বুধবার (১৪ মে)বেলা ১২ টায় মোরেলগঞ্জ সরকারি সিরাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজের ২ শতাধিক শিক্ষার্থী নব্বইরশি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়কে অবস্থান নেন মোরেলগঞ্জ -শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ করে। এ সময় তাদের দাবির স্বপক্ষে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেন্যু ফিরিয়ে আনার জন্য স্লোগান দিতে থাকে।
প্রায় দেড় ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ করায় রাস্তার দুপাশে শত শত যাত্রীবাহী বাস ও অন্যান্য পরিবহন আটকা পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। তবে জরুরী সেবা প্রদানকারী পরিবহন, এম্বুলেন্স ও পুলিশের গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করে দেয় ভিক্ষোভ কারীরা।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রতিদিন মোরেলগঞ্জ থেকে শরণখোলায় গিয়ে পরীক্ষা দেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর ও সময়সাপেক্ষ। বর্ষাকালীন প্রতিকূল আবহাওয়া, নদীপথে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত এবং আর্থিক অসচ্ছলতা তাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মোরেলগঞ্জে এতগুলো কলেজ থাকা সত্ত্বেও কেন পরীক্ষা কেন্দ্র সরিয়ে নেওয়া হলো, তা আমরা বুঝতে পারছি না। আগের মতো এবারও পরীক্ষা কেন্দ্র মোরেলগঞ্জেই চাই।”
শিক্ষার্থীরা বলেন, যুগ যুগ ধরে মোরেলগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষা চলে আসছে, এখন কেন এ কেন্দ্রের ভেন্যু অন্য একটি উপজেলায় স্থানান্তরিত করা হবে? মোরেলগঞ্জ থেকে শরণখোলা দূরত্ব প্রায় ২৮ কিলোমিটার, মোরেলগঞ্জের অনেক ইউনিয়নের পরীক্ষার্থীরা গ্রাম থেকে মোরেলগঞ্জে আসতে প্রায় এক ঘন্টা সময় লাগে এরপর মোরেলগঞ্জ থেকে শরণখোলা যেতে আরও একঘন্টা সময় লাগবে, এতে করে পরীক্ষার্থীদের নানা রকম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হবে, তাই বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের নিকট দাবি জানান মোরেলগঞ্জে পরীক্ষার্থীরা যেন মোরেলগঞ্জেই পরীক্ষা দিতে পারে।বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন ছাত্রদলের সাইমুন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শাহরিয়ার ও আল-আমিন, মিনহাজ, নাবিলা প্রমুখ। শিক্ষার্থীদের বিপুল উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো হলেও, শিক্ষকদের সরাসরি অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়নি।শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে অভিভাবকরাও বলেন, পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীরা এমনিতেই মানসিক চাপে থাকে। এর সঙ্গে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে কেন্দ্রে যাওয়া তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে আরও চাপে ফেলবে। নিরাপত্তা ও সময় ব্যবস্থাপনাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
শিক্ষার্থীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে মোরেলগঞ্জেই পরীক্ষা কেন্দ্র পুনঃনির্ধারণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, শিক্ষা বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।
মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে
মোরেলগঞ্জে থানা অফিসার ইনচার্জ মো. রাকিবুল হাসান শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এরপর মোরেলগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করলে তারা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেন।
এ সময় বিএনপি ও জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।####** ছবি সংযুক্ত আছে ** ## **








