয়ে জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভা। ১৯৯০ সালে এ পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হয়। জামালপুর জেলার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পৌর এলাকা, যার রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহ্য এবং অর্থনৈতিক গুরুত্ব। এটি মূলত ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি এবং শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। সরিষাবাড়ীতে এক সময় ২২টি পাটের কুঠি ছিল এবং হাজার হাজার শ্রমিক পাটশিল্পে কর্মরত ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনামলে এই অঞ্চলে পাটের বিশাল বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল, যা ধীরে ধীরে হ্রাস পেয়েছে।সড়কপথের পাশাপাশি নদীপথে যোগাযোগ সুবিধা রয়েছে। পৌরসভাটি যমুনা নদীর পাশেই অবস্থিত, যা অতীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পৌরসভার রাস্তা-ঘাট, পানি সরবরাহ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের জন্য স্থানীয় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
রাজনৈতিক সুত্রে জানা যায়, স্কুল জীবনে থেকেই ছাত্ররাজনীতিতে জড়িয়ে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে হরতাল মিছিল ,পিকেটিং সহ সকল আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন । ১৯৯১ সালে সরিষাবাড়ি রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার কলেজের ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ভুমিকা রাখেন। ৯৬ সালের অপারেশন ক্লিন হার্ট অভিযানে আর্মীদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন ও জেল হাজতে ছিলেন। আওয়ামী নির্যাতনে বাধ্য হয়ে তিনি দেশ ত্যাগ করেন। ৯৭ বিদেশ চলে গিয়েও বিদেশে বেলজিয়াম বিএনপির সাথে কাজ করেছেন যুগ্ম সাংগঠনিক পদে থেকে। সেখানেও আওয়ামী বিরোধী সমাবেশ , মানববন্ধন কর্মকান্ডে সে ভুমিকা রাখেন। দেশে ফিরে আওয়ামীলীগের দ্বারা যত হামলা সে নিজ দলের পক্ষে নেতকর্মীদের পাশে দাড়িয়ে সাহসী ভুমিকা পালন করেছেন। ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্বপ্ননীল পার্ক ও সেলিম ব্রিকসে হয়েছে একাধিকবার হামলা। মামলা-হামলা উপেক্ষা করে তিনি বর্তমান সংসদ সদস্য ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম এর ও মাঠের কর্মীদের পাশে ঢাল হিসেবে পাশে কাজ করেছেন । দলকে সংগঠিত করা, দলকে শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তিনি ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে অনেকেই জানান, রাজনীতির পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা, সামাজিক কার্যক্রম ও মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার কারণে ইতিমধ্যে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও মনে করেন, সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করে বিজয়ী হতে সক্ষম হবেন। তাদের ভাষ্য, মাঠ পর্যায়ে তার জনপ্রিয়তা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা তাকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রেখেছে। অনেকেই তাকে আগামী দিনে সরিষাবাড়ি পৌরসভার উন্নয়নে কার্যকর নেতৃত্ব দিতে সক্ষম বলে মত প্রকাশ করছেন। এদিকে নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদ , মাদ্রাসা, এতিমখানা , পূজা মন্ডব ,শতশত দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ,বন্যায় ত্রান , অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী উপহার, শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ,বৃক্ষরোপণ ও বিতরণসহ নানারকম সেবামূলক কাজ করে আসছে মেয়র প্রার্থী ফলে পৌর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তার একটা নিজস্ব ব্যক্তি ইমেজ তৈরী হয়েছে।পৌরবাসীর অভিমত এসব বিবেচনায় রুহুল আমিন সেলিম প্রার্থী হলে তারই বিজয়ী হবার উজ্জল সম্ভবনা রয়েছে। তাকে একজন শক্ত ও জনপ্রিয় প্রার্থী বলে বিবেচনা করছে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। পৌরবাসীর কাছে ক্লিনম্যান , সমাজ সেবক , উদার ,নিবেদিত রাজনীতিবিদ হিসেবে দলমত নির্বিশেষে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।
পৌরবাসীর দোয়া ও সমর্থন চেয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মো: রুহুল আমিন সেলিম বলেন,
নিজেকে দূর্নীতি মুক্ত রেখে উন্নয়ন , বেকার সমস্যা , দরিদ্র জন গোষ্ঠির পাশে থেকে জনগনের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই। জননেতা এমপি ফরিদুল কবীর শামীম তালুকদারের হাতকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষে সবাইকে নিয়ে এক সাথে কাজ করতে চাই। সরিষাবাড়ীর পৌরবাসীর পাশে আগেও ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।সরিষাবাড়ী পৌরসভাকে আধুনিক শহরে রূপান্তরিত করা হবে। এতে সকল এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
Post Views: 184
Related