জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে শারমিন সুপ্তি (১৩) নামে এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে । নিহত শারমিন সুপ্তি উপজেলার গাড়োডোবা আলিম মাদরাসার ৭ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী। তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তারাকান্দি পুলিশ কেন্দ্রের এসআই আমজাদ সাংবাদিক মাসুদুর রহমানকে বাধা দিয়ে গলায় দাগের চিহ্নের ছবিটি তুলতে নিষেধ করেন । এদিকে বুধবার (৪অক্টোবর) পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে সরিষাবাড়ী থানায় নিয়ে আসে।
জানা গেছে, ২০০৪ সালে ১৭ নভেম্বর পঞ্চাশী এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে শাহাদাৎ হোসেনের সাথে গাড়োডোবা গ্রামের বদিউজ্জামান এর মেয়ে বেদনা আক্তারের সাথে বিবাহ হয়। বিবাহের পর শাহাদাৎ দেশের বাহিরে চলে যায়। এরপর তার আয়ের টাকা তার স্ত্রীর কাছে পাঠায়। গত ২০১৯ সালে শেষের দিকে বেদনা আক্তার তার স্বামী শাহাদাৎ হোসেনকে তালাক দিয়ে তার সকল অর্থ আত্মসাৎ করে মেয়েকে তার কাছে রেখে দেন। সম্প্রতি নিহত সুপ্তির মা ও নানার পরিবার সুপ্তিকে বিবাহ দেন। বিবাহের পর সুপ্তি স্বামীর বাড়ীতে যেতে না চাইলে সুপ্তিকে বিভিন্ন শারীরিক নির্যাতন করতেন বেদনা ও তার পরিবার। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬ টায় সুপ্তি তার নানার বাড়ীতে মারা যায়। নানার পরিবার রাতেই দাফনের প্রস্তুতি নেয়। সংবাদ পেয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ ভোর রাত ৩ টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে বুধবার (৪ অক্টোবর) দুপুর ১২ টায় দৈনিক জনবাণী পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মাসুদুর রহমান তথ্য করতে গেলে গলার দু পাশেই কয়েকটি দাগ দেখে ছবি তুলতে গেলে তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আমজাদ হোসেন ছবি তুলতে বাধা প্রদান করেন।
এদিকে মেয়ের বাবা শাহাদাৎ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমার সম্পত্তির লোভে ওরা আমার মেয়েকে মেরে ফেলছে। আমি বিদেশ ছিলাম ৮ বছর। দুবাইতে ৫ বছর ও সৌদিতে ৩ ছিলাম। আমার সম্পুর্ন টাকা ওরা আত্মসাৎ করে বিদেশ থেকে আসার ৬ মাস আগেই আমাকে তালাক দিয়ে মেয়ে নিয়ে চলে গেছে। মেয়েটা ওদের কাছেই ছিল। আমি মেয়েকে বার বার নেওয়ার জন্য গিয়েছি ওরা আমার মেয়েকে দিবে না। মেয়েকে দিলে তাইলে আমার ইনকামের সম্পুর্ণ টাকা দিতে হবে বলে ওরা দেয়নি আমাকে। স্বার্থের লোভে, অর্থের লোভে ওরা শেষ পর্যন্ত আমার মেয়ে গলা টিপে অথবা গলায় রশি পেচিয়ে অথবা গামছা পেচিয়ে হত্যা করেছে। আমার অভিভাবকদের কাছে আমার মেয়ে বলেছিল তাকে অত্যাচার করে। সুপ্তির দাদা বলেন,আমরা জানিনা সুপ্তিকে বিয়ে দিছে। আমরা শুনেছি। আমার কাছে সুপ্তি এর আগে বলেছিল দাদা আমাকে ওরা টর্চার করে। পরে আমি আমার নাম্বার দিয়ে দিছিলাম কোন সমস্যা হলে আমাকে জানাবে।
এদিকে দৈনিক জনবাণী ও দৈনিক ঢাকার এবং আলোচিত জামালপুর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মাসুদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, তথ্য সংগ্রহ করতে দুপুরে নিহতের নানার বাড়ী গাড়োডোবাতে যাই। হঠাৎ গলার দু পাশেই দাগ দেখতে পায়। পরে সেই দাগের ছবিটি তুলতে গেলে তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আমজাদ সাহেব তথ্য সংগ্রহে বাধা দেয়। বলে টিউবওয়েল থেকে পড়ে গিয়ে মারা গেছে। আপনারা আগে আসলেন না। ছবি তুলা লাগবে না।
এদিকে এই বিষয়টি নিয়ে তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আমজাদ বলেন, মেয়েটি নাবালক ছিল। ভাল মেয়ে। ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত এবং সামাজিক ও পারিবারিক ভাবে ভাল ভাবে চলাচল করত। গতকাল মাগরিবের নামাজ আদায় করার জন্য অযু করতে যায় টিউবওয়েলে। আসতে দেরি হলে তার নানি বাহিরে গিয়ে দেখে সুপ্তি টিউবওয়েলে নিচে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে বলে প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া যায়। মেয়েটার মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য ময়না তদন্ত করা হবে। দুই পাশে দাগের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, এটা পুরাতন কালো দাগ। পরে তাকে তথ্য সংগ্রহে বাধা সৃষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এডিয়ে যান।
তবে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ মহব্বত কবীর জানান, ভোর রাত ৩ টার সময় সংবাদ পায় একটি মেয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন। পরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ সুরতহাল করি। তার বাবা মৃত্যু বিষয়ে সন্দেহ পোশন করায় আমরা লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছি। ময়না তদন্তের জন্য জামালপুর প্রেরণ করা হবে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ইতিমধ্যে মেয়েটির বাবা একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সাথে আমাদের সম্পর্ক সব সময় ভাল। তথ্য সংগ্রহে কোন বাধা নেই। তারা আমাদের সহযোগিতা করে আমরাও তাদের সহযোগিতা করি। এটা কোন ভুল বুঝাবুঝি হতে পারে। আমি এটা উডিয়ে দিচ্ছি না। বিষয়টি আমি দেখব।
Post Views: 414
Related